| |

মিয়ানমারে আর কত লাশ পড়লে জাতিসংঘ কার্যকর ব্যবস্থা নিবে: মুফতী ফয়জুল করীম

প্রকাশিতঃ ৮:২৫ অপরাহ্ণ | সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৭

সিরাজগঞ্জ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফিরিয়ে নিতে আরকান জান্তাকে বাধ্য করতে হবে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের মানবিক বিপর্যয় রোধ ও ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রোহিঙ্গাদের ত্রাণপ্রাপ্তি নিশ্চিতে আরো সেনা মোতায়েন করতে হবে। বান্দরবানসহ যেসব এলাকায় এখনো ত্রাণ পৌঁছছে না সেসব স্থানে রোহিঙ্গা মুসলিমদের মাঝে জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করতে হবে। বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা করুণ ও অবর্ণনীয়। তাদের ৮০ শতাংশই স্বামীহারা নারী ও পিতা-মাতা অভিভাবকহীন শিশু। তারা নিরাপত্তাহীনতার অভাব অনুভব করছে। তাই তাদের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিশুখাদ্য, পানি ওষুধ, ও স্যানিটেশন সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করছে। এদের সহায়তায় ত্রাণকার্যক্রম চলছে বিচ্ছিন্নভাবে। জরুরীভিত্তিতে যারা ত্রাণ পাচ্ছে না তাদের কাছে ত্রাণ পৌঁছাতে হবে। আশ্রয় শিবিরগুলো এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসী ও সুবিধাবাদীরা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে চাঁদা আদায়ের কথা শোনা যায়। এগুলোকে কঠোরহস্তে দমন করতে হবে।

মুফতী ফয়জুল করীম বলেন, কত বড় অসভ্য ও বর্বর হলে নিজ দেশের নাগরিকদের উপর হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, লুন্ঠন, বাড়ী-ঘর জ্বালিয়ে দিতে পারে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন জঘন্য বর্বরতা আর কোথাও নাই যা মিয়ানমার সরকার করছে তাদের নাগরিকদের উপর। আর বিশ্বাসী অবাক বিস্ময়ে এগুলো দেখছে। জাতিসংঘ তাদের কেন এ্যাকশন নিচ্ছে না এহেন বর্বরতা বিরুদ্ধে। আর কত লাশ হলে, আর কত নারী তাদের সভ্রম হারালে, আর কত শিশু হত্যা জাতিসংঘ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিবে বিশ্ববাসী জানতে চায়?

তিনি আরো বলেন, মুসলমানদের ফিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করছে। কিন্তু ধৈর্য্যেরও সীমা আছে। আরাকানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করে রোহিঙ্গাদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করতে হবে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যাকারী সামরিক জান্তা ও অং সান সুচির আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিয়ে স্বদেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর’১৭) বিকেলে সিরাজগঞ্জের স্বাধীনতা চত্ত্বরে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি মুহিব্বুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারী মুফতি আল আমিন সিরাজীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুবনেতা মুফতি শেখ নূরউন নাবীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, উলামায়ে কেরাম।

এদিকে মিয়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরৎ নেয়ার দাবিতে ২৯ সেপ্টেম্বর সারাদেশে জাতীয় শিক্ষক ফোরাম মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করবে। ঢাকার কর্মসূচি ২৮ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে। মানববন্ধন সফলের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান ও সদস্য সচিব মাওলানা এবিএম জাকারিয়া।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE