ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম প্রাকৃতিক সমৃদ্ধশালী দেশ। এদেশে সর্বক্ষেত্রে প্রাকৃতিক সম্পদের প্রাচুর্য্য থাকা সত্ত্বেও শুধু নেতা ও নীতির ব্যর্থতার কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা দিন দিন ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রয়োজন ভালো নেতা ও ভালো নীতির। ভাগ্য পরিবর্তনে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ পাক বলেনÑ নিশ্চয়ই আল্লাহ কোন জাতির ভাগ্য ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না; যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করে। নিম গাছ লাগিয়ে যেমন আমের আশা করা যায় না, তেমনই খারাপ লোককে নির্বাচিত করে দেশ ও জাতির কোনো কল্যাণের আশাও করা যায় না। তিনি বলেন, বিগত সরকারগুলোর শাসনামলে দেশে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকবো ইনশাআল্লাহ।

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদেরকে হাতপাখা প্রতীকে আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করে দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলে মানবতার সার্বিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করুন। আজ ২১ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকেলে নির্বাচনী ইতেহার ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১৬ দফা অগ্রধিকার ভিত্তিক নাগরিক সুবিধার অঙ্গীকার করে দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোখতার হোসেন, মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহসচিব আলহাজ¦ আমীনুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, ইসলামী যুব আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইঞ্জি. শরীফুল ইসলাম, ইশা ছাত্র আন্দোলন-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ প্রমূখ। অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা হবে। শুধু দুর্নীতি-সন্ত্রাস দমন নয়; নির্মূলকরণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে। জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংসদ নির্বাচন পদ্ধতির আমূল সংস্কার করা হবে।

First Past The Post (FPTP) এর পরিবর্তে Proportional Represenation (PR) পদ্ধতি প্রবর্তন করা হবে। দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি ও অনৈতিক পেশার সাথে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হবে। কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলা হবে। খুন, গুম, মিথ্যা ও গায়েবী মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের কবল থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করা হবে। জনগণের বাক-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের সকল স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়; অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হবে। ঘোষিত ইশতেহারে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো সুস্থ এবং সঠিক ধারা সৃষ্টি না হওয়ায় স্বাধীনতা পরবর্তী যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারা দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মানবাধিকারসহ ভোটাধিকার হরণ, অনুৎপাদন, বেকারত্ব, জাতীয় চরিত্র ধ্বংস, সর্বত্র দলীয়করণ, ক্ষমতাসীনদের সম্পদের চরম উন্নয়ন, গণতন্ত্রের নামে দলীয়তন্ত্র ও স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতীয় অনৈক্য ও সংঘাত, রাজনীতির নামে ব্যক্তিস্বার্থ-দলীয়স্বার্থ তথা কায়েমীস্বার্থ প্রতিষ্ঠা, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী বিদেশী রাষ্ট্রের তাবেদারির প্রতিযোগিতা- এই অনৈতিক বিষয়সমূহের চরম উন্নয়ন ঘটিয়ে নীতিহীন ভোগবাদী রাজনীতির কারণেই অদম্য বাঙালি জাতির উন্নয়ন এভাবে ব্যহত হয়েছে। ভুলনীতি, দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষ নেতৃত্বের কারণে আজ আমাদের এই অধঃপতিত অবস্থা। নাগরিকদের জন্য ঘোষিত সুযোগ-সুবিধাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- মানবিক কারণে রিক্সা, ভ্যান ও ঠেলাগাড়ীর লাইসেন্স ফি মওকুফ করা হবে। কৃষকের উৎপাদন খরচ পুষিয়ে নেওয়ার স্বার্থে সার, সেচ ও বীজ অর্ধেক মূল্যে বিতরণ করা হবে।

সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা হবে। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমকে সম্মানজনক ভাতা দেওয়া হবে। মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডাসহ সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবককে সম্মানজনক ভাতা প্রদান করা হবে। বৈদেশিক ঋণ ১৫ বছরের মধ্যে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হবে। বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা হবে। শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নকালীন যাতে পুজি সঞ্চয় করে সাবলম্বী হতে পারে, এ লক্ষ্যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্ট্যুডেন্ট সেভিংস ব্যাংক (SSB) গঠন করা হবে। দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের তা-ব থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য দুর্নীতি ও সন্ত্রাস শুধু দমনই নয়; বরং নির্র্মূলকরণে ৯ দফা কর্মসূচীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- আদর্শ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ার লক্ষ্যে শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। মানুষের নৈতিকতা রক্ষাকল্পে চরিত্রবিধ্বংসী অপসংস্কৃতি বন্ধ করে সুস্থ কল্যাণধর্মী সংস্কৃতি চালু করা হবে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমনমূলক ব্যবস্থাকে যত অল্প সময়ের জন্য সম্ভব একটি অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে সীমিত রেখে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি নির্মূল কৌশলের দিকে বেশি জোর দেওয়া হবে। রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনে প্রস্তাবিত ৫ দফা কর্মসূচীর মধ্যে অন্যতম হলো- রাজনৈতিক শক্তিই জাতীয় জীবনের সকল দিক নিয়ন্ত্রণ করে বলে এ অঙ্গনকে চরিত্রহীন, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও অসৎ নেতৃত্বমুক্ত রাখতে জনমত গড়ে তোলা হবে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করে জাতীয় ঐক্যমত্য গড়ে তোলা হবে। নৈতিক শিক্ষা ও ধর্মীয় অনুশাসন বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আত্মিক পরিশুদ্ধিসহ চিন্তা-বিশ্বাস ও কর্মের পরিশুদ্ধি ঘটানো হবে।

