| |

রাজনৈতিক জোট গঠনে পীর সাহেব চরমোনাই রহ. এর দূরদর্শিতা

প্রকাশিতঃ ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ | আগস্ট ১৩, ২০১৮

১৯৯১ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ৭টি ইসলামী দলের সমন্বয়ে গঠিত হয় ইসলামী রাজনৈতিক জোট “ইসলামী ঐক্যজোট”। ১৯৯১ ও ৯৬ এর নির্বাচনে এ জোট ১টি করে আসন লাভ করে। ২০০১ সালের নির্বাচনে ঐক্যজোটে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সংকটে পড়ে।

ইসলামী ঐক্যজোটে রাজনীতির ইতিহাসে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক কাজ ছিলো ২০০১ এর নির্বাচনে ইসলামী ঐক্যজোটের বিএনপি’র নেতৃত্বে চারদলীয় জোটে অংশ গ্রহণ করা। পীর সাহেব চরমোনাই রহ. তখন ইসলামী ঐক্যজোটের মিনার প্রতিক নিয়ে এককভাবে নির্বাচন করার পক্ষে ছিলেন। এবং ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদীস রহ. ও মহাসচিব মুফতি আমিনী রহ. চারদলীয় জোটের ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার পক্ষে ছিলেন। পরে ঐক্যজোটের নেতাদ্বয় যখন খালেদা ও জামাতের সাথে জোট করতে অনড় রইলেন তখন শায়েখ রহ. ইসলামের স্বার্থে বিএনপিকে কিছু শর্ত আরোপ করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু কোন ধরনের শর্ত ছাড়াই নিরংকুশ সমর্থন প্রদান করে চারদলীয় জোটে ইসলামী ঐক্যজোটের আন্তরভুক্তির ঘোষণা ঐক্যজোট মহাসচিবের পক্ষ থেকে মিডিয়ায় এলো।

পীর সাহেব চরমোনাই রহ. ঐক্যজোট থেকে বেড়িয়ে পড়েন এবং শায়েখ রহ. বিহীন ইসলামী ঐক্যজোট চারদলীয় জোটের শরিকদলে পরিণত হয়।

দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্টার ও আলেম মুক্তিযোদ্ধার খোঁজে গ্রন্থের লেখক শাকের হোসেন শিবলীর এক প্রশ্নের জবাবে পীর সাহেব চরমোনাই রহ. বলেন, “আমি চারদলীয় জোটে না গিয়ে কোনো ভুল করিনি। বরং জোটে না যাওয়ায় যারা এতোদিন আমার বিরোধীতা করতো তারাও আজ একথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে জোটে না গিয়ে নারী নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আমি কোনো ভুল করিনি।”

https://www.youtube.com/watch?v=exiWhEtbMg0&feature=share

পীর সাহেব চরমোনাই রহ. এর জীবদ্দশাই শাইখুল হাদীস শূন্য হাতে চারদলীয় জোট ছাড়তে বাধ্য হয়ে আওয়ামী লীগের সাথে জোট করেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন একটি রাজনৈতিক দল। এই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার মূল কৃতিত্ব এই দলের। কিন্তু ইতিহাসে আওয়ামী লীগের একটা ভিন্ন মূল্যায়ন আছে। আওয়ামী লীগ সবাইকেই ব্যবহার করে এরপর ছুড়ে ফেলে দেয় ! আওয়ামী লীগ তার সব আন্দোলনের ক্ষেত্রে শত্রু-মিত্র বাছাই বা সেই সব আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ করেছে নিজেদের সুবিধামতই। এক্ষেত্রে তার ছিল না কোন নীতিবোধ, ছিলনা কোন আদর্শিক দায়বদ্ধতা।

আওয়ামী লীগ (চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে ২০০৬ সালে নির্বাচনের সময় ছিল) নির্বাচনের আগে খেলাফত মজলিশের সাথে একটি চুক্তি করে। সেখানে তারা ইসলাম বিরোধী আইন না করারও প্রতিশ্রুতি দেয়। আবার রাম-বামদের তীব্র সমালোচনার মুখে অল্পদিনেই সেই প্রক্রিয়া থেকে সরেও আসে দলটি। কিন্তু তার আগেই মজলিশের বর্তমান আমীরকে দিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকাকে নুহ নবীর কিস্তি ঘোষণার কাজটি সেরে ফেলেন। যারা বৃদ্ধ শাইখুল হাদীসকে কোমরে রশি বেধে ঢাকা থেকে বরিশালে পাঠিয়েছিল, তাদের কাছে ইসলাম প্রত্যাশা করাটাই মজলিসের বড় ভুল ছিলো। যা একটি সম্ভাবনাময় সংগঠনের মৃত্যু ডেকে এনেছিল।

