| |

ঐতিহাসিক জাতীয় মহাসমাবেশে মুফতী ফয়জুল করীম এর পূর্ণাঙ্গ ভাষণ (ভিডিও)

প্রকাশিতঃ ৯:০০ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৬, ২০১৮

Syed Muhammad Rezaul Karim (Pir Saheb Charmonoi)

আইএবি নিউজ: ৫ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আহুত স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জাতীয় মহাসমাবেশে শায়খে চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম সাহেব দা. বা. যে ভাষণ দিয়েছেন তার পুর্ণাঙ্গ লিখিত ও ভিডিও পাঠকদের সমীপে পেশ করা হলো।

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লিয়ালা রাসুলিহীল কারীম। ইসলামী আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত আজকের এই জন সমুদ্রের সম্মানিত সভাপতি, এদেশের সেরেতাজ মানুষের আস্থাভাজন অবিসংবাদিত নেতা পীর সাহেব চরমোনাই দাঃ বাঃ, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, সকল স্তরের শান্তিকামী মুক্তিকামী ভাই ও বন্ধুগণ, আজ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে কমবেশী আমরা সবাই জানি।

৭ই মার্চ এই ময়দানেতেই আমাদের শ্রদ্ধাভাজন লিডার, এ দেশের আস্থাভাজন লিডার, যে লিডার এর ভাষণে এ দেশের স্বাধীনতার পথ অগ্রসর হয়েছিল। (তিনি) শেখ সাহেব বক্তৃতা করেছিলেন, এ দেশের মানুষকে মুক্তি করবেন, এ দেশের মুক্তিরত মানুষকে শান্তি দিবেন, জুলুম অত্যাচার থেকে মানুষকে নিরাপত্তা প্রদান করবেন। সমস্ত জালিমের বিরুদ্ধে, অত্যাচারীর বিরুদ্ধে তিনি যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। তার বক্তৃতার প্রেক্ষিতে এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তাদের স্বাধীনতা অর্জন করার জন্য। তাদের বাক স্বাধীনতা রক্ষার জন্য। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা রক্ষা হবে, জান মাল ইজ্জতের রক্ষা হবে, মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে, এই বুক ভরা আশা নিয়ে মানুষ আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে, সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছে, কিন্তু আমরা কি দেখেছি, আমরা যা দেখি, তা আজ আপনাদের সামনে কিছু পেশ না করলেই নয়।

ছয় দফার মধ্যে মানুষের, পুর্ব বাংলার মানুষের মুক্তির দফা ছিল, কিন্তু আজ বাংলাদেশ থেকে যে পরিমান টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে যা চিন্তাও করা যায় না।

  • ২০০৫-২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দেশ থেকে বিদেশে পাচার হয়েছে ৬ লক্ষ ৬ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা। যা দুই বছরের বাংলাদেশের বাজেটের সমপরিমান টাকা। শুধু তাই নয়, এদেশের মানুষের খুন খারাবী যে অবস্থায় পরিণত হয়েছে সব ব্যাখ্যা দেয়ার আমার সময় নেই।
  • আপনারা জানেন, অর্থনৈতিক খাতের কেলেংকারি, বৈষম্য, ব্যাংক খাতের অদক্ষতায় ২০১৬-২০১৭ সালে ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। খেলাপী ঋন ৮৮ হাজার ৫৮৯ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা- (দৈনিক যুগান্তর)।
  • বাংলাদেশ রির্জাভ ব্যাংক থেকে চুরি হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। সোনালী ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের পরিমাণ ৬৬০ হাজার ছয়শ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, এর মধ্যে হলমার্ক ৬৬৭ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা- (প্রথম আলো)।
  • জনতা ব্যাংক ঋন খেলাপি প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংক কেলেংকারি প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। আপনারা জানেন দুর্নীতি জরিপ। নির্মাণ খাতে দুর্নীতিই আমি শুধু বলবো। আমরা দেশে উন্নয়ন করেছি উন্নয়ন এর মধ্যে যে পরিমান উন্নয়ন হয়েছে, তার চেয়ে কত কোটি বেশি যে চুরি হয়েছে, ঐ মাবুদ মাওলাই ভালো জানেন।
  • আমাদের দেশে ১ কিলোমিটার ফ্লাইওভার নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৮০ কোটি টাকা। আর সেখানে কলকাতায় ভারতে মাত্র ব্যয় হয় ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাই ওভার ৩৯২ কোটি টাকা। প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয় ৪৮ কোটি টাকা। আর আমাদের সেখানে ব্যয় হয় ১৮০ কোটি টাকা। সম্প্রতি চীন ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ৫টি ফ্লাই ওভারে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। মালেশিয়ায় ১০.৫ কিলোমিটার ৫টি ফ্লাই ওভার নির্মাণে কিলোমিটার প্রতি ব্যয় হয়েছে ৫৭ কোটি টাকা। আর সেখানে আমাদের ব্যয় হয়েছে ১৮০ কোটি টাকা কিলোমিটার প্রতি।
  • কি বলবো! বাংলাদেশে প্রতি কিলোমিটার রাস্তা করতে খরচ ৯৪ কোটি টাকা। অথচ ভারতে ১০ কোটি চীনে ১০ কোটি আর আমাদের ১ কিলোমিটারে রাস্তা করতে ব্যায় হয় ৯৪ কোটি। বেকারত্ব ও বিচার বিভাগ! বিচার বিভাগের ৩১% মানুষ মনে করে যে, বিচার বিভাগে দুর্নীতি হয়। টিআইবি ২০১৮ সালের তথ্য মতে, সারা দেশে মামলার সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫৩ ।
  • প্রধান বিচারপতি নিয়োগে যোষ্ঠতা লঙ্গন করা হয়েছে ১৫ বার। ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে এই পর্যন্ত ২২৮৬ জন। বিএনপির আমলে ৮৩৪ এবং আওয়ামিলীগের আমলে ১৩২২ জন। বিচার বহির্ভূত হত্যা হয়েছে ২০০১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৩২০৯ জন। বিএনপির আমলে ১১৯৯ এবং আওয়ামিলীগের আমলে ১৬৭৭ টি । রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও সহিংসতায় খুন ২০০১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৪৮০৯।
  • বিএনপির আমলে ২৭২২ এবং আওয়ামিলীগের আমলে ১৯৫৮। আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে খুন হয়েছে ২০০৯ থেকে এই পর্যন্ত ৩৮৫ জন খুন! (নিজেদের কোন্দলে) সীমান্ত হত্যা। গত ১৮ বছরে সীমান্তে ভারতীয়রা আমাদের দেশের জনগণকে হত্যা করেছে ১১৩৬ জন কে। ভারতের পানি সন্ত্রাস। বাংলাদেশের ৫৪টি নদীর উৎপত্তি ভারতে। ভারত তার ৪৭টি তে বাঁধ দিয়ে ফেলেছে। কেবল উত্তর-পূর্ব ভারতে নির্মিত হয়েছে ১৬০টি বাঁধ বা গ্রেজ। ১৯৭১ সালে আমাদের নৌপথ ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার। আর এখন বর্ষায় ৬০০০ কিলোমিটার আর শুকনা মৌসুমে মাত্র ২৪০০ কিলোমিটার। অথচ ১৯৭১ সালে আমাদের নৌপথ ছিল ২৪ হাজার কিলোমিটার। সেখান থেকে শুকনা মৌসুমে ২৪০০ কিলোমিটার বাকি আছে আর সমস্ত নদী মরে গেছে। বাণিজ্য ঘাটতি।

আজকে ভারত আমাদেরকে বন্ধু মনে করে, অথচ ভারতেই আমাদের মাল ডুকাতে গেলে আমাদের সবচেয়ে বেশি শুল্ক দেয়া লাগে। ভারতের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি ৫ কোটি ডলার। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি ভারতের সাথে। আমি বলতে চাই, আজকে বাংলাদেশ মানুষ স্বাধীন করেছিল, বৈষম্যতা দূর করার জন্য, মানুষের অধিকার কে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য, পশ্চিমারা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে তাদের অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে পারে নাই, তাদের চাকরীর ন্যায্য অধিকারকে ফিরিয়ে দিতে পারে নাই, অর্থনৈতিক বৈষম্য তারা দুর করতে পারে নাই, আজকে বাংলাদেশের মানুষ তাদের বৈষম্যতা কে দূর করতে গিয়ে এদেশের মানুষের কাছে যা কিছু আছে, সব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। ৬৯ এ পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ গণ আন্দোলন করেছে, ৭০ এর নির্বাচনে ওদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়ার জন্য ৩১৩ সিটের মধ্যে, শুধু আওয়ামমীলীগকেই ১৬৭ টা সিট দিয়েছিল এদেশের মানুষ, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আওয়ামীলীগ একটা সিট না পেলেও কিন্তু বাংলার পূর্ব পাকিস্তান থেকে ১৬০ টা ঠিক আওয়ামীলীগকে উপহার দিয়েছিল এদেশের মানুষ। শেখ সাহেব তার আত্মজীবনীতে নিজেই বর্ণনা করেন, আমি নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছি। আমার প্রতিপক্ষ স্প্রিড বোট, গাড়ি, টাকা, অর্থ নিয়ে তারা ভোট কালেকশন করে আমার সাথে হেরেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ১০ হাজার ভোট বেশি দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছে।

