| |

শায়েখ সাইয়েদ ফজলুল করীম (রহ.) ছিলেন একজন যুগ-সংস্কারক

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ১০, ২০১৮

মু. সগির আহমদ চৌধুরী: পরম করুণাময় দয়াময় আল্লাহর নামে। প্রশংসা সবই আল্লাহর জন্য, শুভেচ্ছা রইল মহানবী, তাঁর পরিবার-পরিজন ও ভক্ত-অনুরক্তদের প্রতি।

‘সংস্কারক’। … মাইঁ য়ুজাদ্দিদু লাহা দীনাহা, যিনি দীনের সংস্কার করেন। সংস্কার বলতে মৌলিকভাবে দুটো কর্মসূচি:

১. মুসলমানদের মধ্যে অনুপ্রবেশকৃত অনৈসিলামিক নীতি-রীতির মূলোৎপাটন এবং

২. ইসলামের যেসব আদর্শ-ঐতিহ্য মুসলমানরা পরিত্যাগ করেছে বা কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে সেসবকে মুসলিম-সমাজে পুনরুজ্জীবিত করা এবং পুনঃস্থাপিত করা। এক কথায় ইসলামের প্রকৃত আদর্শ আদিরূপে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে সংস্কার।

এই সংস্কার-ধারণার উৎস হচ্ছে মহানবী (সা.)-এর মুখানিসৃত হাদীস শরীফের একটি ভাষ্য; এতে ইরশাদ হয়েছে, ‘ইন্নাল্লা-হা ইয়াব্‘আসু ‘আলা রা’সি কুল্লি মিআতি সানাতিম মাইঁ য়ুজাদ্দিদু লাহা- দীনাহা অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রতি শতাব্দীর মাথায় এ-উম্মতের জন্যে একজন দীনের সংস্কারক প্রেরণ করবেন।’

ইমাম আবু দাউদ রহিমাহুল্লাহ (২০২-২৭৫ হি.) বর্ণিত  হাদীসের এ-ভাষ্যের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে হাফিযুল হাদিস ইমাম জালালুদ দীন আস-সুয়ুতী রহিমাহুল্লাহ (৮৪৯-৯১১ হি.) বলেন, ‘ইত্তাফাকাল হুফ্ফায ‘আলা আন্নাহূ হাদীসুন সহীহ অর্থাৎ হাদীসটি বিশুদ্ধ এ-ব্যাপারে সকল হাদীস-বিশারদ ঐক্যমত পোষণ করেন।-২  তবে প্রতি শতাব্দীতে যুগসংস্কারক একজন হবেন নাকি একাধিক, শতাব্দীর প্রারম্ভে তাঁর আবির্ভাব হবে নাকি যেকোনো সময় এসব নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

মাইঁ য়ুজাদ্দিদু (যিনি সংস্কার কাজ করেন); এখানে আরবি ব্যাকরণের ‘মান’ অব্যয়টি ব্যাপক অর্থ বহন করে। মুহাদ্দিস আবদুর রাউফ আল-মুনাওয়ী রহিমাহুল্লাহ (৯৫২-১০৩১ হি.) হাফিয শামসুদ দীন আয-যাহাবী রহিমাহুল্লাহ (৬৭৩-৭৪৮ হি.)-এর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, ‘মান্ হুনা লিল্ জাম্য়ি, লা- লিল্ মুফ্রাদ অর্থাৎ এখানে ‘মান’ অব্যয়টি বহবচন অর্থে, একবচন অর্থে নয়।’  এ-দিক বিবেচনায় অনেক বিশেষজ্ঞ ওলামায়ে কেরাম যাঁদের মধ্যে মুহাদ্দিস আবুস সাআদাত ইবনুল আসীর (৫৪৪-৬০৬ হি.) ও ইমাম ইবনে কসীর (৭০০-৭৭৪ হি.) ও ইমাম ইবনে হাজর আল-আসকালানী (৭৭৩-৮৫২ হি.) রহিমাহুমুল্লাহ প্রমুখও রয়েছেন তাঁরা একই শতাব্দীতে একাধিক মুজাদ্দিদ আবির্ভাবের সম্ভাবনার স্বীকৃতি দিয়েছেন।

বিভিন্ন অঞ্চলের ভূগোলিক ভিন্নতা ও ভাষার বৈচিত্রভেদে আঞ্চলভিত্তিক ও সে-অঞ্চলের ভাষাভাষী মানুষের জন্য স্বতন্ত্র মুজাদ্দিদ প্রেরিত হতে পারেন।  আর এটি বিশেষ শ্রেণির মধ্যে থেকে আবির্ভূত হওয়া জরুরি নয়।

রেফারেন্স:

-১: আবু দাউদ, আস-সুনান, আল-মাকতাবাতুল আসরিয়া, বয়রুত, লেবনান, খ. ৪, পৃ. ১০৯, হাদীস: ৪২৯১:
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ، فِيمَا أَعْلَمُ، عَنْ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ্রإِنَّ اللهَ يَبْعَثُ لِـهَذِهِ الْأُمَّةِ عَلَىٰ رَأْسِ كُلِّ مِائَةِ سَنَةٍ مَنْ يُجَدِّدُ لَـهَا دِيْنَهَاগ্ধ.
-২: আস-সুয়ুতী, আত-তানবিয়াতু বি-মাইঁ ইয়াবআসুল্লাহু আলা রা’সি কুল্লি মিয়া, দারুস সিকা, মক্কা মুর্কারামা, সউদী আরব (প্রথম সংস্করণ: ১৪১০ হি. = ১৯৮৯ খ্রি.), পৃ. ১৯: ্রاِتَّفَقَ الْـحُفَّاظُ عَلَىٰ أَنَّهُ حَدِيْثٌ صَحِيْحٌগ্ধ।
-৩: (ক) আল-মুনাবী, ফয়যুল কদীর শরহুল জামিয়িস সগীর, আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়া, কায়রো, মিসর (প্রথম সংস্করণ: ১৩৫৬ হি. = ১৯৩৭ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ৯; 
    (খ) আয-যাহাবী, তারীখুল ইসলাম ওয়া ওয়াফিয়াতুল মাশাহীর ওয়াল আ’লাম, দারুল কিতাব আল-আরাবী, বয়রুত, লেবনান (দ্বিতীয় সংস্করণ: ১৪১৩ হি. = ১৯৯৩ খ্রি.), খ. ২৩, পৃ. ১৮০
-৪: (ক) ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল, মাকতাবাতুল হালওয়ানী, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৩৮৯ হি. = ১৯৬৯ খ্রি.), খ. ১১, পৃ. ৩১৯, হাদীস: ৮৮৮১; 
    (খ) ইবনে কসীর, আন-নিহায়া ফিল ফিতান ওয়াল মালাহিম, দারুল জীল, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪০৮ হি. = ১৯৮৮ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ৩৯; 
    (গ) ইবনে হাজর আল-আসকলানী, ফতহুল বারী শরহু সহীহ আল-বুখারী, দারুল মা’রিফা, বয়রুত, লেবনান (১৩৭৯ হি. = ১৯৫৯ খ্রি.), খ. ১৩, পৃ. ২৯৫
-৫: আল-কুরআন আল-করীম, সূরা ইবরাহীম, ১৪:৪: মহান রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন, وَمَاۤ اَرْسَلْنَا مِنْ رَّسُوْلٍ اِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهٖ لِيُبَيِّنَ لَهُمْؕ ۰۰۴ (আমি সব রাসূলকেই তাঁদের স্বজাতির ভাষাভাষী করেই প্রেরণ করেছি, যাতে তাদেরকে পরিষ্কার বোঝাতে পারে।) নবী-রাসূল প্রেরণের ক্ষেত্রে যদি বিভিন্ন

 

এমন সীমাবদ্ধতা আরোপকে সম্পূর্ণ নাকচ করেছেন মুহাদ্দিস ইবনুল আসীর রহিমাহমুল্লাহ। তাঁর মতে, ফকীহ, মুহাদ্দিস, কারী, ওয়ায়েয, সুফি-সাধক ও রাজনীতিক নেতৃবৃন্দের মধ্য হতেও যুগ-সংস্কারক আবির্ভূত হতে পারেন।  অবশ্য মুহাদ্দিস ইবনুল আসীর রহিমাহুল্লাহ শর্তারোপ করেছেন যে, তাঁকে প্রসিদ্ধ ও স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব হতে হবে এবং তিনি উপর্যুক্ত সকল দীনী খিদমাতে জড়িত গুণী-জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গের পৃষ্ঠপোষক বা উৎস হবেন।  ‘আলা রা’সুল মিয়া’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে হিজরী শতাব্দীর সমাপ্তি। মুহাদ্দিস শরফুদ দীন আত-তীবী রহিমাহুল্লাহ (০০০-৭৪৩) এর ব্যাখ্যায় বলেন, ‘মানিন্ কাযাতিল্ মিয়াতু, ওয়া হুয়া হাইয়ুন ‘আলিমুন য়ুশারু ইলায়হি অর্থাৎ শতাব্দীর শেষলগ্নে জীবিত গুণী ব্যক্তিত্বের অধিকারী প্রসিদ্ধ আলিম হবেন।’

শায়খ সাইয়েদ মুহাম্মদ ফজলুল করীম রহিমাহুল্লাহ (১৩৫৩-১৪২৬ হি.) এমনই এক ব্যক্তিত্বের অধিকারী যুগের ক্ষণজন্মা পুরুষ ছিলেন। হিজরী তের শতাব্দীর শেষ দশকের শুরুর (১৯৭৩ খ্রি. = ১৩৯২ হি.) দিকে চরমোনাইয়ে তাঁর শায়খ ও পিতা সাইয়েদ মুহাম্মদ ইসহাক রহিমাহুল্লাহ (১৩৩৩-১৩৯২ হি.)-এর স্থলাভিষিক্ত হন। এর পর থেকে দাওয়াত, ইসলামের প্রচার-প্রসার, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতের পুরুজ্জীবন, কুরআন-সুন্নাহের আলোকে মানুষের জীবন পুনর্গঠন, শিরক-বিদআতের মূলোৎপাটন, ইসলামি শিক্ষাপ্রসারে দীনী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা, সকল প্রকার বাতিল শক্তির মোকাবেলায় রাজপথে সংগ্রাম এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্যে আমৃত্যু ব্যাপৃত ছিলেন তিনি। শায়খ রহিমাহুল্লাহ তাঁর দাওয়াত, ইসলাহ ও সংগ্রামী কাজের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি-প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। একই সঙ্গে সর্বস্তরের ওলামা-মাশায়েখ, বুযুর্গানে দীন ও ধর্মপ্রাণ জনসাধারণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি।

হিজরী তের শতাব্দীর শেষের দিকে যুগের মহাপুরুষ হযরত মুহাম্মদুল্লাহ হাফিজ্জী হুযুর রহিমাহুল্লাহ (১৩১৪-১৪০৭ হি.)-এর নেতৃত্বে ব্যাপক জনসমর্থনভিত্তিক খেলাফত আন্দোলন গড়ে ওঠলে পীর সাহেব চরমোনাই এতে অংশগ্রহণ করেন এবং এর সিনিয়র নায়েবে আমীর নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে পীর সাহেব হাফিজ্জী হুযুর রহিমাহুল্লার নির্বাচন পরিচালনা কমিটিরও চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন।  একই বছর দেশের বিভিন্ন চিন্তা ও মতের প্রতিনিধিত্বশীল ওলামায়ে কেরাম ও নেতৃবর্গের উদ্যোগে বৃহত্তর ইসলামি ঐক্যের লক্ষ্যে ইত্তিহাদুল উম্মাহ গঠিত হলে পীর সাহেব চরমোনাই এর প্রথম মুখপত্র নির্বাচিত হন।  এ-দুটো ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় পীর সাহেব চরমোনাই ছিলেন সেই সময়ে ব্যাপক গ্রহণযোগ্য, বরেণ্য ও প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।

ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে হিজরী শতাব্দীর শেষলগ্নে আগমন, প্রসিদ্ধি ও বরেণ্য আলেম ব্যক্তিত্ব হওয়ার যে-শর্তাদি যুগ-সংস্কারকের জন্য বিভিন্ন কিতাবে বিবৃত হয়েছে তার সবই পীর সাহেব চরমোনাইয়ের মাঝে উপস্থিত ছিল।

