| |

খুলনায় ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থীর ২৫ দফা ইশতেহার ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ৮:১৬ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ৩০, ২০১৮

শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধিঃ খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজাম্মিল হক (হাতপাখা) ২৫ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

সোমবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ ইশতেহার ঘোষনা করেন। ইশতেহার তুলে ধরা হলো :

১. নগরীতে ন্যায় বিচার ও নাগরিক সেবা প্রতিষ্ঠা: ক) শিল্পনগরী খুলনার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে পরিবেশ বান্ধব বাসযোগ্য মহানগর গড়ে তোলা হবে। খ) সকল শ্রেণীর মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে নাগরিকদের মাঝে ন্যায্য সেবার ব্যবস্থা করা হবে। গ) নাগরিক সেবার সকল কার্যক্রমকে ওয়ার্ড পর্যায়ে পৌছে দেয়া হবে।

২. স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়ন: ক) প্রতিটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি হেলথ সেন্টার আধুনিকীকরণ করার মাধ্যমে সর্বসাধারনের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করা হবে। খ) সিটি হেলথ ডাটাবেস গঠন ও সেবা প্রদান করা হবে। গ) সিটি কর্পোরেশনের নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র সমূহ আধুনিকীকরণ করা হবে। ঘ) নগরবাসীর সুবিধার্থে পথচারী নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ব্যবহার উপযোগী আধুনিক টয়লেট স্থাপন করা হবে। ঙ) সিটি কর্পোরেশনের কমিউনিটি হাসপাতালগুলোতে মহিলাদের মাতৃত্বকালীন এবং ৫ বছর পযর্ন্ত সব শিশুর বিনা খরচে চিকিৎসা সেবার নিশ্চিত করণ। চ) মশক নিধন টিম গঠনের মাধ্যমে মশক নিধন ও সংক্রামক ব্যাধি প্রতিষেধক সাপ্তাহিক কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে ।

৩. শিক্ষা ব্যবস্থার মান-উন্নয়ন: ক) বিভিন্ন স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে নৈশকালীন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ওয়ার্ড ভিত্তিক শতভাগ সাক্ষরতার হার অর্জন করা হবে। খ) নগরীর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে বিভিন্ন কোর্স (যেমন: কম্পিউটার, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, বিদেশি ভাষা শিক্ষা ইত্যাদি) চালু করা হবে। গ) দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা ঋণ কার্যক্রম চালু করা হবে। ঘ) সিটি কর্পোরেশনের অধীন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা সমূহের আধুনিকায়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ। ঙ) বাস্তবমুখী গনশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হবে । চ) শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য সকল প্রতিষ্ঠানে মাসিক প্রতিবেদন গ্রহন ও যোগ্য শিক্ষক প্রদানে সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছ) সকল ধর্মের মানুষের জন্য প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

৪. সুপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ক) নগরীর ধুলাবালি দূরীভুত করণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ধিংঃব ফরংঢ়ড়ংধষ ভরবষফ (ওয়েস্ট ডিসপোসাল ফিল্ড) গড়ে তোলা হলে। খ) পরিচ্ছন্ন খুলনা নগরী গড়ার লক্ষ্যে প্রতিদিন রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে সকল বর্জ্য আবর্জনা অপসারনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব। গ) পরিকল্পিতভাবে প্রয়োজনীয় স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন ও বিশ্বের আধুনিক নগরীর মতো (ডোর টু ডোর) ওয়াস্ট কালেকশন পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণ করা হবে। ঘ) বর্জ্য থেকে সম্পদ আরোহনের লক্ষ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

৫. শিল্পাঞ্চল খালিশপুর পুনরুদ্ধার করণ ও নতুন শিল্পাঞ্চল গঠন: ক) বিজেএমসি এর সাথে সমন্বয় করে খালিশপুরের সকল পাটকল গুলোর সবধরনের সমস্যা দূরীকরণের মাধ্যমে সেগুলো চালু করা হবে। খ) সকল ধরনের শিল্প কলকারখানার শ্রমিকদের বেতন ভাতা নিয়মতান্ত্রিক পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে কারখানাগুলো সচল রাখা হবে। গ) নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে সকল ধরনের কলকারখানা স্থাপনের জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করা ও আর্থিক ঋণপ্রদান করা হবে।

