| |

জাতীয় মহাসমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের আমীর মুফতি রেজাউল করীম-এর প্রদত্ত ভাষণ

প্রকাশিতঃ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ | অক্টোবর ০৭, ২০১৮

charmonai

৫ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আহুত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জাতীয় মহাসমাবেশে আন্দোলনের মুহতারাম আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) দা. বা. সভাপতির বক্তব্যে যে ভাষণ দিয়েছেন তার পুর্ণাঙ্গ লিখিত ভাষণ আইএবি নিউজের পাঠকদের সমীপে পেশ করা হলো।

আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লিআলা রাসুলিহিল কারীম। আম্মা বাদ! দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত, কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই জাতীয় মহাসমাবেশে উপস্থিত জাতীয় নেতৃবৃন্দ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন, ইসলামী যুব আন্দোলন, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, জাতীয় শিক্ষক ফোরাম, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ ও ইসলামী আইনজীবী পরিষদ-এর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। ওলামায়ে কেরাম, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক বন্ধুগণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত প্রশাসনের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সকল সহযোগী সংগঠনের জেলা-মহানগরসহ সকল শাখা থেকে আগত নেতৃবৃন্দ ও সমবেত দেশপ্রেমিক শান্তিকামী জনতা। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ত্যাগ স্বীকার করে আজকের মহাসমাবেশে উপস্থিত হওয়ায় আমি শুরুতেই সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আমরা কি দাবী নিয়ে আজ এই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমবেত হয়েছি, তা ইতিমধ্যেই আপনারা জানতে পেরেছেন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও বাংলার মানুষকে ভোটের অধিকারের জন্যে আন্দোলন করতে হবে, সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবীতে রাজপথে নামতে হবে, একথা ভাবতেও আমাদের লজ্জা হয়।

ভাইয়েরা আমার! আজকে দেশের সাধারণ নাগরিকদের কোন অধিকার নেই, কোন সম্মান নেই। সকল অধিকার ভোগ করছে ক্ষমতাসীন এবং তাদের দোসররা। অথচ স্বাধীনতা উত্তর দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, স্বাধীন দেশে তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। স্বাধীন নাগরিক হিসেবে মর্যাদা পাবে, সম্মান পাবে। বাক স্বাধীনতা পাবে, ন্যায়বিচার পাবে। জান-মাল, ইজ্জত-আবরু এবং জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। অর্থনৈতিক সাম্য ও রুটি রুজির নিশ্চয়তা পাবে। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, স্বাধীনতা পরবর্তী যারাই ক্ষমতায় এসেছে, সবাই জনগণের স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করেছে। সবাই জনগণের সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। গণ-মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। দেশ শাসনের নামে জনগণকে জিম্মি করে রেখেছে। জনগণের সকল মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। জনগণের সম্পদ লুন্ঠন করেছে। গণতন্ত্রের নামে সর্বত্র দলীয়করণ এবং স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। গুম ও খুনের রাজত্ব কায়েম করেছে। দুর্নীতি, লুটপাট এবং সুদ ও ঘুষকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। শাসক শ্রেণীর এহেন কর্মকান্ডের ফলে স্বাধীনতা আজ অর্থহীন হয়ে পড়েছে। গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। দেশ আর এভাবে চলতে পারে না।

সংগ্রামী ভাইয়েরা আমার! এ অবস্থার পরিবর্তনের জন্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন দরকার। শুধু একটি ভাল নির্বাচন হলেই দেশ ঠিক হয়ে যাবে না। অতীতে এমন বহু নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু কোন পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচিত এবং অনির্বাচিত দুই ধরনের স্বৈরাচারই দেখেছে। ঘুরে ফিরে সেসব স্বৈরাচারী শক্তিকে আবার ক্ষমতায় বসালে দেশে অশান্তি আরো বাড়বে। জনগণ তাদের অধিকার ফিরে পাবে না। জনগণের অধিকার ফিরে পেতে হলে, দেশকে ভালো করতে হলে, দুর্নীতি, দুঃশাসনমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে, ভালো নেতার অধীনে ভালো নীতির বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। কিন্তু বিগত দিনে দেশ শাসনের ভালো নীতি ও পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়নি। ভালো নেতা নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করা হয়নি। ক্ষমতাসীনরা নিজেদের স্বার্থে বারবার সংবিধানে পরিবর্তন ঘটিয়েছে। নিজেদের বানানো সংবিধানের দোহাই দিয়ে বারবার কৃত্রিমভাবে জাতীয় সংকট সৃষ্টি করেছে। অনৈতিকভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে সংবিধানকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে।

