| |

মঙ্গল শোভাযাত্রা মুসলমানদের পরোক্ষ হিন্দু বানানোর কৌশল : মুফতী ফয়জুল করীম

প্রকাশিতঃ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ১৩, ২০১৮

Pohela Boishakh

বৈশাখ উদযাপনের আধুনিক সংস্করণকে হিন্দুত্ববাদ গ্রহণের পরোক্ষ কৌশল বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই।

গত মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল’১৮ ইং) মুন্সীগ‌ঞ্জের মীরকা‌দি‌মে অনুষ্ঠিত বিশাল ওয়াজ মাহফিল ও হালকায়ে জিকিরে তিনি এই মন্তব্য করেন। মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, এই যে পহেলা বৈশাখ, বাঙ্গালী জা‌তির প‌হেলা বৈশাখ। এখা‌নে বয়স্ক ও মুরব্বীরা আ‌ছেন।

মাত্র বিশ বৎসর আ‌গে এ দে‌শে কেউ প‌হেলা বৈশাখ উৎযাপন করে‌ছে? ত‌বে হিন্দুরা পূজা পার্বন ক‌রে‌ছে, হালখাতা ক‌রে‌ছে। কিন্তু হঠাৎ করে বাঙ্গালী জা‌তি বাঙ্গালী সংস্কৃ‌তির না‌মে গোটা বাংলা‌দে‌শের আনা‌চে কানা‌চে প‌হেলা বৈশাখ উৎযাপ‌ন করার চর্চা চল‌ছে। এর কারণটা কি? কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এর মূল কারণ হলো- আমা‌দের মূল চেতনা ছি‌লো আ‌মি একজন মুসলমান। এ চেতনা‌কে নস্যাৎ ক‌রে নতুন চেতনা সৃ‌ষ্টি কর‌তে চায় যে, আ‌মি মুসলমান না, আ‌মি বাঙ্গালী। মারাত্মক চেতনা! একটা জা‌তি বা গোষ্ঠীর চেতনা ‌য‌দি এমন ঠিক করা হয়, তাহ‌লে ঐ জা‌তি আর টি‌কে না, ধ্বংস হ‌য়ে যায়।”

তিনি বলেন, “আমরা হলাম মুস‌লিম জা‌তি, কিন্তু এর প‌রিব‌র্তে সৃ‌ষ্টি করা হ‌চ্ছে বাঙ্গালী জা‌তি। বাংলা‌দে‌শের ভূ-খন্ড ভি‌ত্তিক জাতি না। ‌কোলকাতা, আসাম, ত্রিপুরা নি‌য়ে বৃহৎ বাঙ্গালী গোষ্ঠী, যার শতকরা ৮০% ভাগ হিন্দু।” তথাকথিত বাঙ্গালীদের ভাষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা মনে করে “‌আমরা (মুসলমানরা) য‌দি বাঙ্গালী হই তাহ‌লে তোমা‌দের উপ‌রে হিন্দুয়া‌নি সংস্কৃ‌তি চা‌পি‌য়ে দি‌তে সহজ হয়।”

শ্রোতামন্ডলীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “‌আপনারা দেখ‌বেন, প‌হেলা বৈশা‌খে বটমূ‌লে আহবান করা হ‌চ্ছে জ‌ড়ো হ‌তে। বটমূল তো হিন্দু‌দের ৩৩ কো‌টি দেব‌দেবীর একটা। ওখা‌নে হিন্দুরা যা‌বে পূজা কর‌তে। তুমি যাবে কেন? তুমি যাও বাঙ্গালী ব‌লে, আর হিন্দুরা যা‌চ্ছে পূজা কর‌তে।”

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, “এ দি‌নে নানা রঙ আর ডিজাই‌নের পোষাক পর‌বে, আর ওরা যা‌বে ধর্মীয় পোষাক প‌রিধান ক‌রে, সে হিসা‌বে। তারা ‘রা‌খিবন্ধন’ কর‌বে ধর্মীয় আচার হি‌সে‌বে, আর তু‌মি কর‌বে বাঙ্গালী হি‌সে‌বে। ওদের ম‌হিলারা কপা‌লে সিঁদুর দি‌বে ধর্মীয় সংস্কৃতি হি‌সে‌বে, আর তোমরা গা‌লে আল্পনা কর‌বে বৈশাখী সংস্কৃ‌তি হি‌সে‌বে!”

তিনি আরো বলেন, “হজরত ইবরাহীম আঃ এর পিতা মেলায় যেতো মু‌র্তি বিক্রী কর‌তে। অনুরূপ হিন্দুরাও মেলায় যায়। আর মুসলমান! তু‌মি যাবে বাঙ্গালী হিসা‌বে!”

তিনি বলেন, “‌ঢোল, তবলা একতারা, সা‌রিন্দা এগু‌লোর ছ‌বি থা‌কে পোষা‌কে। ও‌হে মুসলমা‌নের বাচ্চা! তোমরা কি ঢোল দ্বারা ইবাদত করো? একতারা দি‌য়ে? সা‌রিন্দা তানপুরা দি‌য়ে? কারা এসব দি‌য়ে উপাসনা ক‌রে? অবশ্যই হিন্দুরা। ওরা হিন্দু হি‌সে‌বে ওটা ক‌রে, আর তু‌মি? বাঙ্গালী হি‌সে‌বে।” তিনি বলেন, “প‌হেলা বৈশা‌খে ভা‌লো ভা‌লো খাওয়া হয়। পান্তা ই‌লিশ খাওয়া হয়। হিন্দুরা খায়, সারা বছর ভা‌লো ভা‌লো খে‌তে পার‌বে সে নিয়‌তে, ও‌দের ধর্মম‌তে। আর তু‌মি খাবে বাঙ্গালী হিসা‌বে। একই পূজা। খুবই কৌশ‌লে তোমা‌কে হিন্দু বানিয়ে ফেল‌ছে।” তিনি বলেন, “মঙ্গল শোভাযাত্রা এটা না‌কি খুব কল্যা‌ণের, বরক‌তের। এ যাত্রায় যারা সম্পৃক্ত হ‌বে তা‌দের আগামী এক বৎসর খুব কল্যাণ হ‌বে।

