| |

দিন বদলের স্বপ্ন : আশার আলো দেখাচ্ছে ‘চরমোনাই’

প্রকাশিতঃ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | মার্চ ১৯, ২০১৮

রায়হান মুহাম্মাদ ইবরাহীম : এদেশে ইসলাম আসার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম হলো পীর-আউলিয়া। সুদূর আরব থেকে ইসলামের সেই সূচনাকালে এদেশে এসেছেন অনেক পীর-ওলী-দরবেশ। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এদেশের বুকে ইসলাম নামক বৃক্ষটি তারা রোপন করেছেন। পরিচর্যায় সজীব করে তুলেছেন। তারা এদেশের জনসাধারণকে সত্য ও সুন্দরের পথ দেখিয়েছেন। মুসলমানদেরকে করেছেন নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ। একজন প্রকৃত মুসলমানের কাছে বৈষয়িক উন্নতির চেয়ে আত্মিক উন্নতিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শারীরিক অসুস্থতায় শেষ পরিণতি মৃত্যু।

কিন্তু আত্মার অসুস্থতার পরিণতি হলো অনন্তকাল জাহান্নামের আগুনে দগ্ধ হওয়া। সেই ধারাবাহিকতায় আত্মশুদ্ধি এবং সমাজ ও রাষ্ট্রশুদ্ধির মাধ্যমে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির বারতা নিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই-এর নেতৃত্বে চরমোনাইকেন্দ্রিক মিশনগুলো সারাদেশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ফলে ইসলামের সুমহান আদর্শ ধারণ করে শুধু ব্যক্তিজীবন নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রকেও আলোকিত করতে চাচ্ছেন- এমন আত্মপ্রত্যয়ী মানুষের সংখ্যা দিন দিন গাণিতিক হারে বেড়েই চলেছে। দেশের কৃষক-মজুর মেহনতি মানুষ এবং অপার সম্ভাবনার আধার ছাত্র-যুবক ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী ও এলিটশ্রেণির মানুষগুলোর হৃদয়ও ছুঁয়ে যাচ্ছে সত্য ও সুন্দরের এ পয়গাম। ইসলাম একটি পরিপূর্ণ ধর্ম। পরিপূর্ণ জীবনবিধান। একমাত্র এ ধর্মেই ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান আছে।

সুতরাং সমাজ ও রাষ্ট্রে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে ফিরে যেতে হবে ইসলামের কাছেই- এই আওয়াজ পরিকল্পিতভাবে পৌঁছানো হচ্ছে এদেশের গণমানুষের কানে কানে। এক সাক্ষাৎকারে ইসলামী আন্দোলনের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী- শুধু মুসলিম নয়; অমুসলিমদের নিরাপত্তা ও অধিকারও ইসলামের চেয়ে কেউ বেশি দিতে পারেনি। হজরত ওমর রা. এর যুগে শান্তিতে বসবাস ও ব্যবসাকার্য পরিচালনার জন্য অমুসলিমরা তাদের দেশ ছেড়ে ইসলামী রাষ্ট্রে এসে বসবাস করতো। ইসলামের সোনালী যুগে যখন ইসলামের পরিপূর্ণ অনুশাসন ছিলো- বিভিন্ন দেশ ও শহরের মানুষ নিজেদের মুক্তির জন্য ইসলামী বাহিনীকে তাদের দেশে আহ্বান জানিয়েছে। নিজ দেশের বাহিনীকে সাহায্য না করে মুসলিম বাহিনীর জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও ইসলাম অন্যান্য জাতির জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধানে যে ইনসাফপূর্ণ বিধান প্রদান করেছে, তা অন্য কোনো ধর্ম বা মতবাদে নেই।

সুতরাং শান্তির জন্য, নিরাপত্তার জন্য অমুসলিমদেরকেও ইসলামের ছায়াতলে আসা উচিৎ। ইসলামের এই মিশন ও শিক্ষা তাদের জন্যও সমানভাবে উপকারী। আমরা মানুষকে ইসলামের আদর্শ ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যখন দেশের অধিকাংশ মানুষ ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিবে, তখন রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ।’ হক্কানী আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ এবং দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের বদৌলতে এদেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মানুরাগী। এদেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে আছে ইসলাম। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো- ইসলাম সম্পর্কে এখনও অধিকাংশ মানুষ খণ্ডিত ধারণা পোষণ করে থাকেন। তারা ধর্ম বলতে বোঝেন শুধু নামাজ-রোজা আর কিছু একান্তই ‘ধর্মীয়’ আচার।

সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য ইসলামের সুমহান আদর্শের সঙ্গে তাদের তেমন একটা পরিচয়ই নেই। ফলে মানুষের ব্যক্তিজীবনে ধর্মের কিছুটা প্রভাব লক্ষ্য করা গেলেও সমাজ ও রাষ্ট্রে ধর্ম পরাজিত। মানুষের গড়া বিভিন্ন মতবাদ এখানে বিজয়ী; অথচ পবিত্র কুরআনের ভাষ্যানুযায়ী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর রাসুলকে পাঠিয়েছেনই ধর্মকে অন্য সব মতবাদের ওপর বিজয়ী করার জন্য। এ অবস্থার পরিবর্তনে বড় ভূমিকা পালন করছেন পীর সাহেব চরমোনাই এবং তাঁর পরিচালিত মিশনগুলো। শোষিত-বঞ্চিত শান্তিকামী মানুষগুলো এখন দলে দলে শামিল হচ্ছে সমাজ বদলের এই কাফেলায়। শুরু হয়েছে গণজাগরণ। এই জাগরণ নাস্তিকতার বিরুদ্ধে। এই জাগরণ অধার্মিকতার বিরুদ্ধে। এই জাগরণ শোষণের বিরুদ্ধে। এই জাগরণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে। এই জাগরণ সন্ত্রাস-দুর্নীতির বিরুদ্ধে। এই জাগরণ কায়েমী স্বার্থবাদের বিরুদ্ধে। এই জাগরণ প্রতিহিংসামূলক অপরাজনীতির বিরুদ্ধে। এই জাগরণ মাদকের বিরুদ্ধে।

এই জাগরণ অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে। এই জাগরণ ধর্মের নামে অধর্মের বিরুদ্ধে। এই জাগরণ সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নীতির পরিবর্তনের পক্ষে। সর্বোপরি এই জাগরণ ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার পক্ষে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া প্রিয় বাংলাদেশকে সুখী সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য একটি সফল ইসলামী বিপ্লবের স্বপ্ন যারা দীর্ঘদিন ধরে বুকে লালন করে আসছেন, যারা দিনবদলের স্বপ্ন দেখেন, ‘চরমোনাই’কে ঘিরে গণমানুষ ও তারুণ্যের এই জাগরণ তাদেরকে আশান্বিত করছে। ধর্ম ও রাজনীতি আলাদা নয়; বরং রাজনীতি ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইসলামের নবী মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে বড় ধার্মিক আর কে আছে? অথচ তিনি ছিলেন সারা দুনিয়ার সেরা রাজনীতিবিদ, সেরা রাষ্ট্রনায়ক। চরমোনাই মিশনগুলোর বড় সফলতা এখানেই।

ধর্ম ও রাজনীতি একে অপরের পরিপুরক– এই বোধটা তারা এদেশের গণমানুষের হৃদয়ে বদ্ধমূল করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই চেষ্টা যত দ্রুত সফল হবে, সুজলা সুফলা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ তত দ্রুত একটি কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। দেশের প্রচলিত ধর্মীয় ভণ্ডামী এবং রাজনৈতিক ভণ্ডামীর বিরুদ্ধে ‘চরমোনাই’ এর অবস্থান সুস্পষ্ট। ফলে ইসলামী বিপ্লবের মূল কারিগর দেশের হক্কানী উলামায়ে কেরামও ‘চরমোনাই’য়ে আস্থার জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন। মুসলিম মিল্লাতের চেতনার বাতিঘর দারুল উলূম দেওবন্দের শীর্ষ মুরুব্বীরাও ‘চরমোনাই’কে ইতিবাচক পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আর আলেম-উলামার মধ্যে যাদেরকে বাহ্যিকভাবে চরমোনাইবিরোধী মনে হয়, তারাও আসলে চান ‘চরমোনাই’ তার গতিপথ ঠিক রাখুক।

কখনই সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত না হোক। এ হিসেবে তারাও ‘চরমোনাই’র কল্যাণকামী। পীর সাহেব চরমোনাই তো বলেই রেখেছেন, কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী আমাদের ভুল ধরিয়ে দিন। আমরানিজেদেরকে সংশোধন করে নেব। প্রতিপক্ষ যদি কাউকে মানতেই হয়, তাহলে ‘চরমোনাই’র প্রতিপক্ষ হলো নাস্তিক-মুরতাদ ও ধর্মদ্রোহীরা। দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ভণ্ডদের সাথে যদি কখনও সংঘাত লেগেই যায়, তখন ঐক্যবদ্ধ ইসলামী শক্তির নেতৃত্ব দিয়ে অথবা উপযুক্ত অন্য কারও নেতৃত্ব মেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে ‘চরমোনাই’। ইনশাআল্লাহ। আমরা স্বপ্ন দেখি- আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের।

2092Shares