সংগ্রামী ভাইয়েরা আমার! দেশের মানুষ আজ আতঙ্কিত। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরাও আজ চিন্তিত। পরস্পর বিরোধী দু’টি প্রধান রাজনৈতিক জোট আজ মুখোমুখী অবস্থান নিয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। দেশময় সংঘাত আর সহিংসতার অশনি সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ নবম জাতীয় সংসদে একতরফাভাবে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাশ করার পর থেকেই রাজনৈতিক সংকটে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আমরা বারবার রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে ক্ষমতাসীনদের কাছে দাবী জানিয়ে আসছি। দেশের প্রায় সব রাজনৈতিকদল এবং নাগরিকসমাজের প্রতিনিধিগণ সরকারী দলের প্রতি সংকট সমাধানের উদ্যোগ গ্রহনের কথা বলে আসলেও, ক্ষমতাসীনরা সঠিক কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি। তারা দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকেই ধ্বংস করে ফেলেছে। বিগত ১০ বছরে দেশে কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোতেও জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেনি। ক্ষমতাসীনরা তাদের দলীয় লোকদেরকে নির্বাচিত করার জন্যে এহেন কাজ নেই যা করেনি। নির্লজ্জভাবে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসন কেউই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি। ফলে নির্বাচনকে মানুষ এখন প্রহসন এবং তামাশা মনে করে। আগামীতে মানুষ আর তামাশা ও প্রহসনের নির্বাচন দেখতে চায় না। সংগ্রামী ভাইয়েরা! বর্তমান বিতর্কিত সরকারের ক্ষমতার মেয়াদ প্রায় শেষ প্রান্তে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সরকারের পরিবর্তন হতে হলে, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন লাগবে। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতার পালা বদল হোক। কিন্তু আগামী জাতীয় নির্বাচন কিভাবে হবে, তা এখনো পরিস্কার হয়নি। ক্ষমতাসীনরা এবারও জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন করতে চায়। আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নির্বাচন হলে, সেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য হবে না। বরং আবারও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মতো নির্বাচনের নামে প্রহসন হবে। যে নির্বাচন দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বর্জন করেছিল। জনগণও ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে যায়নি। বিনা ভোটে ১৫৪জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গেছেন। অতএব বর্তমান সংসদের কোন নৈতিক বৈধতা নেই। এই অবৈধ সংসদ বহাল রেখে কোন নির্বাচন দেশবাসী মেনে নেবে না। এতএব আমরা বর্তমান সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে একটি দল নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে সকলের অংশগ্রহনে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন চাই। ভাইয়েরা আমার! আমরা আমাদের এই প্রিয় দেশকে ভালোবাসি। দেশকে ভালোবাসা প্রত্যেকটা নাগরিকের দায়িত্ব। যারা দেশকে ভালোবাসে- তারা দুর্নীতি করতে পারে না, তারা দেশের সম্পদ লুটপাট করতে পারে না। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা দেশের মানুষকে কষ্ট দিতে পারে না। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা দেশের মানুষকে অসম্মান করতে পারে না। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা দেশের মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করতে পারে না। যারা দেশকে ভালোবাসে, তারা বিদেশী শক্তির তাবেদারী করতে পারে না। আর যারা দেশপ্রেমের কথা বলে ক্ষমতায় গিয়ে এসব অপকর্ম করে, তারা দেশপ্রেমিক নয়; তারা ক্ষমতা প্রেমিক। ক্ষমতা প্রেমিকরাই বিগত দিনে দেশ শাসন করেছে। এই ক্ষমতা প্রেমিকরা দেশের দুশমন, জনগণের দুশমন। আগামী নির্বাচনে ক্ষমতা প্রেমিকদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিকদের ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দেশের দুশমনদের এবং জনগণের দুশমনদের পরাজিত করতে না পারলে, দেশে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে না। সংগ্রামী ভাইয়েরা আমার! আমরা দেশে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা জনমনে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দূর করতে চাই। আমরা মানুষকে স্বস্তি ও নিরাপত্তা দিতে চাই। আমরা ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমরা মানুষের মানবীয় ও মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে চাই। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চাই। আমরা প্রতিহিংসা জিঘাংসা আর ধ্বংশের রাজনীতির চির অবসান চাই। আমরা দেশের সকল নাগরিকের শান্তিপূর্ণ ভ্রাতৃপ্রতিম সহাবস্থান চাই। আমরা দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে চাই। আর এ জন্যে আমরা কালজয়ী আদর্শ ইসলামের আলোকে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করতে চাই। বাংলাদেশের শোষিত বঞ্চিত মানুষ আজ বুঝতে পারছে, ইসলাম ছাড়া তাদের মুক্তির কোন পথ নেই। এদেশের মানুষ সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম চায় বলেই ইসলামী আন্দোলনের পক্ষে আজ দেশে গণ-জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। আজকের এই জনসমুদ্রই প্রমান করে, আগামী দিনে ইসলামকে আর এদেশে দাবিয়ে রাখা যাবে না। ইসলামের বিরুদ্ধে এবং দেশের বিরুদ্ধে যে কোন ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলা করবো, ইনশাআল্লাহ। ভাইয়েরা আমার! ইসলাম নিয়ে সমাজের মানুষের মধ্যে এখনো কিছু ভুল ধারণা আছে। অনেকের ধারণা, রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে, রাষ্ট্রের সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যাবে। অন্য ধর্মের মানুষ তাদের অধিকার হারাবে। নারীরা গৃহবন্ধী হবে। মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে যাবে। যারা ইসলাম প্রসঙ্গে এসব ভূল ধারণা নিয়ে আতঙ্কিত, তাদেরকে আশ্বস্ত করে আমি বলতে চাই, রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে, মানুষের প্রয়োজনে রাষ্ট্রে যে সব প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে- সব বহাল থাকবে। রাষ্ট্রের যে যেই অবস্থানে কর্মরত আছে, সে সেখানেই থাকবে; কারো উপর কোন অন্যায় করা হবে না। তাবে কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না, কেউ রাষ্ট্রেীয় সম্পদ অপচয় করতে পারবে না। কেউ জনগণকে হয়রানী করতে পারবে না। ইসলামী রাষ্ট্রে অন্য ধর্মের লোকজন আরো বেশী সুবিধা ভোগ করবে। তাদের ধর্মকর্মের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে। তাদের জান-মাল এবং ইজ্জতের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে। তারা রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করবেন। রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে, নারীরা সবচেয়ে বেশী সম্মানিত হবেন। সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধায় নারীদেরকে অগ্রাধীকার দেওয়া হবে। নারীদের শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ আরো বিস্তৃত এবং আরো নিরাপদ করা হবে। এক কথায় রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে, মানুষের জন্যে এবং রাষ্ট্রের জন্যে যা কল্যাণ তার কিছুই পরিবর্তন করা হবে না। মানুষের জন্যে যা অকল্যাণ এবং দেশের জন্যে যা ক্ষতিকর তা-ই শুধু পরিবর্তন করা হবে। অতএব ইসলাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের জন্যে শুধু কল্যাণই রয়েছে। আমরা এই কল্যাণ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করি। আসুন আমরা কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্যে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। ভাইয়েরা আমার! ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি নিয়মতান্ত্রিক গণমূখী রাজনৈতিক দল। যে কোন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার জন্যে ইসলামী আন্দোলন প্রস্তুত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্যে যদি সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী হয়, তাহলে আমরা ৩০০ আসনেই এককভাবে হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী দিবো, ইনশাআল্লাহ। এখন থেকেই শান্তির প্রতিক হাতপাখা নিয়ে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যেতে হবে। প্রত্যেকটা ভোটারের কাছে ইসলামের দাওয়াত, ইসলামী আন্দোলনের দাওয়াত, হাতপাখার দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। অতীতে যারা দেশ শাসন করেছে, জনগণের কাছে তাদের নতুন কিছু বলার নেই। মানুষ তাদের কর্মকান্ড দেখেছে। তাদের প্রতি জনগণের কোন আস্থা নেই। অতএব জনগণের আস্থা অর্জনে ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদেরকে জনগণের হৃদয় জয় করতে হবে। মানুষের সেবা করতে হবে। দেশের কল্যাণে ঝাপিয়ে পড়তে হবে। দেশবাসীর প্রতি আমার আহŸান, আপনারা অন্যায়-অবিচার আর জুলুমকারীদেরকে বর্জন করুন। দুর্নীতিবাজদেরকে চিরতরে প্রত্যাখ্যান করুন। ন্যায়ের পক্ষে এবং কল্যাণের পক্ষে অবস্থান নিন। শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগামী নির্বাচনে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিন। ইসলামী আন্দোলন-এর প্রার্থীকে বিজয়ী করুন। আল্লাহ যদি আমাদেরকে কবুল করেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে যদি আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি, তাহলে দেশে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করবো। সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করবো। দুর্নীতি উৎক্ষাত করবো। প্রতিহিংসা ও জিঘাংসার পরিবর্তে সমঝোতা ও সহনশীলতার রাজনীতির বিকাশ ঘটাবো। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিশ্বসম্প্রদায়ের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখবো। সুদ-ঘুষ এবং অপচয় বন্ধ করবো। মাদক, চাঁদাবাজী উৎক্ষাত করবো। নারী নির্যাতন ও মানব পাচার প্রতিরোধ করবো। সন্ত্রাস নির্মূল করবো। দলীয়করণ বন্ধ করবো। শিষ্টের লালন এবং দুষ্টের দমন নীতি গ্রহণ করবো। সুসম অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান কমাবো। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করবো। বেকারত্ব দূর করবো এবং কৃষক শ্রমিকসহ সকল শ্রমজীবী ও পেশাজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো। নারী সামাজের প্রকৃত মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো, সংখ্যালঘু এবং পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা করবো। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা কায়েম করবো এবং গণ-মাধ্যমের স্বাধীনতা প্রদান করবো। বাংলাদেশকে উন্নতি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্বে একটি উন্নত ও মডেল কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করবো, ইনশাআল্লাহ। এই স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়েনে আমরা মানবতার মুক্তিদূত প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ স. এবং সোনালী যুগের খোলাফায়ে রাশেদার রাষ্ট্রদর্শণ অনুসরন করবো, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের তৌফিক দান করুন। মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) আমীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

অনুলিখন মুফতি দেলোওয়ার হোসাইন সাকী

1126Shares