| |

রাজনীতির মাঠে সরব ছিল ইসলামী আন্দোলন

প্রকাশিতঃ ৬:১৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ২৮, ২০১৮

বায়েজীদ মুন্সী : ২০১৭ সালের শুরু থেকেই রাজপথে সরব ছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বিতর্কিত শিক্ষাআইন ও শিক্ষানীতি বাতিলের দাবি, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন, সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি অপসারণ, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ নানা ইস্যুতে গত জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি। এ ছাড়াও হাওরাঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে সুদমুক্ত ঋণ প্রদানের দাবি, ভারতের গো-রক্ষার অজুহাতে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদ, বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধের দাবিতে ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাস ও জাতিসংঘের কার্যালয় ঘেরাও, জেলায় জেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন এবং সর্বশেষ রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভাল অবস্থান সৃষ্টি করে রাজনৈতিক মাঠে সরব ছিল দলটি।

ইসলামী আন্দোলনের ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো কর্মসূচি পালন করে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো, ৩রা ফেব্র“য়ারী সুপ্রিমকোর্ট প্রঙ্গণ থেকে গ্রিক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবিতে ঢাকায় গণমিছিল। এতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে। এছাড়াও দেশের সৌন্দর্য ধ্বংস করে সরকার সুন্দরবন ধ্বংস করতে ভারতকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন ও রূপপুরে ভয়াবহ দুষণকারী পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদ, শিক্ষাআইন ও শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে। ১৫ জানুয়ারী শিক্ষাআইন ও শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে বরিশালে বিভাগীয় মহাসমাবেশ, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারার প্রতিবাদে ১৭ জানুয়ারী বিক্ষোভ, নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ৯ জানুয়ারি বিকেলে বঙ্গবভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই’র নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ, সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে গ্রীক দেবীর মূর্তি অপসারণের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১২ ফেব্র“য়ারি রোববার সারাদেশে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির নিকট স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি পালন করে। ১৫ ফেব্র“য়ারী প্রধান বিচারপতির নিকট স্মারকলিপি পেশ করা হয়, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় ১৩ মার্চ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি সফলের জন্য দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ১৮ মার্চ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে গ্রিক দেবীর মূর্তির অপসারণের দাবিতে অনুষ্ঠিতব্য গণসমাবেশ সফলের আহ্বান জানায়। গ্রিক মূতি অপসারণের দাবিতে ২১ এপ্রিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ। মঙ্গল শোভাযাত্রা দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ পালন।

হাওরাঞ্চলকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে সুদমুক্ত ঋণ দেয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ, মাহে রমজানের পবিত্রতা রক্ষা ও দ্রব্যমূল্যেল উর্ধ্বগতির প্রতিবাদে মাসব্যাপী কর্মসূচী পালন। সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জের দুগর্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ, প্রথম কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাসে নামাজ আদায়ের জন্য মুসলমানদের প্রবেশ করতে ইসরাইলী সরকারের বাঁধা প্রদান এবং মুসলমানদের উপর হামলা চালিয়ে তাদের হত্যা ও আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ জুলাই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল। ভারতের গো-রক্ষার অজুহাতে মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে আগামী ১৪ জুলাই বিক্ষোভ সমাবেশ এবং রাজধানীর ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ও চিকনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় ব্যর্থতার প্রতিবাদে ১৯ জুলাই মেয়র ভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। পবিত্র ঈদুল আযহায় গরীব ও অসহায়দের মাঝে কুরবানীর গোস্ত বিতরণ, সাত জেলার বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, ১১ আগস্ট থেকে ২২ সেপ্টেম্বর’১৭ পর্যন্ত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন।

২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত অঞ্চলকে নিরাপত্তা জোন হিসেবে ঘোষণা, আরাকানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যাকারী সামরিক জান্তা ও অং সান সুচির আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিয়ে স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকাস্থ জাতিসংঘ কার্যালয় অভিমুখে গণমিছিল ও স্মারকলিপি কর্মসূচি পালন করে।

১৩ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধের দাবিতে ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাস ঘেরাও ৯ ডিসেম্বর জেলায় জেলায় বিক্ষোভ ১৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী দোয়া ও কুনুতে নাজেলা ১৮ ডিসেম্বর মিয়ানমার অভিমুখে লংমার্চ। ১০ সেমেপ্টম্বর নির্বাচন কমিশনের সাথে ইসলামী আন্দোলনের সংলাপ ১৫ দফা সুপারিশ পেশ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে সবচেয়ে বেশি এবং সব ধরণের সহযোগিতা করে এ সংগঠনটি। যা বিবিসি’র জরিপে প্রকাশিত হয়েছে। (৫ অক্টোবর) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করায় আমেরিকান দূতাবাস অভিমুখে গণ মিছিল কমসূচী পালন ও ১৫ ডিসেম্বর দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে।রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ভাল অবস্থান সৃষ্টি এছাড়াও বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে হাতপাখার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করে দলটি।
জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরই মধ্যে দলটি সারাদেশে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সেই লক্ষে পুরোদমে চলছে প্রার্থী বাছাই কার্যক্রম।
উল্লেখ্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১৯৮৭ সালে ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়। সর্বপ্রথম এই সংগঠন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নামে আত্মপ্রকাশ করে। সর্ব প্রথম এ সংগঠনের আমীর নির্বাচিত হন মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করিম, ও সমন্নয়ক এর দায়িত্ব পালন করেন ব্যারিষ্টার কোরবান আলী। এ দলটির ৯টি সহযোগী সংগঠন রয়েছে।

এগুলো হলো ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামী যুব আন্দোলন, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, ইসলামী আইনজীবি পরিষদ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম, ইসলামী সাংস্কৃতিক জোট, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম পরিষদ।

166Shares