আমি প্রশ্ন করতে চাই, দেখেন, যে আওয়ামীলীগের উত্থান হয়েছে গণ মানুষের ভোটের ভিত্তিতে, গণ মানুষ ভোট দেয়ার কারনেই ৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামিলীগ অখণ্ড দেশের পূর্ব পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হওয়ার মত যোগ্যতা রাখছিলেন। কিন্তু ভোটের অধিকার পশ্চিমারা (পশ্চিম পাকিস্তানিরা) রক্ষা করতে না পারার কারনে, এই মর্যাদা দান করতে না পারার কারনে আমাদের দেশের মানুষ ওদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে, এদেশের মধ্যে লাল সবুজের পতাকা উড্ডয়ন করেছে। আমি বিশ্বাস করি, আজকেও যদি আওয়ামীলীগ সরকার বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার, ভোটের মর্যাদা রক্ষা করতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে আর একটা আন্দোলন করবে, সংগ্রাম করবে, বিপ্লব করবে, সেই আন্দোলনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে আওয়ামীলীগ সরকার হটতে বাধ্য হবে। এদেশে ইনসাফ ভিত্তিক সরকার কায়েম হবে। প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আজকে সিইসি, আমি উনাকে মনে করি সিইসি নয়, উনি হলো রোবট সিইসি। রোবট বুঝেন? রোবট ? রোবটের নিজের কোন স্বকীয়তা নাই, সতন্ত্রবোধ নাই। বরং রোবটের মধ্যে রোবটের পরিচালক যে প্রোগ্রাম সেট করে এর বাহিরে কাজ করার ক্ষমতা রোবটের নাই। আমিও মনে করি, সিইসি একটা রোবট। সরকার যে প্রোগ্রাম সেট করে দেয়, সিইসির কোন সতন্ত্র প্রোগ্রাম সেট করার ক্ষমতা সিইসির নাই। কাজেই রোবট কোন সিইসি বাংলার মানুষ চায় না। সিইসি কে পরিবর্তন করে নিরেপক্ষ একজন সিইসি মাধ্যমে আগামি নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায়। ইভিএম! ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন।

আমি বলি, ইভিএম! ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন নয় বরং ইলেক্ট্রনিক বাটপারি মেশিন। এই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আগামি নির্বাচনে ভোট করতে দিবেনা। বরং ইভিএম এর পরিবর্তে আমাদের কে যেভাবে নির্বাচন সুষ্ঠ হয় সে ভাবে নির্বাচন উপহার দিতে হবে। আপনারা দেখেছেন, আমাদের মাসউদ (শেখ ফজলে বারী মাসউদ) সাহেব বক্তৃতা করেছেন, গত নির্বাচনে বাজেট হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা বা ৫০০ কোটি টাকা, এর আগে আরও কম। আর এই বছর শুধু নির্বাচন কমিশন ইভিএম ক্রয় করার জন্য বাজেট করেছেন প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। তোমার বাবার টাকা ? নাকি তোমার দাদার টাকা ? বাংলাদেশের ঘাম ঝরানো টাকা দিয়ে কৃষক শ্রমিকের টাকা চুরি করে আত্মসাত করবে, বাংলাদেশের মানুষ তা সহ্য করবে না। কত ধানে কত চাল, প্রত্যেক টা টাকার হিসেব দিতে হবে।

প্রিয় ভাইয়েরা আমার, আজকে বাংলাদেশের মানুষ, নতুন মুক্তি চায়, তারা বাঁচতে চায়, এই দলের যাতাকল থেকে মানুষ মুক্তি পেতে চায়। আমরা দেখেছি, গত বিএনপির জনসভায় এখান থেকে বক্তারা বক্তব্য দিয়েছেন, যদি শয়তানের সাথে জোট করতে হয় তাহলে আমরা জোট করবো, শয়তানের সাথেও জোট করবো। শয়তানের সাথে জোট করবেন কি শয়তানি করার জন্য? হ্যাঁ ? আপনারা শয়তানের সাথে জোট করবেন কি শয়তানি করার জন্য? শয়তানের সাথে জোট করা শয়তানদের কে বাংলাদেশের মানুষ আর ক্ষমতায় নিবে না। বিএনপি কেন ক্ষমতায় যাবেন? আপনার ক্ষমতায় যাওয়ার দরকার টা কি? আপনি গিয়ে কি করবেন? ২০০১ এ আপনাকে আমরা ক্ষমতায় নিয়েছিলাম, ৯১ তেও ক্ষমতায় নিয়েছিলাম, পারফমেন্স ভালো দেখাতে পারেন নাই। ব্যর্থ হয়েছেন, এই ব্যর্থ বিএনপি কে বাংলার মানুষ আর ক্ষমতায় নিবে না। আর বর্তমান আওয়ামীলীগের অবস্থা আমরা সবাই জানছি, দেখছি, আজকে বাংলাদেশের মানুষের মুখের উপরে, জবানের উপরে, তাদের সমস্ত শক্তির উপরে, স্বাধীনতার উপরে, আজকে আওয়ামীলীগ যে স্টিম রোলার চালাচ্ছে, আজকে মানুষের বাক শক্তি বন্ধ করেছে, আজকে মানুষের স্বাধীনতা হরণ করেছে, আজকে ধর্ষণের মহড়া ঘটাচ্ছে, আজকে মানুষ গুম হচ্ছে, খুন হচ্ছে, মানুষ নিরাপদে ঘরে যেতে পারবে কি পারবে না, তা নিয়ে মানুষ সংকিত, এই মীর জাফরের মধ্যে, জেলের মধ্যে আবদ্ধ আমরা থাকতে চাই না, বাংলাদেশ স্বাধীন ভাবে গড়তে চাই। স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চাই।

প্রিয় ভাইয়েরা আমার, প্রিয় বাংলাদেশের মানুষ, আজকে মানুষ সজাগ হয়েছে, আজকে মানুষ ঐ বিদেশীদের গোলামী করবে না। কয়েকদিনের আগে (ভারতের) বিজেপির এক এমপি মিঃ স্বামী (সুব্রমনিয়াম সোয়ামী) সাহেব, আপনি বক্তব্য দিয়েছেন, বাংলাদেশকে দখল করবেন, বাংলাদেশকে দখল করার হুমকি দিয়েছেন, কিন্তু আমি পরের দিন পত্রিকায় খুব খুঁজেছি, দেখি কেউ এর প্রতিবাদ করে কিনা? না, আওয়ামীলীগ এর প্রতিবাদ জানায় নাই, বিএনপিও তার প্রতিবাদ জানায় নাই, যদি আমেরিকার কোন এমপি বা জনগণ বাংলাদেশকে দখল করার হুমকি দিত, তাহলে মনে হয় গোটা বাংলাদেশ জাগ্রত হয়ে যেত। যে ওদেরকে প্রতিহত কর, ওদের মোকাবেলায় ঝাঁপিয়ে পড়। কতই না বক্তব্য শুনতাম। এখন যেহেতু দাদুরা বাংলাদেশ দখল করার হুমকি দিয়েছে, এখন কারো কোন কথা নাই। হ্যাঁ, আপনারা ভারতের গোলামী করতে পারেন, আপনারা ভারতের দালালী করতে পারেন, আপনারা ভারতের, দিল্লীর পা চেটে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখতে পারেন, কিন্তু এদেশের মানুষ ভারতের গোলামী করবে না, ভারতের দালালী করবে না। এদেশের মানুষ তার দেশকে রক্ষা করার জন্য জীবন দিবে, রক্ত দিবে ইনশাআল্লাহ।

এই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখবে ইনশাহআল্লাহ। প্রিয় ভাইয়েরা আমার, কাজেই আগামি নির্বাচন, এদেশের মুক্তির নির্বাচন, আগামি নির্বাচন এদেশের স্বাধীনতা কামী মানুষের স্বাধীনতার নির্বাচন। আগামি নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে এদেশের মানুষ আর নতুন বাংলা দেখবে না, সোনার বাংলা দেখবে না, সবুজ বাংলার প্রয়োজন নাই, ডিজিটেল বাংলার সমস্ত খেলা শেষ, আগামি বাংলা হবে ইসলামী বাংলা। আগামি বাংলা হবে হাতপাখার বাংলা।

আগামি বাংলা হবে ইসলামী আন্দোলনের বাংলা। আগামি বাংলা হবে পীর সাহেব চরমোনাইয়ের বাংলা। ইনশাআল্লাহ!!

কাজেই আসুন, সম্মিলিত হবে সবাই একত্রিত হয়ে, আগামি নির্বাচনে, ইসলামের পক্ষে, হাতপাখা প্রতীককে বিজয় করার লক্ষে আজকে থেকে যার যা কিছু আছে, সব নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে রাজি আছি ইনশাআল্লাহ? আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন, আগামি নির্বাচনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীককে বিজয় করেন, সমস্ত জোট ও ঝুটকে (মিথ্যাকে) মোকাবেলা করে ইসলামকে বিজয় করার তৌফিক আল্লাহ পাক আমাকে আমাদের সবাইকে দান করেন। ওমা আলাইনা ইল্লাল বালাগ।

সংকলন ও বিন্যাসঃ হাসিবুর রহমান

ভিডিও কৃতজ্ঞতাঃ আবু বকর

1673Shares