| |

স্বাধীন বাংলাদেশে কলঙ্কিত নির্বাচন : অামাদের শিক্ষা

প্রকাশিতঃ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ৩১, ২০১৮

১. বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কিত নির্বাচন ছিল ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালের। এ দিনে দেশে নির্বাচনের নামে সংঘটিত হয় এক নির্লজ্জ প্রহসন। ভোটহীন, প্রার্থীহীন ও আসন ভাগাভাগির ভুয়া নির্বাচনের এই দিনটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি খারাপ নজির হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

জনগণের ভোটাধিকারকে ৫ জানুয়ারি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করা হয়। নির্লজ্জ প্রহসনের অংশ হিসেবে এই নির্বাচনে ভোট ছাড়াই প্রথমে ১৫৩টি এবং পরে একটিসহ মোট ১৫৪টি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বর্তমান ক্ষমতাসীনেরা ভোটের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ‘নির্বাচিত’ হয়ে যান। ৫ জানুয়ারির ভোটের দিন বাকি ১৪৬টি আসনে গড়ে ৫ শতাংশ ভোটও পড়েনি। এরপর স্থানীয় প্রায় সকল নির্বাচনেই ক্ষমতাসীনরা ব্যাপক কারচুপি, অনিয়ম ও ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে। কিছুদিনের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হওয়া সিটি নির্বাচনগুলোতেও তারা ভোট ডাকাতির তাসের রাজ্যে পরিণত করেছে।

২. বাংলাদেশে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। ১৯৯৬ সালের এ নির্বাচন আওয়ামীলীগসহ অধিকাংশ বিরোধী রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। মোট ভোট গৃহীত হয়েছিল মাত্র ২১%।বিএনপি নির্বাচনে জয় লাভ করে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৭৮টি আসন লাভ করে।

প্রহসনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছিল ১৯শে মার্চ ১৯৯৬ সালে এবং অধিবেশন স্থায়ী ছিল চার কার্যদিবস ২৫শে মার্চ ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত। ৩০শে মার্চ ১৯৯৬ সালে সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এ সংসদ স্থায়ী ছিল মাত্র ১২ দিন।

পরবর্তীতে আওয়ামী-জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ব্যাপক অান্দোলনের মুখে বিএনপি পুণরায় নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। জুনে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ তখন সরকার গঠণ করে।

৩. হোসাইস মোহাম্মাদ এরশাদের অামলে ১৯৮৬ সালে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচন বর্জনের মধ্যে অক্টোবরে আয়োজিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরশাদ তাঁর জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছর মেয়াদকালের জন্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এর আগে কারচুপির মধ্যে অনুষ্ঠিত মে-১৯৮৬ সালের সংসদীয় নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। আওয়ামীলীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল আর বিএনপি এ নির্বাচন বর্জন করেছিল।

তবে বিরোধী দলের প্রবল আন্দোলনের মুখে ১৯৮৭ সালের ৭ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি এরশাদ তৃতীয় জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। প্রধান বিরোধী দলগুলো ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনেও ব্যাপক ভোট ডাকাতির কারনে তা বর্জন করে। এসময় এরশাদ সাহেবের অপশাসনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর অবিরাম আন্দোলন চলতে থাকে এবং প্রবল গণঅভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সূতরাং ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদল আপনারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিন। জোর জবরদস্তির শাসন কখনো স্থায়ী হয় না। প্রবল গণজোয়ারের মুখে শাসন ক্ষমতা কখনো স্থায়িত্ব লাভ করে নি। সম্প্রতি অারব বসন্তের কথা হয়ত ভুলে যান নি। মিশরের হোসনি মোবারক, লিবিয়ার গাদ্দাফি, তিউনিশিয়ার বেন অালী, মালয়েশিয়ায় একক কর্তৃত্বে থাকা নাজিব রাজাকের পতন নিশ্চয় আপনারা দেখছেন।

পাকিস্তানে দুই রাজনৈতিক বলয়ের বাহিরে এসে ইমরান খান যেভাবে ২২ বছরের ব্যবধানে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তদ্রুপ এ দেশেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দু’দলের বাহিরে যেভাবে অগ্রসর হচ্ছে এতে গঠনমূলক কর্মপদ্ধতি, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী বাহিনী এবং ব্যাপক জনসম্পৃক্ত হতে পারলে ইনশাঅাল্লাহ তাদের লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে বহুদূর।

 

জি.এম. রুহুল আমীন

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইশা ছাত্র অান্দোলন। বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (প্রবাসী), ইসলামী যুব আন্দোলন।

715Shares