৬. জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ক) পর্যায়ক্রমে প্রতিটি সড়ক লেন সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। খ) জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পুলিশের সহায়তায় ওয়ার্ড ভিত্তিক অপরাধ প্রবন জায়গা সমূহ চিহ্নিতকরণ ও সকল ধরনের অপরাধ দমনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। গ) ওয়ার্ড/লেন/গলিভিত্তিক নৈশপ্রহরী ও কমিউনিটি পুলিশের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে চালু করা হবে। ঘ) যেকোন মাজলুম নাগরিককে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে নৈতিক ও আইনগত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ৭. নগর পরিকল্পনা ও প্রশাসন: ক) নগরীর সম্মানিত শ্রেণী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবি ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সম্পন্নদের সমন্বয়ে সিটি প্লানিং টিম গঠন করা ও তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করব। খ) নগরীর সমস্যা চিহ্নিতকরনে এবং তার দ্রুত কার্যকারী সমাধানে নগর পরিকল্পনাবীদদের কাজের পরিধি বাড়ানো ও দেশে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী পরিকল্পনাবীদদেও সাথে পরামর্শ করা হবে। গ) ওয়ার্ড ভিত্তিক বাজেট প্রনয়ণ ও বাজেট প্রনয়ণে বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবীদদের মতামত গ্রহণ করা। ঘ) নগরীর সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ৯০ দিনের ( ত্রৈমাসিক) কর্মসূচী গ্রহণ করা । ঙ) আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশনের অধিনে বেশী বেশী বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।

৮. সমাজসেবার পূর্ণ ব্যবস্থা: ক) কবরস্থান ও শশ্মান এর উন্নয়ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। খ) সামাজিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক নবীন প্রবীনের সমন্বয়ে নাগরিক কমিটি গঠন, সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন ও সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ হবে। গ) নগর বাসীর আবাসিক সমস্যা সমাধানে কেডিএর সাথে সমন্বয় করে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করব। ঘ) সকল ধরনের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমূহের উন্নয়ন ও প্রয়োজনে নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হবে।

৯. প্রযুক্তি নির্ভর খুলনা গঠন: ক) সিটি কর্পোরেশন এর সকল সেবা কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা ও সকল ধরনের ট্যাক্স অনলাইনে প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। খ) অনলাইনে সকল সনদপত্রের প্রাপ্তি, দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য বিজ্ঞপ্তির প্রকাশ করন। গ) সিনিয়র সিটিজেন হেল্প সার্ভিস চালু করা হবে। ঘ) নগরীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল সিস্টেমে পাঠদান ও অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যবস্থা করব। ঙ) মোবাইল অপারেটর ও অনলাইন ব্যাংকিং এর মাধ্যমে সকল ধরনের বিল প্রদানের ব্যবস্থা করন। চ) ২৪ ঘন্টা যেকোন সার্ভিস পেতে হেল্পলাইন চালু করা হবে।

১০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন: ক) দুর্নীতি দমনের জন্য ধর্মীয় অনুভুতি সৃষ্টি করার ব্যবস্থা করা হবে। যেকোন দুর্নীতির উৎস খুজে বের করে তার মুলউৎপাটন করা হবে। খ) সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদকের যোগানদাতাদের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনী সহায়তায় তা নির্মূল করা হবে। গ) মাদক সেবনকারীদের শাস্তি দিয়ে নয় বরং কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে তা থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থাগ্রহন করা হবে। ঘ) ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুর্নীতি সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে সেমিনারের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরী করা হবে।

