| |

মূর্তিনামা: একটি পরিসংখ্যান

প্রকাশিতঃ ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ | মে ৩১, ২০১৭

মুফতী হারুন ইজহার: আসুন! পুরো মুসলিমবঙ্গ জুড়ে একটা উড়াল নজর দিয়ে আসি আর দেখে নিই পৌত্তলিকতার খাম্বাগুলো কিভাবে সদম্ভে দাঁড়িয়ে আছে, তথাকথিত সংস্কৃতির মুখোশ পরে… মুক্তিযুদ্ধের  লেবাস পরে…

আসুন! বিলম্বে হলেও মূর্তিনামার পাঠটা সেরে নিই যে পাঠকে আমরা বন্দী করে রেখেছি সুপ্রিমকোর্টের চার দেয়ালে।

★ঢাকায় ভাস্কর্য:

দেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য স্থাপিত হয় গাজীপুর চৌরাস্তায়। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তৎকালীন রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসের জেওসি মেজর জেনারেল আমিন আহমদ চৌধুরীর উদ্যোগে এ ভাস্কর্য তৈরি করেন ভাস্কর আবদুর রাজ্জাক, তার সহশিল্পী ছিলেন হামিদুজ্জামান খান। ৪২ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চ এই ভাস্কর্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা বাম হাতে রাইফেল এবং ডান হাতে বোমা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। রাজধানী ঢাকায়ও বেশকিছু ভাস্কর্য নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে অপরাজেয় বাংলা। এর ভাস্কর সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামিদুজ্জামান খান তৈরি করেন সংশপ্তক। ভাস্কর নভেরা আহমদের উদ্যোগে কিছু ভাস্কর্য তৈরি হয়েছে, যা জাতীয় জাদুঘর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় স্থান পেয়েছে। ভাস্কর শামীম আরা সিকদার নিজ উদ্যোগে ইস্কাটনে তৈরি করেছেন জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারি। এখানে শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামীদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ১৫টি ভাস্কর্য স্থান পেয়েছে। শামীম সিকদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি করেছেন স্বাধীনতার সংগ্রাম ও স্বাপার্জিত স্বাধীনতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিল্পী নিতুন কুন্ড তৈরি করেছেন সাবাস বাংলাদেশ, ভাস্কর রাসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তৈরি করেছেন মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামিদুজ্জামান খান তৈরি করেচেন জয় বাংলা ইত্যাদি। ঢাকার বঙ্গবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সড়কে শিল্পী মৃণাল হক তৈরি করেছেন কিছু ভাস্কর্য। রাজু ভাস্কর্যে যুদ্ধের অস্ত্র হাতে তিন তরুণ-তরুণীর আন্দোলনে সম্মিলিত অংশগ্রহণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যদিও এটি তৈরির পিছনে রয়েছে অন্য ইতিহাস। ছাত্রঐক্যের গুলিতে নিহত ছাত্রইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা মঈন হোসেন রাজুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে এটি উৎসর্গ করা হয়েছিল। এটি তৈরি হয় ১৯৯২ সালে। নির্মাণ করেছিলেন ভাস্কর শ্যামল চৌধুরী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডে দেখা যায়, ভাস্কর শামীম সিকদার ত্রিকোণা আকৃতির বাগানে তৈরি করেছেন স্বাধীনতার সংগ্রাম ভাস্কর্য। এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রধান নেতা হিসেবে সবার উপরে অবস্থান দেওয়া হয়েছে। মূল বেদির পাদদেশে স্থান পেয়েছে দেশের সেরা মানুষের আবক্ষ ভাস্কর্য। এর মধ্যে বাউল কবি লালন ফকির, শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আবদুল হামীদ খান ভাসানী, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কবি নজরুল ইসলাম, শহীদ নুর হোসেনসহ শিল্পী-সাহিত্যক ও কাথিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তিবর্গ। স্বাধীনতা সংগ্রাম তৈরি করা হয় ১৯৯৯ সালে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর অন্য মুক্তিযুদ্ধ-ভিত্তিক ভাস্কর্যগুলো হচ্ছে জয় বাংলা, জয় তারুণ্য, একাত্তরের গণহত্যা, বিজয় উল্লাস, লড়াই চাই-লড়াই চাই ইত্যাদি।

★চট্টগ্রামের ভাস্কর্য:

বাংলদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমি (বিএমএ)-এ গড়া স্বাধীনতা-মানচিত্র, পাইন আর্টস ইনস্টিটিউটে ধরিত্রীর সঙ্গে বসবাস কিংবা চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বঙ্গবন্ধুর প্রথম ভাস্কর্য, পাহাড়তলীতে ব্রিটিশ বিরোধীনেত্রী বীরকন্যা প্রীতিলতার ভাস্কর্য এবং বিগত বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষে বন্দর এলাকাসহ কয়েকটি পয়েন্টে স্থাপিত ভাস্কর্যই যেন চট্টলা দর্শনার্থীদের চোখে ধরা পড়ে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নারী বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মহুতির দীর্ঘ ৪০ বছর পর তাঁর স্মরণে চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে ভাস্কর্য নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। পাহাড়তলীর তৎকালীন ইউরোপিয়ান ক্লাবের সামনে কলকাতার শিল্পী ভাস্কর গৌতম পাল এক ভাস্কর্য গড়েছেন। চসিকের অর্থায়নে বীরকন্যার আত্মহুতির স্থানে তামার একটি ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের প্রবেশদ্বারে শোভা পাচ্ছে সামুদ্রিক জন্তুসমূহের বিশাল আকারের মূর্তি।

★খুলনায় ভাস্কর্য:

খুলনা মহানগরীর প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বীর বাঙালি। চারজন মুক্তিযোদ্ধার অবয়বে এ ভাস্কর্যটি তৈরি। স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী পরিষদ ও খুলনা সিটির সাবেক মেয়র শেখ তৈয়েবুর রহমানের  উদ্যোগে এটি নির্মিত হয় ১৯৯৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এর নকশা ও পরিকল্পনা করেন প্রয়াত অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান তরফদার।

অন্যদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবিশমুখে রয়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধের ভাস্কর্য অদম্য বাংলা। এর বেদির চারপাশে স্বাধীনতাযুদ্ধের নানা ইতিহাস-সংবলিত পোড়ামাটির ম্যুরাল রয়েছে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, স্বাধীনতাযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাহদা

1008Shares