| |

লক্ষ্মীপুর জেলার ৪ আসনেই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী চুড়ান্ত

প্রকাশিতঃ ১০:৪১ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ০৭, ২০১৮

এ. আর. পারভেজ, লক্ষ্মীপুর (জেলা) সংবাদদাতাঃ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাঠে ময়দানে নেমে পড়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর জেলার ৪ আসনেই ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে পীর সাহেব চরমোনাইর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলের উপজেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি ডাঃ মুহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম। এ আসনটিতে ২০০৮ সালে নির্বাচন করেছেন আব্দুল কবির মীর, ১৪তে ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনে না যাওয়ায় এ আসনে কেউ প্রার্থী হন নাই, তাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন আওয়ামীলীগের অঙ্গসংগঠন তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখার প্রার্থী ডাঃ মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের স্থায়ী শান্তি, মানবতার মুক্তি, সমৃদ্ধশালী ও কল্যাণকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সন্ত্রাস দুর্নীতি দুঃশাসন নির্মুলে ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিজয়ী করার জন্য পীর সাহেব চরমোনাইর নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর -১ (রামগঞ্জ) আসনে প্রার্থী হিসেবে আমি কাজ করছি। আমি আশাবাদী রামগঞ্জবাসী ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শাহজাহান মাস্টার। ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে ময়দানে নেমে পড়েছেন। এ আসনে দশম জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সহযোগিতায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন জাতীয় পার্টির নেতা মোঃ নোমান আহমেদ।

পীর সাহেব চরমোনাইর মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান মাস্টার বলেন, ইসলামী আন্দোলন একটি আদর্শিক সংগঠন। দলের আমীর যাকেই প্রার্থী ঘোষণা দেন সেই দলের প্রার্থী হন। দলের আমীর আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমি কাজ করছি। আমি আশাবাদী মানুষ ইসলামকেই বিজয়ী করবে।

লক্ষ্মীপুর -৩ (সদর) আসলে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হবেন দলের লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি জননেতা ক্যাপ্টেন অবঃ মুহাম্মদ ইব্রাহীম। তিনি বলেন আমি ২০০৮ সালেও এ আসনে প্রার্থী হয়েছি। ১৪ তে আইএবি সহ সকল দল নির্বাচন বর্জন করায় এই আসনে কেউ প্রার্থী হন নাই। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে দলের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই আবারো আমাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

ক্যাপ্টেন অবঃ মুহাম্মদ ইব্রাহীম পেশাগতভাবে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। অবসর হওয়ায় বর্তমানে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।

নির্বাচনী বিষয় নিয়ে ক্যাপ্টেন ইব্রাহীম বলেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ এবং ইসলাম, দেশ ও মানবতার কল্যাণে, মানুষের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে মানুষ দল-মত নির্বিশেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর হাতপাখায় ভোট দিবেন বলে আমি আশাবাদী।

লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হতে পারেন ইসলামী যুব আন্দোলন লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি যুবনেতা মাওলানা আ হ ম নোমান সিরাজী। এদিকে এই আসনে আরো একজন প্রার্থী হবেন বলেও শুনা যাচ্ছে, তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা, কমলনগর চরকাদিরা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আল্লামা খালেদ সাইফুল্লাহ। এ ব্যাপারে যুব নেতা মাওলানা আ হ ম নোমান সিরাজী বলেন, খালেদ সাইফুল্লাহ হুজুর বর্তমানে একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। এদিকে হুজুর আমার সাবেক ওস্তাদ ছিলেন, খালেদ সাইফুল্লাহ হুজুর যদি নির্বাচন করেন এতে আমার কোন আপত্তি নেই। আর যদি না করেন তাহলে আমি এই আসনের প্রার্থী হবো।দলের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই নির্বাচনের জন্য যাকেই নির্বাচিত করবেন সেই হবেন দলের প্রার্থী।

যুবনেতা নোমান সিরাজী বলেন, বর্তমান সময়ে দূর্নীতি, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, নারী ও শিশু নির্যাতন, নির্বিচারে মানুষ হত্যা, গুম-খুন আইয়ামে জাহেলিয়াতকেও হার মানিয়েছে। ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষার অভাব, অর্থের প্রতি লোভ-লালসা, নৈতিক মূল্যবোধের অভাব, সামাজিক-অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা, চরিত্র বিধ্বংশী অপসংস্কৃতি আমদানি, মাদকাশক্তি এবং প্রভাবশালীদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে বেড়ে ওঠা অপরাধীদের কঠোর শাস্তি না হওয়ায় সমাজ ও রাষ্ট্রকে ক্রমেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয়ের অবসান করে হিংসা ও শান্তির সমাজ বিনির্মাণে আল্লাহভীরু লোকের নেতৃত্বে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

মানবতার কল্যাণে দলমত নির্বিশেষে মানুষ ইসলামী শক্তিকেই ক্ষমতায় বসাবেন বলে আমি আশাবাদী।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE