বরিশাল প্রতিনিধি: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও বরিশাল-৫ আসনে হাতপাখার প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর কোন প্রকার ভোট চুরির চেষ্টা করা হলে সচেতন জনতা কঠোর হস্তে দমন করবে। বিগত নির্বাচনগুলোতে যে সুযোগ পেয়েছেন, এবারের নির্বাচন সেগুলোর মতো নয়। সুতরাং এবার কেউ ভোট চুরির কিংবা ভোটকেন্দ্রে গণ্ডগোলের চেষ্টা করবেন না। হাতপাখার কর্মীরা রক্ত ও জীবন উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনীতি রাজারনীতি হলেও এখন সেটা হানাহানি ও দাঙ্গাফাসাদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এর থেকে মানুষ মুক্তি চায়। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, আওয়ামীলীগের অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দও ক্ষমতাসীনদের এহেন হিংস্র আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করছে, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করায় চরম বিস্মিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশাল নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় সর্বশেষ নির্বাচনী জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতী ফয়জুল করীম দক্ষিণাঞ্চল আওয়ামী লীগের অভিভাবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও বিসিসি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনাদের যদি কারচুপি করার ইচ্ছা থাকে তবে আগেই সবাইকে মাঠ ছেড়ে দিতে বলুন। নয়তো মানুষগুলো কষ্ট করে ভোট দিতে এসে ভোট দিতে না পেরে কষ্ট পেয়ে ফিরে যাবে। আত্মসম্মান ও বোধসম্পন্ন লোকেরা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসে না। তিনি আওয়ামী প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি প্রশাসনের লোক ছিলেন, কর্মজীবনে ডাকাতি ঠেকানোই আপনার কাজ ছিলো। ব্যক্তিগতভাবেও আপনি একজন ডিসেন্ট লোক হিসেবে জানি। তাই ক্ষমতায় আসতে চাইলে সুষ্ঠু ভোটগ্রণের মাধ্যমে বৈধভাবে আসুন। ডাকাতদের সাহায্য নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে নির্লজ্জ কাপুরুষের মত ক্ষমতায় এসে সারাজীবন জনতার কাছে ধিকৃত হবেন না।

মুফতী ফয়জুল করীম আরও বলেন, সংবিধান আমাদেরকে রাজনীতি করার এবং নির্বাচন করার অধিকার দিয়েছে। কোন অপশক্তি আমাদের রাজনীতি ও নির্বাচন করার অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। শায়েখে চরমোনাই হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, যারা ভোট ডাকাতির ইচ্ছায় কেন্দ্রে আসবেন তারা ভেবে চিন্তে আসবেন, কঠিন মাশুল গুণতে হবে এবার।

জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা নওমুসলিম আলহাজ্ব ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর উপদেষ্টা সৈয়দ নাছির আহমাদ কাওছার, মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা লুৎফর রহমান প্রমুখ।

Facebook Comments