| |

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সমর্থন থাকার পরও সরকার ব্যর্থ : এটিএম হেমায়েত উদ্দিন

প্রকাশিতঃ ১০:১৪ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

ডেস্ক রিপোর্ট: আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতিবাচক থাকার পরও বাংলাদেশ সরকার তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন।

আজ বিকেলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাওয়াতী মাস পর্যালোচনা এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, প্রকৌশলী আশরাফুল লাশ, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, শায়খুল হাদীষ মাওলানা মকবুল হোসাইন, আলহাজ্ব হারুন অর রশিদ, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে দ্বি পাক্ষিক চুক্তি রোহিঙ্গাদের মৃত্যুমুখেপতিত করবে। কফি আনান কমিশন অনুযায়ী রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধানই একমাত্র রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরে পেতে পারে, এছাড়া অন্যকোন পদ্ধতিতে তাদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে তাদেরকে বাঘের মুখ থেকে নিয়ে সিংহের মুখে ঠেলে দেওয়া হবে।

তিনি  বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং তাদের বাড়ি ফিরে পাওয়ার নিশ্চিয়তা বিধান না করে তড়িঘড়ি করে মিয়ানমারে পাঠানোর উদ্যোগে মৃত্যুরমুখে ঠেলে দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতাবাসন রোহিঙ্গাদের ইচ্ছার ভিত্তিতে হতে হবে, জোর করে নয়। এই প্রত্যাবাসন নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে এবং রোহিঙ্গারা যেন তাদের মূল বাসস্থান ফিরে পেতে পারে তা নিশ্চিত না করে কোনক্রমেই তাদের প্রত্যাবাসন করা যাবে না।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করার চেয়ে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা ও নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি মিয়ানমারে ফেরতকে নিরাপদ মনে না করে তাদেরকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে মৃত্যুরমুখে ঠেলে দেয়া।

তিনি বলেন, রাখাইনে এখনও রোহিঙ্গা মুসলমানদের হত্যার সংবাদ মিডিয়ার আসছে। রোহিঙ্গাদের মনে এখনও হত্যা-ধর্ষণের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছে। এ জন্য উদ্বেগ ও শঙ্কা তাদেরকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। কাজেই সেখানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে তাদেরকে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ শুভ লক্ষণ নয়। দেশটির সেনাবাহিনীর নীতির পরিবর্তন না হলে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফেরত পাঠানো নিরাপদ হবে না বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। এমতাবস্থায় মুসলিমবিশ্বকে এব্যাপারে আরো জোরালো ভুমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারকেও জাতিসংঘ শান্তিবাহিনীর মাধ্যমেই তাদের প্রত্যাবাসন করার ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।

933Shares