| |

সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. ছিলেন যুগের এক বিপ্লবী মহাপুরুষ: মুফতি আবুল খায়ের

প্রকাশিতঃ ১১:১১ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ০৮, ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার: বৃহস্পতিবার (৮ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় ইসলামী যুব আন্দোলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা কার্যালয়ে পাক-ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা, মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম (প্রাক্তন পীর সাহেব চরমোনাই রহ.) -এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ -এর সাহেবজাদা ও চরমোনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক আল্লামা মুফতি সৈয়দ ইসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শায়েখ রহ. এর ব্যাপারে কোন কিছু আলোচনা করার মত যোগ্যতা আমার মধ্যে নেই। আবার তার সন্তান হিসেবে কোন কিছু বলাও হয়তো শোভা পাবে না। তাই আমি কোন কিছুই বলতে চাই না। তবে আমি শায়েখ রহ. ব্যাপারে আমার এক ওস্তাদ যা বলতেন সেটা আপনাদেরকে শুনাই। তিনি ছিলেন যুগের ক্ষণজন্মা এক বিপ্লবী মহাপুরুষ। যারা প্রতিনিয়ত জন্মগ্রহণ করেন না। বরং একটা যুগে এমন দু একজনই জন্মায়।

তিনি সত্যের উপর সবসময় দৃঢ় ছিলেন। নীতির প্রশ্নে সবসময় আপোষহীন ছিলেন। অন্যায় এর বিরোধিতা ছিল তার জীবনের একটি অংশ। একবার যখন না বলেছেন নিজের সুবিধা অসুবিধা চিন্তা করে সেটা কখনোই আর হ্যাঁ হয়নি। নোংরা রাজনীতির এই জমানায় তিনি স্বচ্ছ রাজনীতির পথ দেখিয়েছেন। নীতি-নৈতিকতার বালায় যখন রাজনৈতিকরা দেখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন তখন তার সংগঠন আজও নীতির উপর অটল রয়েছে। এগুলোই তো ফজলুল করীম রহ. এর কর্মময় জীবনের অংশ ছিল।

তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালে যখন আমরা সবাই এদেশের রাজনীতিতে পীর সাহেব চরমোনাই রহঃ -এর একঘরে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম তখনও তিনি নারী নেতৃত্বের ব্যাপারে ছিলেন আপসহীন। তিনি যেটা ২০ বছর আগে উপলব্ধি করেছেন আমরা আজ তার বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছি। প্রতিদিন ইসলামী আন্দোলনের প্রতি মানুষের জনসমর্থন বাড়ছে। কেন বাড়ছে? এটা শায়েখ রহ. -এর নীতির উপর অটল থাকার কারণে। মানুষের সামনে এখন প্রকাশ হয়ে গেছে একমাত্র পীর সাহেব চরমোনাই নীতি আর আদর্শের রাজনীতি করছেন। বিএনপি থেকে শায়খ রহ. কে বলা হয়েছিল আপনারা নীতি আর আদর্শের রাজনীতি করেন। কিন্তু আমরা ক্ষমতার রাজনীতি করি। বলেন আপনাকে কয়টা এমপি দেবো, পাশ করলে আপনার কোন মন্ত্রিত্বটা লাগবে? তখন তিনি বলেছিলেন আমি এমপি মন্ত্রী হওয়ার রাজনীতি করি না। আমি ইবাদতের রাজনীতি করি। তাই চলুন শায়েখ রহ. -এর ইবাদতের রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরি। আমাদের রাজনৈতিক জীবনকে সুন্দরভাবে গঠন করি।

উক্ত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের এমপি পদপ্রার্থী জননেতা আলহাজ্ব সৈয়দ আনোয়ার আহমদ লিটন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মুফতি জসিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এমপি পদপ্রার্থী মাওলানা উসমান গণি রাসেল, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সেক্রেটারী মুহাম্মদ ওবায়দুল হক।

উক্ত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ইশা ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সহ অর্থ সম্পাদক মাওলানা মুখলেছুর রহমান হাতেমী, জেলা যুব আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ, জেলা ইশা ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি ইউনুস আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম হাওলাদার প্রমুখ।

উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা যুব আন্দোলনের সভাপতি মুফতি আশরাফুল ইসলাম বিলাল।

1101Shares