| |

রমাযান উপলক্ষে ইসলামী আন্দোলনের ১২ দফা কর্মসুচি ঘোষণা

প্রকাশিতঃ ৮:১৩ অপরাহ্ণ | মে ১০, ২০১৮

আইএবি নিউজ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- ঢাকা  মহানগর দক্ষিণ নেতৃবৃন্দ পবিত্র কুরআন নাযিলের মাস রমাযান মাসের গুরুত্বারোপ করে রোযা রাখা এবং রমাযানের পবিত্রতা রক্ষার জন্য সকল প্রকার অনৈসলামী কাজ বন্ধের দাবি জানিয়ে পবিত্র রমাযান মাস উপলক্ষে ১২ দফা কর্মসুচি ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে নগর শাখার স্বাগত মিছিল ১৪ মে, ১৫ মে থানায় থানায় স্বাগত মিছিল, ১৭ রমাযান বদর দিবসের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল, ১-২০ রমাযান থানা ও ওয়ার্ড শাখার ইফতার মাহফিল, ১২ থেকে পথ শিশুদের জন্য ৩ মাসব্যাপী শিক্ষা কার্যক্রম, ঈদের পূর্বে গরীব, দুঃস্থ ও পথশিশুদের মাঝে ঈদের পোশাক বিতরণ, ঈদের দিন পথশিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, রমাযানের পবিত্রতা রক্ষায় হোটেল মালিকদের নিকট পত্র প্রেরণ, স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে হালালভাবে পশু জবাইয়ের জন্য গোস্ত বিক্রেতাদের মাঝে আমীরের হ্যান্ডবিল বিতরণ, বেহাল রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামতের জন্য ১৩ মে সকাল ১১টায় দক্ষিণ মেয়র বরাবর স্বারকলিপি পেশ, ১৬ মে একই দাবিতে স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ। দাবি পুরণ না হলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচি ঘোষণা।

কর্মসুচি ঘোষণা শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- ঢাকা  মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রমাযানের হক আদায় করার জন্য সকলের উপর ঈমানী দায়িত্ব হলো রমাযানের ইবাদত ও পবিত্রতা রক্ষায় সচেষ্ট হওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, নগর দক্ষিণ সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, প্রচার সম্পাদক মাওলানা এইচ এম সাইফুল ইসলাম।

লিখিত বক্তব্যে নগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম বলেন, রহমত, মাগফেরাত, নাজাত, মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল ও ঐতিহাসিক বদরের যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার মাস রমযান। রমযানের পবিত্রতা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব। ৯০% মানুষ মুসলমান হওয়ার পরেও বিগত বছরগুলোতে আমরা লক্ষ করেছি পবিত্র এই মাসে অশ্লীল ছায়াছবি প্রদর্শন, বেহায়াপনাসহ অপসংস্কৃতির ব্যাপক প্রচলন ছিল। রেডিও, স্যাটেলাইট টিভি ও পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা ভিডিও ক্লাবগুলোতে অসামাজিক, কুরুচিপূর্ণ, ইসলাম বিরোধী ছবি প্রচার করা হয় যাতে রমযানের পবিত্রতা ক্ষুন্ন হয়। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এসেবর ফলে সাধারণ মানুষ নামাজ, রোযার ইবাদাত বিমুখ হয়ে পড়েন। দিনের বেলায় হোটেল রেস্তোরা, চা দোকান খোলা রাখার কারণে রোযাদারদের সামনে বসে অনেকে পানাহার করতে দ্বিধাবোধ করে না। এতে রোযার কোন পরিবেশ নষ্ট হয় চরমভাবে। রমাযানের আগেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মূল্য লাগামহীনভাবে বাড়িয়ে দেয়া হয়। ফলে সাধারণ মানুষ মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়। আবার পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে একদল সুবিধাবাদী, চাকুরীজীবি, কালবাজারী, মুনাফাখোর, মজুদদার, ব্যবসায়ী সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দেয়, সুদ, ঘুষের ন্যায় জঘন্যতম পাপের বোঝা, এ কারণে সাধারণ জীবনযাত্রা হয়ে ওঠে দূর্বিষহ। ঈদে ঘরফেরত মানুষও বাস-ট্রেন ও লঞেআচ ভাড়া বাড়ানোর কারণে সমস্যায় পড়ে থাকেন।

