| |

সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে সরকার ব্যর্থতা ঢাকতে চেয়েছিল

প্রকাশিতঃ ৯:২৩ অপরাহ্ণ | আগস্ট ০৮, ২০১৮

আইএবি নিউজ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, মাদক, সন্ত্রাস ও ধর্ষণ বন্ধে রাসুল সা.এর আদর্শই সর্বশ্রেষ্ঠ। রাসূল সা. এর সময়েও মাদক, সন্ত্রাস ও ধর্ষণের বিষয়গুলো বিদ্যমান ছিলো। তিনি যে পদ্ধতিতে এগুলো আজীবনের জন্য ধবংস করেছিলেন সেই পদ্ধতি অনুসরণেই কেবল বন্ধ সম্ভব, অর্থ্যাৎ ইসলামী অনুশাসন প্রয়োগের মাধ্যমেই তা বন্ধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, মাদক বিরোধী অভিযানে দেশব্যাপী যারা গ্রেপ্তার হয়েছে তারা চুনোপুটি, মাদক ও সন্ত্রাসের আসল হোতারা ক্ষমতা ও দাপটের ছত্রছায়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।

আজ বুধবার বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত “মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণের ভয়ালগ্রাস থেকে যুবসমাজকে রক্ষায় আমাদের করণীয়” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মুফতি মানসুর আহমাদ সাকীর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা মুক্তাদির হোসাইন মারুফের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কে এম আতিকুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সভাপতি শেখ ফজলুল করীম মারুফ, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, মাওলানা হোসাইন মুহা. কাওছার বাঙ্গালী।

বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৭ আসনে পীর সাহেব চরমোনাই মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, ঢাকা-৮ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, ঢাকা-১০ এর সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাফেজ মাওলানা জহিরুল ইসলাম, আলহাজ্ব ফরীদ উদ্দিন দেওয়ান প্রমুখ।

মুফতী ফয়জুল করীম আরো বলেন, দেশ এখন নৈরাজ্যের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিক শহিদুল আলমসহ মিডিয়া কর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাদের ওপর পুলিশী ও দলীয় ক্যাডারদের হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিক নির্যাতন ও শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে সরকার তাদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে চেয়েছিলো, কিন্তু এতে করে সরকারের সীমাহীন ব্যর্থতা ও অব্যবস্থাপনা ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, চোরাকারবারি, দেশের সম্পদ আত্মসাতকারীদের কোনো বিচার হয়না। বেসামরিক জনগণকে টুঁটি টিপে ধরা হয়েছে, তারা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে পারেনা। বড় পুকুরিয়া কয়লার খনি লুট, সোনালী ব্যাংক দূর্নীতি এবং সুইস ব্যাংকে অর্থপাচার একথা প্রমাণ করে দিয়েছে ক্ষমতাশীনরা দেশের বন্ধু নয়। তারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত। নিরাপদ সড়ক নিশ্চতকরণের জন্যও তিনি সরকারকে আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, শুধু রাস্তা সম্প্রসারণ এবং ফ্লাইওভার নির্মাণই নিরাপদ সড়কের জন্য যথেষ্ট হতে পারে না, বরং মজবুত সড়ক আইন এবং সুসংহত ট্রাফিক সিস্টেম প্রয়োজন। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও ধর্ষণের ভয়াবহতা থেকে বাঁচাতে গণদাওয়াতের মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরির পরামর্শ দেন এবং এক্ষেত্রে তিনি সামাজিক সেবা সংস্থা এবং জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব সচেতন হতে উদাত্ত আহবান জানান।

অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ এখন জাতীয় সমস্যা। সুতরাং ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে জাতির প্রতিটি সদস্যকে এই সমস্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জেলখানাগুলো এখন ভরে গেছে এসব অপরাধীদের দ্বারা। মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অলিতে গলিতে। শোনা যায় মাদকাশক্তি নিরাময়ের আড়ালেই চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। প্রশাসনের মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বস্তুনিষ্ঠ হলে মাদক সন্ত্রাস নির্মূল হয়ে যেত।

যুবনেতা কে এম আতিকুর রহমান বলেন, যুবকরাই দেশ ও জাতির প্রাণসত্তা কিন্তু মাদকের ছোবলে সব অন্তঃসারশূন্য খোলসে পরিণত হচ্ছে। এই দুরাবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রতিটি সদস্যকে কাজ করে যেতে হবে। এদেশকে ধ্বংসের এই দ্বারপ্রান্ত থেকে ন্যায়নীতির মূল সড়কে ফিরিয়ে আনতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে মানসুর আহমাদ সাকী বলেন, যুবকরা ঐক্যবদ্ধ হলে সেখানে পরিবর্তন আসবেই। সুতরাং আমাদের যুবকদেরকে মাদক, সন্ত্রাস, ধর্ষণ ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবী।

1805Shares