| |

ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশঃ নীতি পরিবর্তনের পক্ষে গণজোয়ার

প্রকাশিতঃ ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০৭, ২০১৮

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইসলাম দেশ ও‌ মানবতার প্রশ্নে আপোষহীন দেশ প্রেমে উজ্জিবীত  রাজনৈতিক দলের নাম। নেতা নয় নীতির পরিবর্তনে বিশ্বাসী দলটি।

নীতির পরিবর্তনের জন্য ক্ষমতার অংশীদারিত্বকে ছাড় দিতে প্রস্তুত দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মী।

সে হিসেবে যে বা যারা ক্ষমতায় গেলে ইসলামী বিধি বিধান মেনে রাস্ট্র পরিচালনা করতে অঙ্গীকার করবে তাদেরকে নিঃস্বার্থ সমর্থন দিতে প্রস্তুত বলে বিভিন্ন সময়ে আলাপ আলোচনায় ঘোষণা দিয়ে আসছে দলের সাবেক আমীর মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. ও বর্তমান আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করী পীর সাহেব চরমোনাই।

এমন ঘোষণার সাথে একমত হয়ে ইসলামের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকারকারীদের সমর্থন দেয়ার নজিরও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রয়েছে।

পাঠকদের অবগতির জন্য এখানে একটি উদহারন দেয়া যেতে পারে, ২০০১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দোহার নবাবগঞ্জ আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ছিলেন জনাব মিজানুর রহমান মিলন। একই আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি জনাব সালমান এফ রহমান, অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

দুজনই নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করতে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিলন এর দ্বারস্থ হলেন বার বার। তখন মিজানুর রহমান মিলন তাদেরকে স্পষ্ট বলে দিলেন আমাকে আমার দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করতে বলেছে আমি নির্বাচনে অংশ নিবো। আবার দল যদি বলে তবে আমি নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াবো।

মিজানুর রহমান মিলন বিষয়টি কেন্দ্রকে অবহিত করলে কেন্দ্র তাকে নির্বাচনী কাজ করে যেতে নির্দেশ দেয়।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও পীর সাহেব চরমোনাইর সাথে কয়েকবার বিভিন্ন যায়গাতে সাক্ষাত করে অনুরোধ করতে থাকেন মিজানুর রহমান মিলন কে বসানোর জন্য।

একপর্যায় তিনি পীর সাহেব চরমোনাই রহ. ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের কাছে অঙ্গীকার করেন এই বলে যে, তিনি নির্বাচিত হলে পীর সাহেব চরমোনাই রহ.এর ৮ দফার বিষয়ে সংসদে কথা বলবেন এবং ইসলাম বিরোধী কোনো কাজ করবেন না, দুর্নীতি করবেন না।

এমন অঙ্গীকারের কারনে দোহার নবাবগঞ্জ থেকে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী মিজানুর রহমান মিলনকে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বললে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। কিন্ত নির্বাচিত হয়ে জনাব নাজমুল হুদা সে অঙ্গীকার ভুলে গিয়ে পূর্বের মতো চলতে থাকেন। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাথে ইসলামের বিষয়ে অঙ্গীকার করে তা না মেনে প্রতারনা করেছেন।

এই হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নীতির রাজনীতি। মন্ত্রী, এমপি হওয়া মূল নয়, ইসলাম প্রতিষ্ঠা মূল। ইসলামের নামে কোনো প্রতারক যাতে মিষ্টি কথা বলে ইসলামী জনতার সাথে প্রতারনা করতে না পারে সে বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অনেক সতর্ক । কোনো মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে কারো ক্ষমতায় আরোহনের সিড়ি বানাতে দেয়া হবে না।

রাস্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আপোষহীন আওয়াজকে নতুন মাত্রা দেয়া এবং ইসলামের পক্ষে জনগনের সমর্থনের জানান দিতেই ৫ অক্টোবর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বরণকালের বৃহৎ জাতীয় মহা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মহা-সমাবেশের উপস্থিতি দেখে জাতীয় গণমাধ্যম দুই ধরনের মন্তব্য করেছে। একদল লিখেছে-আওয়ামীলীগ বিএনপির চেয়ে বড় মহা-সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

আরেকদল গণমাধ্যম লিখেছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহা-সমাবেশের উপস্থিতি আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দুই মহাসমাবেশে মোট উপস্থিতিকে হার মানিয়েছে।

এখানে তারা উল্লেখ করেছেন, কারো কোনো অর্থে নয় নিজেদের উপার্জিত অর্থ খরচ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান জানান দিতে এখানে এসেছেন।

সংবাদের এক যায়গাতে বলা হয়েছে দেশে ৪০ টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কখনো সংসদে কোনো প্রতিদ্বন্দিতা ছিলো না বা বর্তমানে নেই। ২০০৮ এর নির্বাচনে সকল প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, যে দলের লোকেরা নিজেদের উপার্জিত অর্থ ব্যায় করে জাতীয় মহা-সমাবেশে যোগদান করে আবার সংগঠনের জন্য টাকা দিয়ে যায় তারা ভোট ও দেয়।

সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও ভোট ডাকাতদের অবৈধ প্রভাব প্রতিপত্তির কারনে তাদের ভোট গননায় আসতে দেয়া হয় না। ভোট কেন্দ্রে ব্যালট নেয়ার জন্য টিপসহি দেয়ার পরে এসকল ভোটারের ব্যালটের উপরে আর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

অবৈধ অর্থ বিত্ত আর ক্ষমতাশালীদের কারনে আমীরের কাছ থেকে ন্যায়-নীতির ছবক পাওয়া ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীরা গননায় পিছিয়ে যান।

ইতিহাস সাক্ষী সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অবৈধ অর্থ ও ক্ষমতার দাপট না দেখানো ব্যাতিরেকে কেউ সংসদে যেতে পারেন নি। এমন পন্থা অবলম্বন করে সংসদে যাওয়া বা জামানত রক্ষায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিশ্বাসী নয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চায় সকল দল ও প্রার্থীদের সমান সুযোগ দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়াতে নির্বাচনের মাধ্যমে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করতে।

অবৈধ কোনো পন্থা অনুস্বরন করে ক্ষমতা দখল করলে ইসলামের অনুশাসন পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কিছু লোকের মন্ত্রী, এমপি ও সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করা হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৫ অক্টোবরের মহা-সমাবেশের আহবান ইসলামী নীতি প্রতিষ্ঠার আহবান। এ আহবানকে গ্রামে গঞ্জে অবস্থানরত কৃষক, শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

 

লেখকঃ শহিদুল ইসলাম কবির

সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী কৃষক-মজুর আন্দোলন

1396Shares