এর মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধ উন্নয়নের একটি আবহ সৃষ্টি করা হবে। অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য কেবল কিছু লোকদেখানো উপরভাসা সংস্কারে আর কাজ হবে না। এজন্য প্রয়োজন গোটা নির্বাচনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন। এক্ষেত্রে নির্বাচনী এলাকার ভিত্তিতে ‘অনেক প্রার্থীর মধ্যে যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে সে জয়ী হবে’ (First Past The Post – FPTP) ব্যবস্থা পরিবর্তন করে ‘সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক’ (Proportional Representation – PR) ব্যবস্থা চালু করে কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনপদ্ধতির আমূল সংস্কার করার জন্য ৫ টি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্মের বিরুদ্ধে যাতে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অথবা রাজনৈতিকভাবে কটুক্তি করতে না পারে সে ব্যাপারে আইন পাশ এবং কটুক্তিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান করার অঙ্গীকার, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে ১৬ দফার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হবে, সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে নির্বাচন সুষ্ঠু প্রমাণিত না হলে নির্বাচনী ফলাফল বাতিলে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে- মর্মে নির্বাচনী আইন সংযোজিত করা হবে। ২. সৎ ও যোগ্য কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল প্রার্থীগণ যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেনÑ এজন্য নির্বাচনী ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে জামানত এবং সিডি ক্রয় বাবদ সর্বোচ্চ ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকার মধ্যে সীমিত রাখা হবে। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে একক পোস্টারে সকল প্রার্থীর নাম, দলের নাম ও মার্কা সম্বলিত পোস্টার ছাপানো এবং একই মঞ্চে যৌথভাবে জনসভার ব্যবস্থা করা হবে। পোস্টারে নাম এবং বক্তব্যের ক্রম বিন্যাস নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী স্ব-স্ব দলের ক্রমানুযায়ী সাজানো হবে। এভাবে ব্যানার, ফেস্টুনও করা হবে।

এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় স্ব স্ব দল থেকে গ্রহণ করা হবে। ৩. বাংলাদেশে বিগত দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় সরকারের চেয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন তুলনামূলভাবে সুষ্ঠু হয়েছে বিধায় অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষি বিপ্লব ও কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকার করার ১৫ দফার উল্লেখযোগ্য হলো-অনাবাদী, খাসজমি দরিদ্র কৃষকদেরকে সহজশর্তে বরাদ্দ দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাভিত্তিক কৃষিপণ্য উৎপাদন জোন প্রতিষ্ঠা করে কৃষিনির্ভর শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে। উৎপাদিত কৃষিপণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রয়ের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষিবান্ধব আমদানী নীতি প্রণয়ন করা হবে। কৃষকদেরকে সম্মানিত নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। আলোকিত ও সুসভ্য জাতি হিসেবে বিশ্বে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ৮ দফা অঙ্গীকারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ১. সৎ চরিত্রবান, দক্ষ ও আদর্শ নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নৈতিক মূল্যবোধ ও ধর্মীয় আদর্শের আলোকে ঢেলে সাজানো হবে এবং দেশের সকল নাগরিকের জন্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ২. দরিদ্র, অসহায়, ইয়াতীম ও প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়েদের জন্যে সকল ক্ষেত্রে অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ দেয়া হবে এবং তাদের জন্যে উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করা হবে। ৩. নিবন্ধনকৃত বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এমপিওভুক্ত করা হবে।

