| |

উলামায়ে হক্বের ঐক্যের মিশন চরমোনাই থেকেই শুরু

প্রকাশিতঃ ১০:১৫ অপরাহ্ণ | মার্চ ১৪, ২০১৮

ইসমাইল আহমদ : ৩৬০ আওলিয়ার পূণ্যভূমি খ্যাত লক্ষ লক্ষ মসজিদ, ৭০ হাজারের অধিক মাদরাসা এবং লাখো লাখো আলেম ও হাজার হাজার পীর-মাশায়েখের পদস্পর্শে ধন্য প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ইসলামের জন্য উর্বর সম্ভাবনাময় একটি দেশ। পরিতাপের বিষয় হলো, উর্বরভূমিতে সম্ভাবনার অনেক উপাদান থাকা সত্বেও অনৈক্যের কারণে তা ক্রমেই অসম্ভবে পরিণত হচ্ছে।

ইসলামের মূল ভিত্তিই হলো আক্বিদার উপর, যদি মৌলিক আক্বিদায় সমস্যা না থাকে তবে ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে এতো দ্বন্দ্ব কিসের?বৃহৎ স্বার্থে কি ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করা যায় না? মনে পড়ে শায়েখে চরমোনাই সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর কথা। তিনি সর্বদাই ঐক্যকামী ছিলেন, তাঁর প্রতিটি বয়ানে-বক্তব্যে ঐক্যমিশ্রিত কথার ব্যাপক উপস্থিতি থাকতো। তিনি কওমী কিংবা আলিয়ার একক পক্ষপাতিত্ব ছিলেন না, এমনকি তিনি দেশের প্রচলিত শিক্ষিতদের দূরে ঠেলে দিতেন না বরং ইসলামী বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা অনুভবে তাদেরকেও কাছে টানতেন এবং প্রচলিত জেনারেল শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করে ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় চাইতেন।

তিনি ঐক্যের ব্যপারে প্রায় সময় বলতেন, শুধু নির্বাচনকালীন সাময়িক ঐক্য নয় বরং ইসলাম প্রতিষ্ঠায় চাই দীর্ঘমেয়াদি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন। মরহুম আল্লাহর কতুব সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষে দেশের খ্যাতিমান আলেম ও বুদ্ধিজীবীদের পরামর্শক্রমে ১৯৮৭ সালে ১৩ মার্চ গড়ে তুলেন ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন (২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে নিবন্ধিত হয়) বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলাম ও দেশের স্বার্থে অবদান রেখে জনসাধারণের ব্যাপক আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। সংগঠনের বর্তমান বয়স ৩১ বছর ১দিন। মরহুম ফজলুল করীম রহ. এর মিশন অব্যাহতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় চরমোনাইর শায়েখদ্বয় ঐক্যের আহবান নিয়ে দিন-রাত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন দল ও ব্যাক্তিবর্গের নিকট।

তারই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী মোকামিয়া দরবারের দাওয়াতে সাড়া দিয়ে মোকামিয়ার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির আলোচনা পেশ করেছেন আমীরুল মুজাহিদীন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম শায়েখ চরমোনাই।মাহফিলে লক্ষাধিক জনতার সামনে মোকামিয়ার পীর সাহেব ঘোষণা দেন যে, চরমোনাই ও মোকামিয়া ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ। মোকামিয়া দরবারের পীর সাহেবও এবারের চরমোনাই ফাল্গুনে মাহফিলে এসেছিলেন এবং দীর্ঘ ঐক্যপ্রয়াসী বক্তব্য রাখেন। দেশের অন্যতম দ্বীনি মারকাজ ছারছিনার ফাল্গুনের মাহফিলে অতিথি হিসেবে বয়ান রাখেন রাখেন নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সিনিয়র নায়েবে আমীর শাখুল হাদীস আল্লামা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়ুজুল করীম শায়খে চরমোনাই।

মোকামিয়া ও ছারছিনার সাথে চরমোনাইর ঐক্যের সেতুবন্ধনের মাধ্যমে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ এক ইতিহাস তৈরি হলো। তাছাড়া প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বের সঠিক ধারার অন্যতম ইসলামী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা থেকে চরমোনাই এসেছিলেন। তারা হলেন- শাইখুল আরব ওয়াল আজম হজরত হুসাইন আহমদ মাদানি রহিমাহুল্লাহ-এর খাস শাগরেদ, আল্লামা ইবরাহিম বলিয়াভি রহিমাহুল্লাহ-এর বিশেষ খলিফা, দীর্ঘ দিনের শায়খে মুসলিম শরিফ, দারুল উলুম দেওবন্দের বর্তমান শায়খে সানী, হজরত আল্লামা শায়েখ কমরুদ্দিন আহমদ হাফিযাহুল্লাহ, দারুল উলুম দেওবন্দের অন্যতম সিনিয়র মুহাদ্দিস ইবনে হাজার খ্যাত শায়খে মুসলিম শরীফ আল্লামা হাবীবুর রহমান আজমী হাফিযাহুল্লাহ, দারুল উলুম দেওবন্দের অন্যতম সিনিয়র মুহাদ্দিস ইবনে হাজার খ্যাত শায়খে মুসলিম শরীফ আল্লামা হাবীবুর রহমান আজমী হাফিযাহুল্লাহ, দারুল উলুম দেওবন্দের দারুল ইক্বামা প্রধান, পীর জুলফিকার আলী নক্বশবন্দী দা. বা. এর অন্যতম খলীফা আল্লামা মুনীরুদ্দীন আহমাদ উসমানী নক্বশবন্দী হাফিযাহুল্লাহ, দেওবন্দের অন্যতম সিনিয়র মুহাদ্দিস, সাবেক নাযেমে তালিমাত, শায়খুল মা’কুলাত আল্লামা মুজিবুল্লাহ কাসেমি হাফিযাহুল্লাহ। আল্লামা আব্দুল খালেক সাম্বলী, আল্লামা মুনিরুদ্দিন আহমদ বিহারী। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে মাহফিলে উপস্থিত এসেছিলেন- রাজধানী ঢাকার যাত্রাবাড়ি মাদরাসার প্রধান মুফতি মাওলানা সাদেকুল ইসলাম, শাইখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, শাইখুল হাদিস আল্লামা ড. মুশতাক আহমদ, জামিয়াতুল উলুম ইসলামিয়ার মাওলানা আব্দুল গাফফার, মালিবাগ মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আনোয়ার শাহ, লালমাটিয়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মাহবুবুল হক কাসেমীসহ দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরাম।

অতীতেও চরমোনাই মাহফিলে আসেন মক্কার আব্দুল হাফিজ মক্কী রহ., দেওবন্দের প্রবীন মুফতী হাবিবুর রহমান খায়রাবাদী, সৌদি ধর্ম মন্ত্রীর উপদেষ্টা ইবরাহীম ইবনে আব্দুল আজীজ, ওমানের মাসকাট উলুমে শারইয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার খালেদ ইবনে মুহাম্মদ সালেম আবদালী, বাহরাইন ও কুয়েতের বিশিষ্ট আলেম, হাটহাজারী মাদরাসার মুহতামিম ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা আহমদ শফি দাঃবাঃ, আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরী, যাত্রাবাড়ীর মাহমুদুল হাসান সাহেবসহ দেশের বরেণ্য আলেমেদ্বীন।

এসব ঐক্যপ্রয়াসী কর্মসূচী একদিন ইসলামী বিপ্লবের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ। সাধারণ সম্পাদক, ইশা ছাত্র আন্দোলন সিলেট মহানগর

3225Shares