জাতির ভাষাবৈচিত্রের ব্যাপারটি গুরুত্ব পায় তা হলে মুজাদ্দিদ আবির্ভূত হওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একেবারে উপেক্ষিত হবে তা যুক্তিসংগত ধরে নেওয়া যায় না।
 বিস্তারিত দেখুন: ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল, মাকতাবাতুল হালওয়ানী, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৩৮৯ হি. = ১৯৬৯ খ্রি.), খ. ১১, পৃ. ৩১৯-৩২১, হাদীস: ৮৮৮১:
 وكذلك لا يلزم منه أن يكون أراد بالـمبعوث: الفقهاء خاصة، كما ذهب إليه بعض العلماء، فإن انتفاع الأمة بالفقهاء، وإن كان نفعًا عامًّا في أمور الدين، فإن انتفاعهم بغيرهم أيضاً كثير مثل أولي الأمر، وأصحاب الحديث والقُرَّاء والوعَّاظ، وأصحاب الطبقات من الزّهاد، فإن كل قوم ينفعون بفنّ لا ينفع به الآخر، إذ الأصل في حِفْظِ الدِّين حفظُ قانون السياسة، وبث العدل والتناصف الذي به تحقن الدماء ويتمكَّن من إقامة قوانين الشرع، وهذا وظيفة أُولي الأمر، وكذلك أصحاب الـحديث: ينفعون بضبط الأحاديث التي هي أدلّة الشرع، والقُرَّاء ينفعون بحفظ القراءات وضبط الروايات، والزُّهاد ينفعون بالـمواعظ والـحث علىٰ لزوم التقوىٰ والزهد في الدنيا، فكل واحد ينفع بغير ما ينفع به الآخر.
 বিস্তারিত দেখুন: ইবনুল আসীর, জামিউল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল, মাকতাবাতুল হালওয়ানী, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৩৮৯ হি. = ১৯৬৯ খ্রি.), খ. ১১, পৃ. ৩১৯-৩২১, হাদীস: ৮৮৮১:
 لكن الذي ينبغي أن يكون الـمبعوث علىٰ رأس الـمائة: رجلًا مشهورًا معروفًا، مشارًا إليه في كل فن من هذه الفنون.
 বিস্তারিত দেখুন: (ক) আত-তীবী, আল-কাশিফ আন হাকায়িকিস সুনান, মাকতাবাতু নিযার মুস্তাফা আল-বায, মক্কা মুর্কারমা, সউদী আরব (প্রথম সংস্করণ: ১৪১৭ হি. = ১৯৯৭ খ্রি.), খ. ৩, পৃ. ৭০০; (খ) আল-মুনাবী, ফয়যুল কদীর শরহুল জামিয়িস সগীর, আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়া, কায়রো, মিসর (প্রথম সংস্করণ: ১৩৫৬ হি. = ১৯৩৭ খ্রি.), খ. ১, পৃ. ৯; (ঘ) আল-মুহিব্বী, খুলাসাতুল আসর ফী আ’য়ানিল কারনিল হাদী আশর, দারু সাদির, বয়রুত, লেবনান, খ. ৩, পৃ. ৩৪৭: الـمُرَاد بِالْبَعْثِ من انْقَضت الْـمِائَة وَهُوَ حي عَالـم يشار إليه।
 ইউসুফ আলী খান, সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ.-এর জীবনী, মুজাহিদ প্রকাশনী, ঢাকা, বাংলাদেশ (প্রথম সংস্করণ: ১৪৩০ হি. = ২০১০ খ্রি.), পৃ. ৯৩-৯৬
 অধ্যাপক গোলাম আযম, জীবনে যা দেখলাম, কামিয়াব প্রকাশন, ঢাকা, বাংলাদেশ (প্রথম সংস্করণ: ১৪২৫ হি. = ২০০৫ খ্রি.), খ. ৫, পৃ. ২২৯

 

অবশ্য তাঁকে মুজাদ্দিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এ-প্রবন্ধের মুখ্যউদ্দেশ্য নয়। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কর্ম-অবদানকে মূল্যায়ন, তাঁর কাজের একটি মূল্যমান নির্ধারণ করা এবং সমাজে এর প্রভাব কি তা যাচাই করা। এটি যাচাই করা গেলে সমাজ এবং বৃহত্তর পরিসরে মুসলিম উম্মাহ এর দ্বারা ব্যাপকভাবে উপকৃত হতে পারবে এটিই এ-নিবন্ধের মুখ্যউদ্দেশ্য। সংস্কার বলতে শুরুতে যে-দুটো মৌলিক কর্মসূচির প্রতি নিবন্ধের প্রারম্ভে ইঙ্গিত করা হয়েছে সে-ধরনের কর্ম-অবদান কি আছে যা শায়খ সাইয়েদ ফজলুল করীম রহিমাহুল্লাহর জীবনে অনন্য এবং অন্যান্য ওলামা-মাশায়েখের কর্মপন্থা থেকে ব্যাপকতর বা ভিন্নপ্রকৃতির এ-বিষয়টি ফুটিয়ে তোলাই নিবন্ধের মূল লক্ষ্য।

শায়খের জীবনে এ-ধরনের কর্মসূচি নির্ধারণ ও তার মূল্যমান যাচাই করার শুরুতে তাঁর জীবনের একটি সুনির্দিষ্ট অংশকে নির্বাচিত করতে হবে। আর তাঁর সেই জীবনাংশটি হচ্ছে ১৯৭৩-২০০৬ খ্রিস্টাব্দ। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর পিতা সাইয়েদ মুহাম্মদ ইসহাক রহিমাহুল্লাহর ইন্তিকালের পর তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন এবং এরপরই তিনি একজন পীর, দীনের নিষ্ঠাবান দায়ী, ইসলামি শিক্ষার প্রসারক, রাজনীতিক নেতৃত্ব, সংগঠক ও প্রভাবশালী ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরূপে আবির্ভূত হন। সময়টা হিজরী পঞ্জিকানুসারে ১৩৯২Ñ১৪২৬। ওলামায়ে কেরামের মতামত অনুসারে এই সময়টি হচ্ছে যুগ-সংস্কারকের আবির্ভাবের সময়। ধর্মের আবরণে, ধর্মীয় লেভেল আঁকিয়ে কিংবা ধর্মীয় প্রথার নামে সেসব কুসংস্কার, কুপ্রথা, আচার-অনুষ্ঠান ইসলামের সঙ্গে অঙ্গিভূত করা ফেলা হয়েছে সেসব ঝেটিয়ে বের করে দেওয়া, মুসলিম সমাজ থেকে সেসবের মূলোৎপাটন এবং সত্য দীন ও মিথ্যার মাঝে পার্থক্য-ফারাক সৃষ্টি করা একজন মুজাদ্দিদের প্রধান কাজ।