১১. বৃদ্ধাশ্রম তৈরী ও বয়স্ক ভাতা প্রদান: ক) অসহায় বয়স্কদের কষ্ট লাঘবের জন্য নগরীতে প্রয়োজনমত আধুনিক বৃদ্ধাশ্রম তৈরী করা হবে। খ) অবহেলিত বৃদ্ধদের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। গ) বয়স্কদের সমাজে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নগরীতে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সেমিনারের আয়োজন করা হবে।

১২. বিদ্যুতের সুব্যবস্থাপনা: ক) দৃষ্টিনন্দন ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সড়কবাতি স্থাপন এবং নগরীর অন্ধকার দুরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। খ) নগরীর বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে । গ) নগরীর পরিত্যাক্ত নষ্ট ল্যাম্পপোস্টগুলোর প্রতিস্থাপন করা এবং অন্ধকার রাস্তাসমূহে নতুন ল্যাম্পপোস্টের ব্যবস্থা করা হবে। ঘ) গুরুত্বপূর্ণ সময়ে (বিশেষত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়ে, রমজান মাসে, বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সময়) লোডশেডিং দূরীকরনের ব্যবস্থা করা হবে। ঙ) নগরীর প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করা হবে।

১৩. বেকারদের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন: ক) কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থার যথাযথভাবে কার্যকর ব্যবস্থা করা হবে। খ) শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবশক্তির কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কৃষি খামার গড়ে তোলার লক্ষ্যে উৎসাহ প্রদান ও নগর অর্থবিভাগ হতে ‘কর্যে হাসানাহ’ খাতের মাধ্যমে ঋনের ব্যবস্থা করা হবে । গ) শিক্ষিত বেকার যুবকদের ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং ফ্রি ল্যান্সিং বা ই-ল্যান্সিং ট্রেনিং দিয়ে আয়ের পথ সৃষ্টি করা হবে।

১৪. ক্রীড়া, সংস্কৃতিক উন্নয়ন ও বিনোদন: ক) আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা ও যেকোন অপসংস্কৃতির আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। খ) নগরীর জনগনের মাঝে সংস্কৃতিক গণসচেতনতা সৃষ্টি ও নগরের স্থানীয় গণমাধ্যমের সহযোগীতায় সকলকে নৈতিক শিক্ষা ও মনুষত্য বিকাশের মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা হবে। গ) ইসলাম ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থি নয় এমন সকল ক্রীড়া ও শিল্পকলা বিকাশের পূর্ণ সুযোগ দেয়া হবে। ঘ) যেসব ওয়ার্ডে ব্যায়ামাগার নেই সেসব ওয়ার্ডে আধুনিক ব্যায়ামাগার তৈরী করা হবে। ঙ) প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা হবে। চ) প্রতিটি থানায় একটি করে সুষ্ঠু বিনোদনের লক্ষ্যে নারী ও শিশুদের জন্য পার্কের ব্যবস্থা করা হবে।

১৫. সংখ্যালঘু ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মান-উন্নয়ন: ক) পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় সংখ্যালঘু ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর সকল প্রকার নাগরিক অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হবে। খ) সকল ধর্মের নাগরিকদের ধর্মীয় শিক্ষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ প্রদান করা হবে। গ) বিদ্যমান প্রতিবন্ধী স্কুল বৃদ্ধি করন ও প্রতিবন্ধী পুর্নবাসন কেন্দ্র উন্নয়ন ও প্রয়োজনে নতুন পুর্নবাসন কেন্দ্র স্থাপন করা। ঘ) অসহায়, আশ্রয়হীন পথশিশু ও অবহেলিত মহিলাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। ঙ) বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরন।

