| |

সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার: মুফতী ফয়জুল করীম

প্রকাশিতঃ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

অাবদুল ওহাব, নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আওয়ামী সরকার জনতার রায়কে ভয় পায়। বিনা ভোটে পেশি শক্তি প্রদর্শন করে এ সরকার মতার বাগডোর ধরে রাখতে মরিয়া। ৫ জানুয়ারীর অবৈধ প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতা দখল করেছিল। জনতার রায়ের প্রতি তাদের আস্থা নেই। তারা বুঝে গেছে, জাতি তাদের নিষ্পেষণে অতিষ্ঠ হয়ে নৌকা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এখন তারা নপুংসক নির্বাচন কমিশন আর ভোটচুরির মেশিন ইভিএম দিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে চায়। দলীয় সরকার বহাল রেখে ভোট লুটের মহোৎসবের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়। কিন্তু জনগণ আর ধোকা খেতে চায়না। দেশবাসী নির্দলীয় নিরপে সরকারের অধীনে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য আজ ঐক্যবদ্ধ। নির্বাচনের পূর্বে সংসদ ভেঙ্গে দিতে জনতা আওয়ামী লীগকে বাধ্য করবে।

আজ শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর’১৮) বাদ জুমআ নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনী রেলওয়ে চত্ত¡রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেগমগঞ্জ থানা শাখা কর্তৃক আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম  সংগঠিত হয়েছে মানুষকে অধিকার বঞ্চিত করার ফলশ্রুতিতে। পাক শাসকরা এদেশের মানুষকে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সকল ক্ষেত্রেই শোষণ করেছে। মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে নিষ্পেষিত জনতাকে স্তব্ধ করতে চেয়েছে। কিন্তু স্তব্ধ করা সম্ভব হয়নি। অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এদেশের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়েছে। অসম যুদ্ধে শক্তিশালী পাক হানাদারদের পরাভূত করেছে। ইতিহাস থেকে আওয়ামী লীগের শিক্ষাগ্রহণ করা উচিত। আওয়ামী স্বৈরশাসনের ফলে দেশে বেকারত্ব, খাদ্যাভাব আর ভূখা মানুষের মিছিল বেড়েছে। মধ্যবিত্ত স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনযাপন কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। দেশে সিন্ডিকেট করে দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তদন্তে দেখা যাচ্ছে এসবের হোতা আওয়ামী ক্যাডাররাই।

তিনি বলেন, জনগণের আয় না বাড়লেও সরকারদলীয় নেতারা দিন দিন আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। রাতারাতি আলীশান গাড়ী-বাড়ীর মালিক বনে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়মীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সহ সকল শাসক গোষ্ঠীর কাছ থেকে আমরা এমন আচরণই পেয়ে আসছি। আমরা তথাকথিত ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন বিএনপি সরকারের মদের লাইসেন্স প্রদান, মসজিদ ধ্বংস, দেশকে দুর্নীতিতে বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মহড়া দেখেছি। স্বৈরাচারী এরশাদের স্বার্থসিদ্ধির রাষ্ট্রধর্ম সংবিধানে প্রতিস্থাপন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহকে অকার্যকর করণ দেখেছি। এর মূল কারণ, আল্লাহ ভীরু, সৎ ও দক্ষ শাসকের অভাব। স্বার্থপর রাষ্ট্রীয় নীতির প্রভাব। আমরা এর উত্তরণ ঘটাতে চাই। খোলাফায়ে রাশেদার নমুনায় কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। এজন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে দেশের ৩০০ আসনেই এককভাবে সংসদ সদস্য প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। হাতপাখায় ভোট দিয়ে আমাদের কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ার মহৎ সংগ্রামে সকল শান্তিপ্রিয় নাগরিকের সমর্থন কাম্য। মুফতী ফয়জুল করীম এসময় নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত হাতপাখার সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ মাওলানা নজীর আহমাদকে জনতার সামনে দাড় করিয়ে পরিচিয় করিয়ে দেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বেগমগঞ্জ থানা সভাপতি মাওলানা নূরুদ্দীন আমানতপুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াকুব নূরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাওলানা খলীলুর রহমান, ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য হাফেয সাখাওয়াত উল্লাহ, নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নোয়াখালী জেলা সভাপতি হাফেয মাওলানা নজীর আহমাদ, শ্রমিক আন্দোলন নোয়াখালী উত্তরের সভাপতি মহিউদ্দিন, ইশা ছাত্র আন্দোলন নোয়াখালী জেলা উত্তরের সহ-সভাপতি আবদুল ওহাব মাসুম, ইসলামী যুব আন্দোলন বেগমগঞ্জ থানা সভাপতি দিলাওয়ার হোসাইন, ইশা ছাত্র আন্দোলন বেগমগঞ্জ থানা পশ্চিমের সভাপতি নূরুল আমীন, বেগমগঞ্জ থানা পূর্বের সভাপতি হাবিবুর রহমান, চৌমুহনী পৌর সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সহ থানা ও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ।

বেগমগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলন মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সংগঠনের জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা নজীর আহমাদ বলেন, বেগমগঞ্জ দেশের উলে­খযোগ্য জনপদ হলেও এটি বরাবরই অবহেলিত। সুবিচার ও সেবামূলক প্রকল্প থেকে সিংহভাগ মানুষ বঞ্চিত। রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় প্রতিনিয়ত কষ্টে ভুগছে এ অঞ্চলের মানুষ। শিার উন্নয়নে সাংসদদের দৃষ্টি অনুলে­খযোগ্য। এসব দুর্বিষহ পরিস্থিতি উত্তরণ করে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লে­খিত সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করে আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে চাই। লাখো জনতার রক্তের মূল্যায়ন করতে চাই। এজন্য আমি হাতপাখা প্রতীকে আপনাদের ভোট, দোয়া ও সহযোগিতা প্রার্থী।

বিশাল জনসভাটি গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এটি ১৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ লক্ষ্য করা গিয়েছে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতার স্বতঃস্ফূর্ত  অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। জনতার ব্যাপক উপস্থিতির ফলে শহরের রেলওয়ে চত্ত্বরসহ ফেনী-নোয়াখালী প্রধান সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

1Shares