একই সঙ্গে আধুনিক চিন্তা-দর্শনের প্রভাবে যেসব ইসলামি নীতি-বিধান ও ঐতিহ্য মুসলিম সমাজ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, কিংবা মুসলিমদের হীনস্মন্যতার দরুন হারিয়ে গেছে এবং পরিত্যক্ত হয়েছে সেসব সংস্কৃতি, সুন্নতে নববী ও ইসলামি জীবন-বিধানকে মুসলিম সমাজে পুনরুজ্জীবিত করে ইসলামকে তার আদি প্রকৃতরূপে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে একজন যুগসংস্কারের দ্বিতীয় প্রধান কর্মসূচি। যুগ-সংস্কারকের কর্মসূচির ধারণা বিষয়ে হাদীস শরীফের ভাষ্য হচ্ছে, ‘ইয়াহ্মিলু হাযাল্ ইল্মা মিন্ কুল্লি খাল্ফিন্ ‘উদূলুহূ, ইয়ান্ফূনা ‘আন্হু তাহ্রীফাল গালীনা, ওয়ান্তিহালাল্ মুব্তিলীনা, ওয়া তা’ওয়ীলাল্ জাহিলীন অর্থাৎ এই ইলমকে ধারণ করবে প্রত্যেক উত্তর-প্রজন্মের আস্থাভাজন শ্রেণি। তাঁরা একে মুক্ত রাখবে সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি থেকে, বাতিলপন্থিদের মিথ্যাচার থেকে এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা থেকে।’

শায়খ রহিমাহুল্লাহ তাঁর কর্ম-অবদানের উক্ত সময়টায় দীনের বিরুদ্ধে বাতিলের মিথ্যাচার ও ধর্মের ব্যাপারে মূর্খদের অপব্যাখ্যা এ-দু’ধরনের ফিতনার বিরুদ্ধে ব্যাপক কর্মপ্রয়াস চালিয়েছেন এবং অনেকানেক স্বার্থকভাবে এর মুকাবেলা করেছেন। এ-ফিতনার গোড়ায় ছিল একদিকে ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা, অন্যদিকে ছিল সুফিবাদ। একটা রাজনীতিক মতাদর্শ, অন্যটি ধর্মের আবরণে ঢাকা জীবনদর্শন। এ-দুইয়ে দৃশ্যত বৈসাদৃশ্য দেখানো গেলেও এক জায়গায় এ-দুইয়ের মধ্যে ছিল গলায় গলায় খাতির। দুইটাই যেন এক মায়ের পেটের দু’সহোদর। ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রের কোনো ধর্মীয় পক্ষ নেই, দুটো আলাদা, পৃথক, স্বতন্ত্র; রাষ্ট্র রাজনীতিক আর ধর্ম ব্যক্তিগত। পক্ষান্তরে একদল সুফিবাদীদের মতে, ধর্মের কোনো রাজনীতিক পক্ষ নেই, ধর্ম আস্থা-বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার বিষয় আর রাজনীতি বৈষয়িক, এ-দুটো এক হতে পারে না।

নাম-আচার ও আনুষ্ঠানিকতায় বৈসাদৃশ্যপূর্ণ হলেও ধর্মনিরপেক্ষতা ও সুফিবাদের যে-জায়গায় মিল তা হচ্ছে পক্ষহীনতা। ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্ম থেকে নিরপেক্ষ বা পক্ষহীন অন্যদিকে সুফিবাদ রাষ্ট্র থেকে নিরপেক্ষ বা পক্ষহীন। এদের মাঝে অনেকভাবে মৈত্রিত্বের সম্পর্ক আছে, পরস্পরকে এরা নানা আদুরে নামে আহ্বান করে। ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা সুফিবাদকে লৌকিক ইসলাম, মরমিবাদ ও আধ্যাত্মিক সাধনার নাম দেয়। অন্যদিকে সুফিবাদীরা ধর্মনিরপেক্ষতাকে মানবতাবাদ ও অসাম্প্রদায়িতা বলে সম্মানিত করে। এখানে স্পষ্টত একটা পক্ষ অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে রাজনীতির সাথে ইসলামের সম্পর্ক নেই বলে।

আত-তাহাওয়ী, শরহু মুশকিলি আসার, মুআস্সিসাতুর রিসালা, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪১৫ হি. = ১৯৯৪ খ্রি.), খ. ১০, পৃ. ১৭, হাদীস: ৩৮৮৪:
 عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ্রيَحْمِلُ هَذَا الْعِلْمَ مِنْ كُلِّ خَلَفٍ عُدُوْلُهُ، يَنْفُوْنَ عَنْهُ تَحْرِيْفَ الْغَالِيْنَ، وَانْتِحَالَ الْـمُبْطِلِيْنَ، وَتَأْوِيْلَ الْـجَاهِلِيْنَগ্ধ.