১৬. নারী ও শিশুদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা: ক) নারী নির্যাতন ও যৌতুক প্রথা উচ্ছেদে শুধু আইনের যথাযথ প্রয়োগই নয় বরং সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। খ) শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারী সমাজের নিরপত্তা ও সম্মান সুরক্ষায় কঠোর আইন তৈরী করা হবে। গ) শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও কন্যাশিশু লালন পালনে সকলের মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। ঘ) মহিলাদের জন্য পৃথক ‘লেডিস মার্কেট’ ও মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। ঙ) নারীসমাজের অবমাননা, সামাজিক অবক্ষয় ও এইডস প্রতিরোধে নগরীতে পতিতাবৃত্তি, ব্যভিচার, লিভ টুগেদার ও ইভটিজিং প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। চ) নারীদের জন্য অবমাননাকর এবং ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বাণিজ্যিক প্রদর্শনী থেকে নারী সমাজকে বিরত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

১৭. সুপরিকল্পিত নগরী গঠন: ক) ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার কথা বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনামাফিক নগরী সম্প্রসারণ করা হবে। খ) সিটি কর্পোরেশনের জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও যুগোপযোগী নীতিমালা প্রনয়ণ করা হবে। গ) দক্ষ জনবল ধরে রাখার জন্য যথাযথ মানব সম্পদ নীতিমালা প্রনয়ণ করা হবে। ঘ) সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং সকল ওয়ার্ড কাউন্সিলরের জন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিতকল্পে নৈতিক আচরণবিধি প্রনয়ণ করা হবে। ঙ) প্রতি বছর মেয়রের কর্ম মূল্যায়ন ব্যাখ্যা সহকারে রিপোর্ট কার্ড আকারে প্রকাশ করা হবে। চ) প্রতিবছর সংবাদ মাধ্যমে অথবা বিশেষজ্ঞদের মধ্য থেকে একজনকে শ্রেষ্ঠ সমালোচক হিসেবে গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। ছ) প্রতিবছর বাজেট প্রনয়ণের ৩ মাস পূর্ব হতে যেকোন নাগরিকের পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। জ) প্রতি ত্রৈমাসিক টাউন হল সভার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ শোনা হবে এবং একই সাথে মেয়রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

১৮. মুক্তিযোদ্ধা ও গুনীজন নাগরিক সম্মাননা: ক) শোষন বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে শ্রেণী বৈষম্যহীন ও দারিদ্রমুক্ত নগরী গড়ে তোলার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নকারীদের সম্মাননা প্রদান করা হবে। খ) নগরের বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতিত্বপূর্ণ অবদানকারীদের যেমন: শিক্ষাখাতে, স্বাস্থ্যখাতে, কৃষিখাতে, শিল্পখাতে ইত্যাদি খাতে গুনীজন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে ও তাদের সম্মাননা প্রদান করা হবে।

১৯. সহজলভ্য ও ভেজালমুক্ত খাদ্য সরবরাহ: ক) ভেজাল খাদ্য বিক্রয় রোধে এবং মানসম্মত খাবার বিক্রয় নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খ) কৃষক ও ভোক্তা সাধারনের সুবিধার্থে নগরীর বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাইট মার্কেট/ ফার্মাস মার্কেট স্থাপন করা হবে। গ) বিভিন্ন সম্ভাব্য জনসমাগম জায়গায় ‘ফুড কোর্ট’ তৈরী করা এবং রাস্তায় যত্রতত্র খাবারের দোকানগুলোকে সেখানে স্থানান্তরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘ) প্রতিটি বাজারে খাদ্য সামগ্রীকে বিষ ও ফরমালিন মুক্তকরনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ ও পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন।

২০. নিরাপদ সড়ক গঠন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: ক) নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের অভ্যান্তরীন রাস্তার সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হবে। খ) ফুটপাত বিহীন রাস্তায় ফুটপাত তৈরী করা ও প্রয়োজনীয় নিরিখে বিদ্যমান ফুটপাত প্রশস্ত করা হবে এবং ফুটপাত ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। গ) বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোড়াখুড়ি বন্ধ করা হবে। ঘ) নগরীর যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ওভারব্রীজ নির্মান ও ট্রাফিক সিস্টেমের উন্নয়ন করা হবে। ছ) প্রতিটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কের পার্শ্বে অত্যাধুনিক যাত্রী বিশ্রামাগার নির্মান করা হবে। জ) রাস্তাগুলো প্রয়োজনমাফিক প্রশস্তকরা ও সড়ক দ্বীপের সৌন্দর্য্যবর্ধন করা হবে।

