| |

ইসি’র কাছে একগাদা অভিযোগ ইসলামী আন্দোলনের

প্রকাশিতঃ ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ | ডিসেম্বর ৩০, ২০১৮

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অভিযোগ করেছে, সারাদেশে ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট না দিতে এবং কেন্দ্রে না যেতে হাতপাখা প্রতীকের নেতাকর্মীদেরকে সরকারি দলের নেতাকর্মীরা হুমকি দিচ্ছে। শনিবার রাতে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে সংগঠনটির যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনের নিকট এই অভিযোগ পত্র জমা দেন।

নির্বাচন কমিশন বরাবর অভিযোগ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সারাদেশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা ও পুলিশ হাতপাখা প্রতীকের পোলিং এজেন্টদের ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। তার দাবি, ইতিমধ্যে বহু নির্বাচনী আসনে সরকারদলীয় লোকেরা হাতপাখার কর্মীদেরকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে, এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা এসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি এবং এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছি।

নির্বাচন কমিশনের কাছে ইসলামী আন্দোলনের দাখিলকৃত অভিযোগ পত্রে যে যে অভিযোগগুলো জমা দেয়া হয়েছে তা নিম্মরূপ- বরিশাল-৫ আসনে শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না দীর্ঘদিন ধরে হাতপাখার কর্মীদের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে এবং চেয়ারম্যানের বড় ভাই মনির সরদারসহ অজ্ঞাতনামা ১০ জন গত ২৮ডিসেম্বর হাতপাখার কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৩ জনকে আহত করে। বগুড়া-১ আসনে গত ২৬ ডিসেম্বর বগুড়া সোনাতলা ও সারিয়াকান্দী থানায় হাতপাখার এক কর্মীকে গত বছরের গায়েবী মামলা দেখিয়ে পুলিশ জেলে পাঠিয়েছে।

নাটোর-৪ আসনে ২৫ তারিখ বড়াইগ্রাম, গুরুদাশপুর থানায় নগর ইউনিয়নের ইসলামী আন্দোলনের এক কর্মীকে মামলা দিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। নীলফামারী-৩ আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের জলঢাকা থানা সভাপতি মাসুদ রানাকে অজ্ঞাত মামলায় জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। জয়পুরহাট-১ আসনের সদর থানায় দোগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জহুরুল ইসলাম হাতপাখার প্রার্থীকে “কেউ যদি হাতপাখার এজেন্ট হয় তাহলে নির্বাচনের পরে তাকে দেখে নিবে” বলে হুমকী দেয়া হচ্ছে। মানিকগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতা ও পুলিশ হাতপাখার পোলিং এজেন্টদের ভোট সেন্টারে না যাওয়ার জন্য বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। শেরপুর-২ আসনে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ হাতপাখার ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ না দিতে চাপ দিচ্ছে। শেরপুর-৩ ঝিনাইগাতি থানার থানশাইল ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের হাতপাখার কর্মী শরীফুদ্দীনকে গত ২৩ ডিসেম্বর পুলিশ মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।

ময়মনসিংহ-২ আসনে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ হাতপাখার ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ না দিতে বারংবার চাপ দিচ্ছে। ময়মনসিংহ-৯ আসনে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ হাতপাখার ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ না দিতে চাপ দিচ্ছে। কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে পুলিশ ও বিজিবি প্রশাসন দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে ও কর্মীদের এজেন্ট না হতে বাড়িতে গিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে। মৌলভিবাজার-৩ আসনে নজরুল ইসলাম নামে এক কর্মীকে শিবির পরিচয়ে পুলিশ আটক করে তার বিরুদ্ধে ভাংচুরের মিথ্যা মামলা দিয়েছে। হবিগঞ্জ-৩ আসনের লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া এলাকার দুটি কেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগে বাধা প্রদান এবং নেতৃবৃন্দের নামের তালিকা করে হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মোঃ সিদ্দিক নামে এক কর্মীকে বিএনপির কর্মী বলে থানা পুলিশ হয়রানী করছে।

ঢাকা-১৯ আসনে সরকারদলীয় লোকেরা হাতপাখার প্রার্থীকে হুমকি দিচ্ছে এবং সেন্টারে না যাওয়ার জন্য বারণ করছে। রাঙ্গামাটি ২৯৯নং সংসদীয় আসনের বাঘাইছড়ি থানার ৩৭নং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাসেল চৌধুরী হাতপাখা কর্মী ফায়জুল ইসলাম ফয়জুল্লাহকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি, মামলা দেয়াসহ হাতপখায় একটি ভোটও পড়বে না বলে হুমকি প্রদান করে। এছাড়াও বরকল থানার কলবুনিয়া এলাকার মো. শামীম হাসান, মোবাইল: ০১৬২৪০৯০৩২৩; মহারাজ, মোবাইল: ০১৮৭৬৫৩৭৩৭৭ এবং কাউখালী থানার মো. শামীম, মোবাইল ০১৫৫৩৬৮৫৯৩১ এই নাম্বার থেকে হাতপাখার কর্মীদের বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে। নোয়াখালী-৪ আসনের ২০নং আন্ডারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হায়দার বকশী।

গত ২৩ ডিসেম্বর (সোমবার) সেই চেয়ারম্যান ইউনিয়নের হাতপাখার কর্মীদের ডেকে নিয়ে কোন স্থানে হাতপাখার কোন ধরণের প্রচারণার কাজ কেউ করলে তার হাত-পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেন। গত ১১ ডিসেম্বর আলী হায়দার বকশীর ছেলে মতিন বকশীর নেতৃতে আন্ডারচর ইউনিয়নের বাংলাবাজার হাতপাখা অফিসে অতর্কিত আক্রমন করে অফিস ভাঙচুর করে তালা লাগিয়ে দেয়। উক্ত প্রতিনিধি দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, উত্তরের সেক্রেটারী মাওলানা আরিফুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম কবির, শেখ ফজলুল করিম মারুফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন।

3535Shares