গাজী আতাউর রহমান : দেশের সর্বোচ্চ আদালত আজ জনতার কাঠগড়ায়। যে আদালত মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল সেই মহামান্য আদালতেরই আমরা আজ বিচার প্রার্থী। বিষয়টি বড়ই হতাশার, বড়ই বেদনার।

আমরা মহামান্য আদালতকে সকল প্রকার বিতর্কের উর্ধে দেখতে চাই। কিন্তু আদালতের ভাবমর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব যাদের; তারা যদি অদূরদর্শী হন, তারা যদি অবিবেচক হন, তারা যদি বাস্তবদর্শী না হন, তারা যদি গণ-মানুষের অনুভুতির প্রতি সংবেদনশীল না হন তাহলে আদালতের ভাবমূর্তিতে অনাকাঙ্খিতভাবে আঘাত লাগে।

গতকাল (২১ এপ্রিল’১৭) রাজধানী ঢাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডাকে যে লাখো জনতার মহা সমাবেশ হলো এটাও কিন্তু মহামান্য আদালতের একটি অদূরদর্শী এবং অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তেরই প্রতিক্রিয়ার বহিঃপ্রকাশ।

এই মানুষগুলো কিন্তু মহামান্য আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যে কারণে তারা আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মূর্তি অপসারণের দাবী জানিয়েছে বিনয়ের সুরে। তারা মূর্তি উচ্ছেদে কোন বে-আইনী প্রক্রিয়া অবলম্বন করেনি।

মহামান্য আদালতের উচিত, আইন মান্যকারী, সুসভ্য, শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোর অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া।

আর যারা মূর্তি রক্ষার পক্ষে বিভিন্ন উস্কানীমূলক কথাবার্তা বলছে, পত্র-পত্রিকায়, টকশোতে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় বয়ান বিবৃতি দিচ্ছে, তারা মূলতঃ গণ-বিচ্ছিন্ন। বাস্তবতা হলো, মূর্তি রক্ষার জন্য তারা সবাই মিলে এক হাজার লোকও ঢাকায় জমায়েত করতে পারবে না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বাস্তবতা উপলব্ধি করেই মূর্তির বিরুদ্ধে তার অবস্থান ঘোষণা করেছেন। এখন প্রধান বিচারপতি আর জল ঘোলা না করুক, দেশবাসী সেটাই চায়।

 

লেখক :

যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

Facebook Comments