২১. হোল্ডিং ট্যাক্স ও বাড়িভাড়া: ক) বাসাভাড়া সহনশীল করার জন্য বাড়ির মালিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স ৩০% কমানো হবে। খ) বাড়িভাড়া সহনশীল করার জন্য বাড়ির মালিক-ভাড়াটিয়াদের নিয়ে পৃথক কমিটি গঠন করা হবে।

২২. পানি ও পয়:নিষ্কাষন ও সুপেয় পানি সরবরাহ: ক) পয়:নিষ্কাষন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে নিয়মিতভাবে ড্রেন পরিস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খ) জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এবং নতুন ও প্রশস্থ ড্রেন নির্মাণ করা হবে। গ) সাপ্তাহিক ড্রেন ক্লিন কর্মসূচী নেওয়া হবে। ঘ) খুলনা ওয়াসার সাথে সমন্বয়ে নগরীর সকল ওয়ার্ডে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা । পানির ২৪ ঘন্টা সরবরাহ নিশ্চিত করা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে পানির চাহিদা পূরণ করা।

২৩. মসজিদভিত্তিক সমাজ গঠন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি: ক) মসজিদভিত্তিক সমাজ গঠনের মাধ্যমে সমাজে সুশাসন নিশ্চিত করা। খ) সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রিত সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের (যেমন: ফোরকানিয়া মাদ্রাসা) শিক্ষকদের বেতনভাতা বৃদ্ধি করা হবে। গ) নগরীর অর্ন্তগত সকল মসজিদ, মন্দির, গীর্জার ধর্মীয় নেতাদের প্রধানদের সম্মানী প্রদান করব। ঘ) ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের সম্মানী ভাতা প্রদান করব।

২৪. যানজট নিরসন ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন: ক) নিয়মতান্ত্রিক ভাবে ইজিবাইক, অটোরিক্সাসহ অন্যান্য যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান সাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি প্রদান করা হবে। খ) ট্রাফিক পুলিশের সহযোগীতায় নগরীর যানজটপূর্ণ এলাকায় পরিকল্পিতভাবে যানজট নিরসন করা হবে। গ) টাউন সার্ভিসসহ নগরীর বাসসার্ভিসগুলোর মান উন্নয়ন করা। ঘ) শিক্ষার্থী ও মহিলাদের জন্য পৃথক বাস সার্ভিস চালু করা হবে।

২৫. বিবিধ সমূহ: ক) প্রতিটি ওয়ার্ডে দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করব। খ) নগরীতে আধুনিক কষাইখানা স্থাপন করা হবে। গ) ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ট্রেড লাইসেন্স ফি ৩০% কমানো হবে। ঘ) বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও দুর্ঘটনায় দ্রুত সেবা পৌছানোর জন্য একটা ‘র‌্যাপিড সার্ভাইলেন্স টিম’ গঠন করব। ঙ) হকার্সদের ন্যায্য স্থান ফুটপাত নয়- এই স্লোগানকে সামনে রেখে হকারদের জন্য পৃথক হকার্স মার্কেট তৈরী করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দল্লাহ ইমরান, নগর সহ-সভাপতি শেখ মোঃ নাসির উদ্দিন, নগর সেক্রেটারী মুফতী আমানুল্লাহ, মুফতী মাহবুবুর রহমান, জেলা সেক্রেটারী, শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, সৌদি আরব কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী হাফেজ আসাদুল্লাহ, ইসলামী যুব আন্দেলন কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন, নগর শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম, নগর যুব আন্দোলনের সভাপতি মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, ইশা ছাত্র আন্দোলন জেলা সভাপতি শেখ আমীরুল ইসলাম, নগর সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম, জেলা সহ-সভাপতি এস.কে নাজমুল হাসান , নগর সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ সহ প্রমূখ নেতারা।

1384Shares