তিনি বলেন, ঢাকা নগরী বিশ্বের বসবাসের অনুপযোগী শহরগুলোর মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। জলাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত পরিমাণ পয়ঃনিষ্কাশনের অভাব, বায়ু ও পরিবেশ দুষণ, উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত ও সমন্বয়হীন রাস্তা খোড়া-খোড়ী, অনিরাপদ বাসস্থান এবং নিরাপত্তাহীনতা অনেকাংশে দায়ী। ঢাকা মহানগরের কিছু এলাকা পরিদর্শন করতে গিয়ে রাস্তা ঘাটের দুরাবস্থা ও জলাবদ্ধতার যে চিত্র আমরা দেখেছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, পুলিশ কমিশনার, হোটেল মালিক, সাধারণ ব্যবসায়ী, বেসরকারী স্যাটেলাইট টিভি-রেডিওর মালিক, সিনেমা হল মালিক ও পরিচালক, বাস, লঞ্চ মালিক সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের নিকট ১৫ দফা দাবী পেশ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ১. পবিত্র মাহে রমযানে রেডিও-স্যাটেলাইট টিভি ও পাড়া-মহল্লায় গড়ে ওঠা ভিডিও ক্লাবগুলোতে সকল প্রকার অশ্লীল ছায়াছবি প্রদর্শন, বেহায়াপনা, উলঙ্গপনা ও অপসংস্কৃতি বন্ধ। ২. দিনের বেলায় হোটেল রেস্তোরা চায়ের দোকান এবং পানাহার বন্ধ রাখুন। ৪. চাল-ডাল-পিয়াজ-রসুন-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির উর্ধ্বগতি রোধ করুন এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা। ৫. সুদ, ঘুষ, দুর্ণীতি, কালোবাজারী, মজুদদারী ও মুনাফাখোরী বন্ধ। ৬. ঈদের পূর্বে ও পরে যানবাহনের অস্বাভাবিক ভাড়াবৃদ্ধি ও টিকেট কালোবাজারী বন্ধ ৭. দারিদ্র অসহায় রোযাদারগণের কষ্ট লাঘবে সরকার ও সম্পদশালীগণ সহযোগিতা করা ৮. নাগরিকদের উপর সকলপ্রকার জুলুম নির্যাতন, নিপীড়ন ও অমানবিক আচরণ থেকে বিরত থাকুন। ৯. সিয়ামের পবিত্র চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে পরমতসহিষনুতা, সহনশীলতা, পারস্পারিক সহযোগিতা, উদারতা, মানবিকতা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি এবং হিংসা, হানাহানি, জিঘাংসা ও ষড়যন্ত্র থেকে বিরত থাকুন। ১০. রমযান মাসে সাহরী ইফতার ও তারাবী নামাজের সময় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ নিশ্চিৎ করুন। ১১. ডিএনডি বাঁধের ভিতরের জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে পাম্পিং ষ্টেশন পাম্প স্থাপন করতে হবে। ১২. সকল খাল অবৈধ দখলদার মুক্ত করে পর্যাপ্ত পরিমাণ নালা-নর্দমা তৈরি করতে হবে। ১৩. স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ বর্ষার পূর্বেই বিভিন্ন পয়েন্টে যথেষ্ট পাম্পের ব্যবস্থা করতে হবে। ১৪. ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভিতর যেখানে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় তার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। ১৫. সাধারণভাবে ভেঙ্গে যাওয়া ও উন্নয়নের জন্য কাটা রাস্তা পূর্ণ বর্ষা শুরুর পূর্বেই মেরামতের ব্যবস্থা করতে হবে। ১৬. মশার উৎপাদন চিহ্নিত করে মশা নিধনের কার্যকর পদক্ষেপ ও গণ সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ১৭. রহমত, মাগফেরাত, নাজাত ও পবিত্র কুরআন নাজিলের এই মাসে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মহান আল্লাহর খেলাফতের দায়িত্ব পালনে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দৃঢ় শপথ নিন।

1078Shares