অন্যদিকে সুফিবাদীরা ইসলামের অপব্যাখ্যা করছে ইসলামের সাথে রাজনীতির সম্পর্ক অস্বীকার করে। অথচ পূর্বসূরি সুফিতত্ত্ববিদ হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম আবু হামিদ আল-গাযালী রহিমাহুল্লাহ (৪৫০-৫০৫ হি.) বলেছেন, ‘আদ্ দীন ওয়াল্ মুল্ক ওয়া’মানি, মিস্লা আখওয়াইনি উলিদা মিন বাত্নিন্ ওয়াহিদ অর্থাৎ ধর্ম ও রাজনীতি এক মায়ের জঠর থেকে জন্ম নেয়া দু’সহোদর ভাইয়ের মতো।’

ধর্মনিরপেক্ষবাদ ও সুফিবাদ পরস্পর সহযোগী ইসলামের রাষ্ট্রচিন্তার বিরুদ্ধে। ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ রাষ্ট্রীয় সুন্নাহের ধারণাকে মুসলি-মমনন, চিন্তা-চেতনা, গৌরবের ইতিহাস-ঐতিহ্য, এমনকি বিধি-ব্যবস্থার কিতাবাদি থেকে চিরতরে অবলুপ্ত করতে সীমাহীন চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সুফিবাদীরা সেই ধারণার পরিবর্তে বৈরাগ্যবাদী চেতনা, যাজকতান্ত্রিক প্রথা-পন্থা ও তথাকথিত মরমিবাদী চিন্তা-দর্শন এবং আধ্যাত্মিক আচার-অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। একদিকে ধর্মের নামে অধার্মিকতার অনুপ্রবেশ ঘটানো হচ্ছে, অন্যদিকে ইসলামের সুপ্রমাণিত সুন্নাহকে বিলুপ্ত করা হচ্ছে। অথচ হাদীস শরীফে পরিষ্কার এসেছে, ‘কানাত্ বানূ ইস্রাঈলা তাসূসুহুমুল্ আন্বিয়া, কুল্লামা হালাকা নাবিউয়ুন খালাফাহু নাবী, ওয়া ইন্নাহু লা নাবিয়া বা’দী, ওয়া সাইয়াকূনু খুলাফাউ, ফাইয়াক্সুরূন অর্থাৎ বনি ইসরাইলের নবীগণ তাঁদের উম্মতকে শাসন করতেন। যখন কোনো একজন নবী ইন্তিকাল করতেন, তখন অন্য একজন নবী তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতেন। আর আমার পরে কোনো নবী হবে না। তবে অনেক খলীফা হবে।’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ-হাদীসের একজন স্বার্থক ধারাভাষ্যকার ছিলেন শায়খ রহিমাহুল্লাহ। একজন আলেমে দীন, নেতৃত্বস্থানীয় পীর ও শীর্ষস্থানীয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব হিসেবে একটি মৃত্যুপ্রায় সুন্নাহের পুনরুজ্জীবন এবং রাষ্ট্রীয় সুন্নাহের পুনরুজ্জীবনের দুশমনদের বিরুদ্ধে আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি। বিলুপ্ত রাষ্ট্রীয় সুন্নাহের পুনরুজ্জীবনে রাজনীতিক শক্তি অর্জন, জনগণের মাঝে জাগরণ সৃষ্টি এবং এ-জাতীয় দাবির একটি গণভিত্তি তৈরি জন্য যা যা করণীয় তার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন তিনি। একজন পীর হিসেবে পীরবাদের প্রথাগত নিয়ম-নীতি তিনি অত্যন্ত নির্মমভাবে ভেঙে চুরমার করে দিয়ে গেছেন প্রথমে। পীর-মাশায়েখের প্রতি বাংলাদেশের সামাজিক যে-প্রশ্নাতীত সম্মান-শ্রদ্ধা ও ভক্তি-ভালবাসা রয়েছে জনগণের, একজন রাজনীতিকের প্রতি সেটি সাধারণত থাকে না। পীর সাহেবান এই অন্যতম কারণে রাজনীতিতে আগ্রহী নন। শায়খ রহিমাহুল্লাহ অত্যন্ত সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গেই রাসূলের একটি রাষ্ট্রীয় সুন্নাহের পুনরুজ্জীবনের স্বার্থে পীরের প্রাপ্য সেই প্রথাগত সম্মান-শ্রদ্ধার লোভ-লালসাকে পায়ে মাড়িয়েছেন।

ধর্মনিরপেক্ষবাদী ও মূর্খ সুফিবাদীদের তৎপরতায় সমাজে এ-ধারণা প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল যে, পীর সাহেব হয়ে রাজনীতি কেন করেন? এটি কি তাকে শোভা দেয়? এমনকি ওলামা হযরাতের ব্যাপারেও এ-প্রবাদ সমাজে প্রচলিত হয়ে আছে যে, ‘মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।’ শায়খ রহিমাহুল্লাহও সমাজে প্রতিষ্ঠিত এই অনৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন বারবার। জবাবে শায়খ রহিমাহুল্লাহ নিজেই বলেছেন, ‘যারা রাজনীতি করে না তারা পীর হয় কি করে এটা আমার বুঝে আসে না। আসল পীর হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি রাজনীতি করেছেন এবং খুলাফায়ে রাশেদিনও রাজনীতি করেছেন। এখন যে-পীরেরা ইসলামি রাজনীতি করে না তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওয়ারিস হয় কি করে এটাই আমার বুঝে আসে না।’  শুধু তা-ই নয়, রাজনীতিতে আগমনের ফলে তাঁর বিপুল ভক্ত-মুরিদদের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধ-বিবর্জিত রাজনীতির সাথে যারা জড়িত ছিল এমন অনেকে তাঁর সঙ্গ ছেড়ে চলে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামনে এসেছিল। এমন পরিস্থিতিতে শায়খ অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলতেন, একথা বলতে তাঁকে প্রায় শোনা যেত যে, ‘আমার সামনে-পেছনে, ডানে-বামে কেউই না-থাকলেও আমি একাই হকের ওপর অবিচল থাকবো ইনশাআল্লাহ।’

