| |

কিশোরগঞ্জে ইসলামী আন্দোলনের নিবার্চনী যৌথ সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিতঃ ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ | এপ্রিল ০৬, ২০১৮

kishoreganj news

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি: গতকাল ৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে সংসদ সদস্য প্রার্থীদের নিয়ে জেলা কার্যালয়ে এক নির্বাচনী যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা মহিউদ্দীন আজমীর উপস্থাপনায় জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বামুক জেলা ছদর মাওলানা সৈয়দ আলী আনসার যায়েদ, বামুক জেলা সেক্রেটারী আল মামুন।

সভাপতি হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আমাদের জন্য এক চ্যালেঞ্জ। সকল বাতিল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছে আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পীর সাহেব চরমোনাই নেতৃত্বে ইসলামকে বিজয়ী করতে মাঠে থাকবে, ইনশাআল্লাহ। পীর সাহেব চরমোনাই এর ঘোষণা অনুযায়ী ৩০০ আসনে একক ভাবে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী থাকবে।

প্রধান অতিথি মাওলানা আলী আনসার যায়েদ বলেন, বর্তমানে হাতপাখার জোয়ার বইছে, যে দিকেই নির্বাচন হচ্ছে আমাদের প্রার্থীদের বিপুল সাফল্য লক্ষ করা যাচ্ছে। আমরা নির্বাচন করবো ইসলামেকে বিজয়ী করতে। গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র এবং যত রকম কুফুরি মতবাদ আছে তাদের বিপরীতে ইসলামী শাসনতন্ত্র বাস্তবায়নে আমরা নির্বাচনী মাঠে ঐক্যবদ্ধ প্রাচীরের ন্যায় থাকবো।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ -০১ (কিশোরগঞ্জ-হোসেনপুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মহিউদ্দিন আজমী। তিনি তার বক্তব্য নির্বাচনী এলাকার কার্যক্রম, প্রচারনা, গনসংযোগ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন। তিনি সবার প্রতি আহবান রাখেন পীর সাহেব চরমোনাই ইসলামের পক্ষে ব্যালেট বাক্স দিয়েছেন, হাতপাখা মার্কা নিয়ে আমরা মাঠে থাকবো। আমি ব্যক্তি বা দলের ভোট চাই না বরং ইসলামের পক্ষে হাতপাখা মার্কায় ভোট চাই এবং দেওয়ার আহবান জানাই।

কিশোরগঞ্জ-০২ (কটিয়াদি- পাকুন্দিয়া) আসনের মনোনীত প্রার্থী সালাহ উদ্দীন আহমেদ রুবেল তার বক্তব্যে বলেন আমরা আশাবাদী। আমরা এককভাবে নিবার্চন করবো। বর্তমান এবং বিগত দল সমূহের কার্যকলাপে মানুষ অতিষ্ঠ। আমরা হাতপাখার দাওয়াত দিয়ে যে দিকেই যাচ্ছি মানুষ সাদরে গ্রহণ করছে আমাদের। মানুষ আজ ভাল মানুষ চায়, যারা মানুষ এবং দেশের জন্য কাজ করে যাবে।

কিশোরগঞ্জ-০৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে মনোনীত প্রার্থী হাফেজ মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার বলেন, মুসলমানের দেশ, এখানে ইসলামী দলকেই বিজয়ী করবে এটাই স্বাভাবিক যদি আমরা আমাদের দাওয়াত তাদের কাছে পৌছে দিতে পারি। ইসলামী শাসনতন্ত্র বাস্তবায়নে হাতপাখার বিকল্প নেই। আগামী ১২ মার্চ তাড়াইলে তার নির্বাচনী পথ সভায় অংশ গ্রহণ করার আহবান জানান।

কিশোরগঞ্জ-০৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসনের মনোনীত প্রার্থী বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হাফেজ মাওলানা আহসানুল্লাহ বলেন, আমরা নির্বাচনী এলাকা হাওড় অঞ্চল। এখানে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর তবুও আমি আপনাদের আশাবাদী করতে পারি যে হাওড় অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার চমক দেখাবে ইনশাআল্লাহ।

কিশোরগঞ্জ-০৬ ( ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের প্রার্থী বিশিষ্ট সমাজসেবক মুসা খান বলেন, আমরা সংসদের এমপি মন্ত্রী হওয়ার জন্য নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করি না, যদি করতাম তবে আমরা এমপি মন্ত্রী হতে পারতাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে জোটবদ্ধ হতে পারতাম। কিন্তু আমরা দুনিয়াবি স্বার্থে রাজনীতি করি না। আমাদের মরহুম শায়েখ বলে গেছেন আমরা রাজনীতি করি না বরং ইবাদত করি।

বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সহকারী দফতর সম্পাদক আশরাফ আলী সোহান। বক্তব্যে তিনি ইসলাম প্রচারে মিডিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন সামনের জাতীয় নির্বাচন আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মিডিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি নির্বাচনী প্রার্থীদের সাংবাদিকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেন এবং নির্বাচনী বিভিন্ন দিক পরামর্শ প্রদান করেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা ইমদাদুল্লাহ, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওলানা মোস্তফা কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শফিকুল ইসলাম ফারুকী, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমাদ, দফতর সম্পাদক হাদিউল ইসলাম, সহকারী অর্থ সম্পাদক হাফেজ রিদুওয়ান আহমেদ।

পরিশেষে বক্তব্য রাখেন ইশা ছাত্র আন্দোলন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ছাত্র নেতা জোবায়ের আহমাদ, ইসলামী যুব আন্দোলন জেলা সভাপতি মুফতি বরকত হোসাইন ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী দিকনির্দেশনা ও দোয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

0Shares