শোভাযাত্রায় দেখ‌বেন, পেঁচা বা হুতু‌মের ছ‌বি, কু‌মি‌রের ছ‌বি, সর্প, বাঘ বা ফেউচ্চার ছ‌বি। এগুলো সব ও‌দের দেব‌দেবীর প্রতীক, ওগু‌লো নি‌য়ে শোভা যাত্রা কর‌বে। ওরা এটা জীবনভর কর‌ছে ধর্মীয় শোভাযাত্রা হিসা‌বে, আর তোমরা তা কর‌তে‌ছো বাঙ্গালী হি‌সে‌বে।” তিনি বলেন, “ওহে কপাল‌পোড়া মুসলমান, দূর্গাপূজা। শারদীয় দূর্গা পূজা। সে সময় একটা শ্লোগান থা‌কে। “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।”

কই? ঈ‌দের জা‌মাতে তারা তো নামাজ পড়‌তে আ‌সে না। ও‌দের উৎসব গানবাজনার ম‌ধ্যে, আমা‌দের উৎসব না‌মাজের ম‌ধ্যে। আমা‌দের উৎস‌বে আমরা ছোট্ট বাচ্চা‌দের নি‌য়ে ঈদগা‌হে যাই নামাজ পড়‌তে। এ‌তে একটা ভিন্ন আ‌মেজ তৈরী হয়। তোমরা কি আ‌সো এখা‌নে?

আজ পর্যন্ত একজন হিন্দু‌কে দেখলাম না, টু‌পি প‌ড়ে কেউ ঈ‌দের জামা‌তে দাঁ‌ড়ি‌য়ে‌ছে।” তিনি বলেন, “দে‌খেন, কত মারাত্মক শ্লোগান! হিন্দু‌দের দূর্গার সাম‌নে মুসলমান‌দের হা‌জির করার ব্যবস্থা কর‌ছে! হিন্দু‌দের পূজার সময় ও‌দের মা‌ঝে কোন পর্দা থা‌কে না। তাদের দেব‌দেবীর অবস্থাও তো জা‌নেন। সব সমান হ‌য়ে যায়। ও‌দের কা‌ছে এটা এমন কোন বিষয় না। খুলে বলার দরকার নেই। বুঝে নি‌য়েন।

পূজার সময় ও‌দের সুন্দরী মে‌য়েরা বাহারী পোষাক প‌রে। তা‌দের মাধ্য‌মে তোমা‌দের চ‌রিত্র জন‌মের ম‌তো জবাই দেয়ার জন্য অা‌য়োজন থা‌কে।” তিনি বলেন, ‘আয়না’ স্বচ্ছ থা‌কে। সেটার উপ‌রে ফুউফ্! এ রকম ফু দেন। বা‌স্পের কার‌ণে ঘোলা হ‌য়ে গে‌ছে। দেখ‌বেন, আয়নায় কিছু দেখা যায় না।”

“ঈমান খুব স্বচ্ছ। গুনাহর আবরণ পড়ার সা‌থে সা‌থে, মু‌র্তির সাম‌নে যাবার সা‌থে সা‌থে, শির‌কের আবরণ পড়ার সাথে সা‌থে ওর ম‌ধ্যে হিন্দুত্ববাদ তৈরী হয়, না‌স্তিকতা ভর ক‌রে, ক‌মিউ‌নিজম পয়দা হয়, ফ‌লে ইসলাম থে‌কে দূ‌রে স‌রে চ‌লে যায়। এজ‌ন্যে ও‌দের কৌশল হ‌লো, যে প্র‌ক্রিয়ায়ই হোক মুসলমান‌দের‌কে তা‌দের দেব‌দেবীর ওখা‌নে নি‌য়ে আ‌সো, গানবাজনার অনুষ্ঠা‌নে নি‌য়ে আ‌সো। আর এ‌তে অন্ততঃপ‌ক্ষে হিন্দু না হ‌লেও কমপ‌ক্ষে মুসলমা‌নিত্বটা থাক‌বে না।” তিনি বলেন, চলমান কায়দায় পহেলা বৈশাখটা যারা উৎযাপন কর‌বেন তা‌দের প্র‌তি অনু‌রোধ থাক‌বে, মুস‌লিম থে‌কে নামটা কেটে তবেই ঐ পূজায় যাবেন, মুনা‌ফেকী ক‌রবেন না।”

মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তিনি বলেন, “প‌হেলা বৈশাখ‌কে কেন্দ্র ক‌রে কোন মুসলমা‌নের ঘ‌রে এক‌টি ডিমভাজাও হবে না। আজ জ‌ন্মের মত খাও, আ‌গের দিন খাও, প‌রের দিন খাও। আজ পোষাক প‌রো, জন‌মের ম‌তো প‌রো। আ‌গে‌পি‌ছে পরো। প‌হেলা বৈশাখ‌কে উ‌দ্দেশ্য ক‌রে কোন মুসলমা‌নের গা‌য়ের ম‌ধ্যে এক‌টি নতুন জামা উঠ‌তে পা‌রবে না। প‌হেলা বৈশা‌খের ‌শোভা যাত্রায় মুসলমানরা অংশগ্রহন কর‌তে পার‌বে না। “খবরদার!

2000Shares