৪. মেয়েদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সকল প্রকার হয়রানী ও প্রতিবন্ধকতা দূর করার লক্ষ্যে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সর্বত্র মেয়েদের জন্যে আলাদা ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে এবং তাদের আলাদা পাঠদানে পর্যাপ্ত নারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। ৫. কওমী মাদরাসাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রতিটি উপজেলায় উচ্চতর কওমী দীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। শিক্ষকদেরকে দেশগঠন ও উন্নয়নের মূল শ্রোতধারায় সম্পৃক্ত করার জন্যে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। কওমী মাদরাসা শিক্ষার মৌলিক বৈশিষ্ট্য ঠিক রেখে সিলেবাসকে যুগোপযোগী ও অভিন্ন করা হবে। কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন ও ভিক্ষুক পুনর্বাসনে শিক্ষিত এবং স্বল্পশিক্ষিত বেকার জনশক্তিকে রাষ্টীয় ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ প্রদান করে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচিকে আরো কার্যকরী ও ব্যাপকতর করা হবে। এর সাথে ‘শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য’ কর্মসূচিও চালু করা হবে। বিকলাঙ্গ ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন করা হবে এবং কর্মক্ষম ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্য বিষয়ে বলা হয়েছে- ইউনিয়ন পর্যায়ে উন্নত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করে এমবিবিএস ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে পরিচালনা করা হবে। বিকল্প চিকিৎসাপদ্ধতি যথা- হোমিওপ্যাথী, আয়ুর্বেদিক, ইউনানী বা কবিরাজী চিকিৎসা বিজ্ঞানকে আরও উন্নত ও মানসম্মত করা হবে। অর্থনীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে- যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করে দেশ থেকে দারিদ্য দূর করা হবে। বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের দেশে অর্থ প্রেরণে উৎসাহিত ও সহজতর করা হবে। আইন ও বিচার সম্পর্কে ৮ অঙ্গীকারে বলা হয়েছে- “রাষ্ট্রের কর্ণধার থেকে শুরু করে একজন সাধারণ নাগরিক পর্যন্ত সবাই আইনের চোখে সমান”Ñ খোলাফায়ে রাশেদীনের এমন নীতি অনুসরণ করা হবে।

বিচার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন ও পক্ষপাতহীনভাবে গড়ে তোলা হবে। সকল কালো কানুন বাতিল করা হবে। বিনা বিচারে কাউকে কারাবন্দী করা হবে না এবং সকল বিচারকার্য দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। সেনাবাহিনীকে দেশরক্ষার সাথে দেশের উন্নয়ন কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করা, প্রতিটি উপজেলায় প্রয়োজনীয় গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠাকরে ভূমিহীন, ঠিকানাবিহীন মানুষকে
পুনর্বাসিত করে উপজেলার উন্নয়ন কাজে সম্পৃক্ত করে তাদের আয়ের ব্যবস্থা করে গ্রামীন উন্নয়ন করা হবে। তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য- প্রযুক্তিগত নিত্য-নতুন ধারণার কার্যকরী সমন্বয় সাধন, যথাযথ তথ্য-প্রযুক্তি সার্ভিস নিশ্চত করা হবে। পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ৫ বিষযের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম-মর্যাদা রক্ষা করা, কারো অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা এবং সু-সম্পর্কের ভিত্তিতে সহ-অবস্থানের নীতি গ্রহণ করা হবে। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনা এবং ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দ্বি-পাক্ষিক ও আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান করা হবে। মুসলিম বিশ্বের সংহতি ও উন্নয়নের জন্য নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে। মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার লক্ষ্যে ইসলামী সভ্যতার পুনরুজ্জীবন ও উন্নয়ন, ইসলামী সংস্কৃতির প্রসার ঘটানো, যৌথ সংবাদ সংস্থা, যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যৌথ মুদ্রা এবং মুসলিম জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে- শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে শ্রেণী বৈষম্যহীন ও দারিদ্য্রমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাব্যয়, পরিবহনের ভাড়া, তাদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষার যাবতীয় ব্যয়ভার রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হবে। অমুসলিম নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ৬ দফায় বলা হয়েছে- হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ আপরাপর সকল অমুসলিম সম্প্রদায়ের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধানে কোনরকম বৈষম্য ও শৈথিল্য করা হবে না।

তাদের ধর্মীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক ও মানবিক অধিকার পুরোপুরি সুরক্ষা করা হবে। সকল উপজাতীয় অধিবাসীর স্বতন্ত্র জাতিসত্তার স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তাদের শিক্ষা-সংস্কৃতি ও নিজস্ব ঐতিহ্যকে সুরক্ষা করা হবে। সকল ধর্মের নাগরিকদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ প্রদান করা হবে। নারী অধিকার ও ক্ষমতায়ন সম্পর্কে ৯ দফার উল্লেখযোগ্য হলো- নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। নারী নির্যাতন ও যৌতুকপ্রথা উচ্ছেদে শুধু আইনের যথাযথ প্রয়োগই নয় বরং সামাজিকভাবেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার এবং বাবা-মা ও স্বামীর সম্পত্তিতে নারীর শরীয়তসম্মত উত্তরাধিকার সুনিশ্চিত করা হবে। সন্তানের উপর মায়ের অধিকার ও দায়িত্বানুভূতি জাগিয়ে তোলা হবে।

Facebook Comments