| |

ভোট ডাকাতি জেনেও ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনে কেন?

প্রকাশিতঃ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ০১, ২০১৮

২০১৩ এর ৫ জানুয়ারী থেকে সব নির্বাচন ভোট ডাকাতির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা। তাহলে সিটি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের অংশগ্রহণ করে কী লাভ হলো? জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে কী লাভ হবে?

যারা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠিত- হবে এমন প্রত্যাশাই রাখেন না, দীন কায়েমের স্বপ্ন, প্রেরণা যাদের অন্তরে নেই, তাদের নিকট লাভ-লোকসানের হিসাব-নিকাশ পেশ করাই বৃথা।

তবে দীন কায়েমের প্রত্যাশা যাদের হৃদয় জুড়ে। ইসলামী সমাজবিপ্লবের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষা যাদের অন্তরে। যারা ইসলামী রাজনীতিকে ইবাদত জ্ঞান করে থাকেন। তাদের নিকট নির্বাচনে অংশগ্রহণের যেসব উপকার তার ফিরিস্তি দীর্ঘ।

যারা ইসলামী বিপ্লবপ্রত্যাশী তাদেরকে বিষয়টি এভাবে বুঝতে হবে যে, নির্বাচনে না গিয়ে বাংলাদেশের ভৌগলিক প্রেক্ষাপটে অন্য কোন পথ নেই। কারণ, ইসলামী বিপ্লবের জন্য যে জনগোষ্ঠীর সংগ্রামে অংশ নেয়া দরকার, তারা এখনো পর্যন্ত ধান-নৌকা বাদ দিয়ে হাতপাখায় সীল মারবে এ মানসিকতাও লালন করে না। তারা কি বাংলাদেশের সেনাবাহীনি, বি.জি.বি. র‍্যাব, আনসারদের মোকাবেলায় লড়াই করবে? উত্তর হবে না। তাহলে কোন পদ্ধতিতে আপনি দ্বীন কায়েম করবেন?
অপরদিকে দরস-তাদরীস, তাবলীগের লোকেরা তো রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনও মনে করে না।

যে সব আলেমরা সামান্য দুনিয়াবী স্বার্থে তাওহীদি জনতার ঈমানী চেতনাকে তাগুতের পদতলে লুটিয়ে দেয়, তারা কি পারবে আমরণ সংগ্রামে লিপ্ত হতে?

এখন আপনি নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য যে, আগে ইসলামী হুকুমতের প্রয়োজনীয়তা মানুষকে বুঝাতে হবে। আগে মানুষের চিন্তা-চেতনা ও মন-মেজাজ পাল্টাতে হবে। তখন একসময় ঈমানী চেতনা থেকে ইসলামী বিপ্লব সংগঠিত হবে।
আর বরিশাল সিটি নির্বাচনের মত করে কর্মতৎপরতা চালালে অল্প সময়ে মেজাজ পাল্টানোর কাজ সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ!
সিটি নির্বাচনে যেহেতু আমরা মূলকাজ করতে পেরেছি তাই আমরাই জয়ী।
আর যারা দু’টাকার বিনিময়ে সাত সমূদ্র তের নদী পার হয়ে ধানের গোলা ভরতে গিয়েছিলেন, তারা কী পেলেন?

হাতপাখায় ভোট না দিতে পেরে আমরা যারা অশ্রু ঝরিয়েছি আওয়ামীলীগ ও পুলিশলীগের কিল-গুঁতো খেয়ে আমরা যে জান্নাতী তৃপ্তি লাভ করেছি, আরিফের বিজয় মিছিলে যেসব টুপিওয়ালা শামিল হয়েছে তারা কি সে তৃপ্তি পাবে? তারা বিরিয়ানির স্বাদ পেলেও জান্নাতী সুখ অনুভব করতে পারবে না।

মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক
সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসলামী আন্দোলন ফেনী জেলা
ও ফেনী-৩ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী

936Shares