আর এখনতো শূন্য হাতে পুরা ঐক্যজোটটাই বেরিয়ে এলো বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট থেকে। যে আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর অজুহাতে ইসলামী ঐক্যজোট চারদলীয় জোটে সম্পৃক্ত হয়েছিল আজ সে আওয়ামী লীগের আতংকে বিএনপিকে ছেড়ে এসেছে। এখন আওয়ামী লীগ ঠেকানোর চেয়ে পিঠ বাঁচানোই তাদের প্রধান এজেন্ডা। তাই এখন তারা আওয়ামী সুরে কথা বলেন।

সেদিন চারদলীয় জোটে না যাওয়ার জন্য শায়েখ রহ.কে কত গালমন্দ শুনতে হয়েছে! তাঁকে আওয়ামী লীগের দালাল বলা হয়েছে, ভারতের দালাল বলা হয়েছে, মু’তাজিলা বলা হয়েছে, ঐক্য বিরোধী বলা হয়েছে, মুনাফিক বলা হয়েছে !!

দলিল প্রমাণ কি? তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে যাননি। ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী সরকারের কর্মকান্ডের বিরোধিতা করেন। ভোট নষ্ট করেন।

অথচ ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! আজ মজলিস ও ঐক্যজোট বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিরে।আজ তারাও কথিত ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বিএনপির ২০ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেন, তাদের ভাষায় ভোট নষ্ট করেন। কিন্তু এতো কিছুর পরেও শায়েখ রহ. ছিলেন অটল অবিচল নির্ভিক!

আজকে ১৬ বছর পরে এসে নিস্ব হয়ে ইসলামী ঐক্যজোট ও মজলিশ যেখানে দাড়িয়েছে সেখান থেকেই তো ১৬ বছর পূর্বে চলার জন্য শায়েখ রহঃ বলেছিলেন।

১৬ বছর আগে যেই ঐক্যজোটের একটি শরিকদল ছিল চরমোনাই পীরের (রহ.) দল আজ ১৬ বছর পর সেই দলকে সামনে রেখে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করতে হয় ইসলামী ঐক্যজোটকে।

দফায় দফায় ভাঙ্গন ছাড়া কি পেয়েছে, তৌহিদী জনতাকেই বা কি দিয়েছে? এখন যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে নেই ইসলামী ঐক্যজোট?

ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসীদের কর্মকান্ডের বিরোধিতা যে করছে এখন তারা? বিএনপির এগিনেস্টে প্রার্থী দিয়ে তারও যে বিএনপির ভোট নষ্ট করছেন আজকাল। আওয়ামী লীগের দালাল, ভারতের দালাল, মু’তাজিলা, ঐক্য বিরোধী, মুনাফিক বা মীরজাফর বললে কি খুব বেশী বেমানান বা অন্যায় হবে? তাদের এগুলো বলা যদি অন্যায় হয় তাহলে তাদের উচিৎ আজ শায়েখ রহ  এর নিকট ক্ষমা চাওয়া। কারণ রাজনৈতিক জোট গঠনে পীর সাহেব চরমোনাই রহ. দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিসের দেওলিয়াত্বই তার প্রমাণ।

জাতীয় দৈনিক গুলোতে বারবার আসছে আওয়ামী মদদে সামনের জাতীয় নির্বাচনে পথ পাড়ি দিবে ঐক্যজোট। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ছয় দফা চুক্তির ভিত্তিতে নির্বাচনী সমঝোতা করেছেন। গতবারের মত এবারও যদি এরশাদ গৃহপালিত বিরোধী দল হয় তবে ৬দফা বাস্তবায়ন হোক বা না হোক মজলিসের ভাগে দু একটা আসন সংসদে কনফার্ম। কিন্তু যদি আগের মত এবারও অংকে ভুল হয় তবে সংগঠন দুটোর কবর রচিত হবে এদেশের রাজনীতিতে।

 

লেখক: সামছ আল ভুইয়া

সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী যুব আন্দোলন বি-বাড়িয়া।

2242Shares