আল-গাযালী, আত-তিবরুল মাসবূক ফী নাসীহাতিল মুলূক, দারুল কুতুব আল-ইলমিয়া, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪০৯ হি. = ১৯৮৮ খ্রি.), পৃ. ৫০: الدِّيْنُ وَالْـمُلْكُ تَوَأْمَانِ مِثْلَ أَخْوَيْنِ وُلِدَا مِنْ بَطْنٍ وَاحِدٍ।
 আল-বুখারী, আস-সহীহ, দারু তওকিন নাজাত, বয়রুত, লেবনান (প্রথম সংস্করণ: ১৪২২ হি. = ২০০১ খ্রি.), খ. ৪, পৃ. ১৬৯, হাদীস: ৩৪৫৫:
 عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: ্রكَانَتْ بَنُوْ إِسْرَائِيْلَ تَسُوْسُهُمُ الْأَنْبِيَاءُ، كُلَّمَا هَلَكَ نَبِيٌّ خَلَفَهُ نَبِيٌّ، وَإِنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِيْ، وَسَيَكُوْنُ خُلَفَاءُ فَيَكْثُرُوْنَগ্ধ.
 সগির চৌধুরী (সম্পাদক), পীর সাহেব চরমোনাইয়ের সাক্ষাৎকারসমগ্র, দারুন নাহযা, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ (প্রথম সংস্করণ: ১৪৩৪ হি. = ২০১৩ খ্রি.), পৃ. ৪১; সূত্র: যুগান্তর, ঢাকা, ২ জানুয়ারি ২০০৪

রাজনীতি-অপছন্দ পীরপ্রথাকে ইসলামের খ-িত ধারণা হিসেবে জ্ঞান করতেন শায়খ রহিমাহুল্লাহ। তিনি এর থেকে পীর-মাশায়েখকে রাজপথে বেরিয়ে নিয়ে আনতে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। একজন খ্যাতিসম্পন্ন পীর হিসেবে অন্য পীরকে অপছন্দ করার নিচুতা কিংবা তাঁকে অন্যান্য পীর-মাশায়েখ কিভাবে গ্রহণ করেন সেই আত্মসম্মানবোধকে তুচ্ছ করেই তিনি বায়তুশ শরফ, শর্ষিনা, নওয়াপাড়া, মাছিহাতা, সুইহারী, গারাঙ্গিয়া, দুধমুখা, আড়াইবাড়ি, ফুরফুরা ও নেছারাবাদসহ বিভিন্ন পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরামের দরবারে ইসলামি আন্দোলন, ঐক্য ও সংহতির দাওয়াত নিয়ে ছুটে যেতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখের প্রতি জনগণের যে-ভক্তি-ভালবাসা রয়েছে যদি সম্মানিত ওলামা-মাশায়েখ একতাবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে পড়েন তা হলে ইসলামের বিজয় কোনোভাবেই নস্যাৎ হবার নয়। এক্ষেত্রে শায়খ রহিমাহুল্লাহ সম্পূর্ণ সফল না হলেও ইসলামি রাজনীতি ও রাষ্ট্রচিন্তা যে একটি বাস্তবতা সেকথা ওলামা-মাশায়েখকে তিনি বোঝাতে সক্ষম হয়েছেন এবং সমাজে প্রতিষ্ঠিত ইসলামি রাজনীতির বিরুদ্ধে অনৈতিক ধারণাকে তিনি সমূলে উৎপাটন করতে সক্ষম হয়েছেন।

রাজনীতিতে শায়খ রহিমাহুল্লাহর আগে-পরে অনেক ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখ অংশগ্রহণ করেছেন। এতে শায়খের অনন্যতা কি? একটা প্রশ্ন থেকে যায়। হ্যাঁ, একথা ঠিক যে, শায়খের আগে-পরে অনেক ওলামা-মাশায়েখ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেছেন। কিন্তু শায়খের অনন্যতা হচ্ছে তিনি ইসলামি রাজনীতির একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করে যেতে সক্ষম হয়েছেন। সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করেই তিনি ক্ষান্ত হননি, সযতেœ এটির পরিচর্যা করেছেন যাতে এর ভিত্তিমূলে স্থবিরতা ও ভাঙনের সৃষ্টি না হয়। রাজীতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে হঠকারিতা ও রাজনীতির ময়দানে খেই হারানো থেকে বাঁচিয়ে দলের সাংগঠনিক ভিত্তিকে স্থায়িত্ব ও মজবুতির ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য করার ব্যবস্থা করে গেছেন। ১৯৯৭ সালে চার দলীয় জোটে অংশগ্রহণে তাঁর আপত্তি এটি যেমন তাঁর ধর্মীয় নীতিবোধের কারণে ছিল, একইভাবে এটি তাঁর দলের ভবিষ্যৎ সংহতির রক্ষার জন্যেও ছিল। ব্যাপারটি বুঝতে আমাদেরকে একটু ইতিহাসের পৃষ্ঠায় চোখ বোলাতে হবে।

এক সময় নেজামে ইসলাম পার্টি ছিল সর্ববৃহৎ ও ব্যাপক জনসমর্থিত দল। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে নেজাম ইসলাম পার্টি জাতীয় পরিষদে ১৪টি ও পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে ২২টি আসন লাভ করেছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় শ্রমমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাওলানা ফরিদ ও আইন, ভূমি ও শিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল হক চৌধুরী ছিলেন নেজামে ইসলাম পার্টির। পূর্বপাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের স্পিকার আবদুল ওয়াহহাব খান ও একজন প্রাদেশিক মন্ত্রী আশরাফউদ্দীন চৌধুরী ছিলেন নেজামে ইসলাম পার্টির। ওই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ কিংবা জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে কোনো আসন বা মন্ত্রিত্বের কথা জানা যায় না। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের বিচারেও নেজামে ইসলাম পার্টি ছিল প্রধান ইসলামপন্থি দল। নিখিল পাকিস্তানে নেজামে ইসলাম পার্টি ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মোট আসনসংখ্যা যেখানে ৮টি সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আসন ছিল মাত্র ৪টি। নির্বাচনের পর জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত (বর্তমানে খায়বার পাখতুনখোয়া) প্রদেশে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও পাকিস্তান পিপলস পার্টির সঙ্গে জোট সরকার গঠন করেছিল, যার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মুফতী মাহমুদ রহিমাহুল্লাহ (১৯১৯-১৯৮০ খ্রি.)।

রাজনীতিতে নেজামে ইসলাম পার্টির ঐতিহ্য ছিল, জাতীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল এবং বিপুল জনসমর্থনও ছিল এ-পার্টির প্রতি। যার ধারে-কাছেও কখনো জামায়াতে ইসলামী ঘেঁষতে পারেনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধ এবং ইসলামপন্থিরা একটা বিপর্যয়ের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও পরবর্তীকালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করতে পারলেও জামায়াতের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয় দল নেজামে ইসলাম পার্টি আজকে ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে গেছে এর কারণ কী? ইসলামি রাজনীতির একজন ক্ষুদ্র কর্মি ও ইতিহাসের একজন পাঠক হিসেবে এর মূল কারণ হচ্ছে, ইসলামি ঐক্যের মুখরোচক শ্লোগানে খেই হারিয়ে নিজেদের অস্তিত্বের পায়ে কুড়ালের কোপ মেরে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনা। ১৯৭৭ সালে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগ (আইডিএল) গঠনই ছিল নেজামে ইসলাম পার্টির অপমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। ১৯৭৬ সালে আইডিএল গঠিত হয়েছিল। নেজামে ইসলাম পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফতে রব্বানী, পিডিপি (পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি), ইসলামিক পার্টি, ইমারত পার্টি ও বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির ৭ দলীয় এ-জোটের নির্বাচিত করা হয়েছিল নেজামে ইসলাম পার্টির খতীবে আযম সিদ্দীক আহমদ রহিমাহুল্লাহ (১৯০৫-১৯৮৭ খ্রি.)-কে।

খতীবে আযমকে জোটের চেয়ারম্যান হিসেবে বেঁচে নেওয়া থেকে একথা স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তখনও নেজামে ইসলাম পার্টি ছিল বৃহত্তর ইসলামি দল। বস্তুতপক্ষে এটি প্রচলিত অর্থে জোট ছিল না, এটি ছিল ঐক্যবদ্ধ দল গঠন। এ-প্রসঙ্গে প্রবীন রাজনীতিক মরহুম অধ্যাপক গোলাম আযম লিখেছেন, ‘ইসলামী আদর্শে বিশ্বাসী দলগুলোর নেতারা ’৭২ ও ’৭৩ সালে কারাগারে আটক থাকাকালে নাকি ওয়াদাবদ্ধ হয়েছিলেন, জেলখানা থেকে বের হয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি দল গঠন করে ইসলামী তৎপরতা চালাবেন।’  এ থেকে বোঝা গেল যে, ৭টি দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তী দলীয় নাম সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে। যদি তা-ই হয়ে থাকে তা হলে দলটির চেয়ারম্যান-সেক্রেটারি কে কোন দল থেকে হবেন—ব্যাপারটি সংকীর্ণ দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগ ছিল না এবং এ-নিয়ে কারো বিক্ষুব্ধ হওয়াও ছিল অনাকাক্সিক্ষত। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী আগা-গোড়াই দলীয় সংকীর্ণতার পরিচয় দিয়ে গেছে এবং তারা দলীয় পদ-পদবি নিয়ে বিক্ষুব্ধ ছিল। তাদের দলীয় এ-সংকীর্ণতা খোদ অধ্যাপক গোলামের লিখনী থেকেই ফুটে ওঠে, তিনি লিখেন, ‘দলটি গঠন করার সময়ই পদ বণ্টনের ব্যাপারে ছোট দলগুলোর নেতারা একজোট হয়ে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যার কারণে জামায়াতের সবাই স্বাভাবিকভাবেই বিক্ষুব্ধ হয়। আইডিএল-এর চেয়ারম্যান করা হয় নেযামে ইসলাম পার্টির নেতা মাওলানা সিদ্দীক আহমদকে। সিনিয়র নেতা হিসেবে এতে জামায়াতের কোনো আপত্তি ছিল না। জামায়াত চেয়ারম্যান পদ দাবি করেনি। সেক্রেটারি জেনারেলের পদ জামায়াতের কোনো নেতাকে দেওয়া হবে বলে ধারণা ছিল।’

এই হলো ঐক্যের ধ্বজাধারী জামায়াতে ইসলামীর আসল চরিত্র। বস্তুত জামায়াত সেদিন পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল বিধায় আইডিএলের ছদ্মাবেশ ধারণ করে সারা দেশে নিজেদের কার্যক্রম গোছাচ্ছিল। পক্ষান্তরে সেই সময় পর্যন্ত বৃহত্তর ইসলামি দল নেজামে ইসলাম পার্টিসহ অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ ঐক্যের মুখরোচক শ্লোগানে সম্পূর্ণ বেহুশ হয়ে রাত-দিন মেহনত করে সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ ইসলামি দলটিকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে প্রাণপন প্রচেষ্টা চালাচ্ছিলেন অত্যন্ত নিষ্টার সাথে। নিজেদের সর্বোচ্চ কুরবানি, অর্থ-সম্পদ, জনপ্রিয়তা, ব্যক্তিত্ব ও প্রভাব-প্রতিপত্তি কাজে লাগাচ্ছিলেন সোনার হরিণের মতো খুঁজে পাওয়া ইসলামি ঐক্যকে বৃহত্তর দলীয় ভিত্তি দেওয়ার জন্যে। কিন্তু যেমাত্র জামায়াতের ওপর থেকে বিধিনিষেধ ওঠে গেল এবং স্বমূর্তিতে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হলো একটি অবৈধ কাউন্সিলের রিক্যুইজিশন দেওয়া হলো। আর ওই অবৈধ কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের চেয়ারম্যান খতীবে আযম সিদ্দীক আহমদ রহিমাহুল্লাহকে অব্যাহতি দিয়ে দলীয় নেতৃত্বে আইডিএল গঠন করা হয়। এর পরের ঘটনা অধ্যাপক গোলাম আযমের লিখনীতেই পড়–ন, ‘৭ দলীয় সংগঠনের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে গেল। দলের সাবেক কর্মকর্তাগণ কিছুদিন বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ও আপত্তি করতে থাকার পর মাওলানা সিদ্দীক আহমদ নেযামে ইসলাম পার্টি পুনরুজ্জীবিত করেন। আইডিএল দলটি জামায়াতের দখলে চলে আসে এবং সারা দেশে জামায়াতের জনশক্তি অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সংগঠন সম্প্রসারণে তৎপর হয়।’

দলে ভাঙন ধরানো, ফাটল সৃষ্টি ও দল দখল এটা জামায়াতি রাজনীতির পুরোনো ইতিহাস। সেই সময় পর্যন্ত ইসলামপন্থি দলসমূহের প্রথম সারিতে থাকা নেজামে ইসলাম পার্টিকে হতোদ্যমিত ও শক্তিহীন করে দেওয়া হয়। খতীবে আযম রহিমাহুল্লাহ পরবর্তীতে নেজামে ইসলাম পার্টিকে পুনরুজ্জীবিত করলেও যে-উদ্যম, উৎসাহ-উদ্দীপনা নিযে আইডিএলকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সেটির এমন করুণ পরিণতিতে কিছুটা হতাশ হয়ে নেজামে ইসলাম পার্টিকে একইভাবে সম্প্রসারণে আগের মতো সক্রিয় ভূমিকা হয়তো পালন করতে পারেনি। ১৯৭৬ সালের আইডিএল-ঐক্যে নেজামে ইসলাম পার্টির যে-নির্মম পরিণতি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে চারদলীয় জোটঐক্যে একই পরিণতি হয়েছে ইসলামী ঐক্যজোটের। সেদিন আইডিএল গঠিত না হলে হয়তো নেজামে ইসলাম পার্টির আজকের ইতিহাস থেকে হারিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হতো না। ঠিক একইভাবে চারদলীয় জোটে অংশ না নিলে ইসলামী ঐক্যজোটও হয়তো ক খ উপগ্রুপে বিভক্ত হতে হতো না। অত্যন্ত লজ্জা ও বেদনার সাথেই উল্লেখ করতে হয় যে, জোট তো বটে, এমনকি জোটের ভেতরের বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দলগুলোও নানা উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

 অধ্যাপক গোলাম আযম, জীবনে যা দেখলাম, কামিয়াব প্রকাশন, ঢাকা, বাংলাদেশ (প্রথম সংস্করণ: ১৪২৫ হি. = ২০০৫ খ্রি.), খ. ৫, পৃ. ১৩৫
 অধ্যাপক গোলাম আযম, জীবনে যা দেখলাম, কামিয়াব প্রকাশন, ঢাকা, বাংলাদেশ (প্রথম সংস্করণ: ১৪২৫ হি. = ২০০৫ খ্রি.), খ. ৫, পৃ. ১৩৫
 অধ্যাপক গোলাম আযম, জীবনে যা দেখলাম, কামিয়াব প্রকাশন, ঢাকা, বাংলাদেশ (প্রথম সংস্করণ: ১৪২৫ হি. = ২০০৫ খ্রি.), খ. ৫, পৃ. ১৩৫-১৩৬
 অধ্যাপক গোলাম আযম, জীবনে যা দেখলাম, কামিয়াব প্রকাশন, ঢাকা, বাংলাদেশ (প্রথম সংস্করণ: ১৪২৫ হি. = ২০০৫ খ্রি.), খ. ৫, পৃ. ১৩৬

ইসলামী ঐক্যজোট যেটি খোদ একটি জোট ছিল, দেশের ছোট-বড় প্রায় সবদলের অংশগ্রহণ ছিল যে-জোটে, বাঘা বাঘা সব ইসলামি নেতৃবৃন্দ যার কর্ণধার ছিলেন। সেই বৃহত্তর রাজনীতিতে বিকল্প জোটটি এখন নিঃস্ব, দীন-হীন। বৃহত্তর জোটটি এখন একটি নামসর্বস্ব দলেই টিকে আছে মাত্র। যে-জোটের করুণার ভিখারি ছিল সাবেক সরকারে থাকা দেশের বৃহত্তর দল বিএনপি সেই জোটই এখন অন্যের করুণার ভিখারি হয়ে আজ এ-দল কাল ও-দলের দ্বারে-দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কল্পনা করুন তো, যদি চারদলীয় জোটে ইসলামী ঐক্যজোট শরীক না হতো, স্বতন্ত্র অবস্থানে থেকে জোটের নিজস্বতা বজায় রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতো তাহলে তার বর্তমান অবস্থা কি হতো, কোন পর্যায়ে পৌঁছাতো। আমি মনে করি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত, জমিয়ত ও নেজাম মিলে এটি একটি বৃহত্তর জোটে পরিণত হতো। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনের পর থেকে ধীরে ধীরে সংসদে এ-জোটের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পেত। একটি সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে উপনীত হলে বিভিন্ন বস্তুবাদী দল থেকেও প্রভাবশালী জননেতারা ইসলামের ছায়াতলে ছুটে আসতেন। এতে করে এই জোটই বাংলাদেশের সাধারণ রাজনীতির একক নিয়ন্তা হয়ে ওঠতে পারতো।

পক্ষান্তরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আল্লাহর রহমতে এসব ভাঙন-গঠনের ফিতনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। দলের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ আছেন। জোটের শরীক হওয়ার সুবাদে বস্তুবাদী দলসমূহের নেতাদের সাথে সখ্যতা এবং সেই সখ্যতার দরুণ তাদের অপরাজনীতিক কালচারে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মিরা আক্রান্ত হননি। ক্ষমতার মোহ, পদ-পদবির লিপ্সা, দুনিয়াদার-দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক নেতাদের পেছনে পেছনে দু’পয়সার জন্য ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মিরা ঘুরবেন সেই থেকে আল্লাহ তাঁদের রক্ষা করেছেন। বিশুদ্ধ আকিদা, ইসলামি আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা, দলের নীতি-রীতির প্রতি অবিচল আস্থা ও একটি নির্ভেজাল ইসলামি সমাজ কায়েমের ঐতিহাসিক অঙ্গীকারের মধ্যে এসব নেতা-কর্মিদের মাঝে বিন্দুমাত্র দ্বন্ধ-সংকটের এখনো সৃষ্টি হয়নি। শায়খ রহিমাহুল্লাহ দলটি যে-অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন এখন তার থেকে বহুগুণে উন্নতি করেছে। দলের শাখা-প্রশাখা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাতা-পল্লবে বিস্তৃত হয়েছে। শতাধিক অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে। প্রতিটি সংঠন কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলা, ইউপি-ইউনিট, শিল্প-কারখানা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে উপনীত হয়েছে। আল-হামদু লিল্লাহ সুম্মা আল-হামদু লিল্লাহ।

লেখক: প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক,

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর

2479Shares