| |

ফেনী-৩ আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা আবদুর রাজ্জাক -এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

প্রকাশিতঃ ১২:৪৯ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২১, ২০১৮

মুতাসিম বিল্লাহ রাসেল, ফেনী জেলা সংবাদদাতা: ফেনীর গণমানুষের নেতা মাওলানা আবদুর রাজ্জাক ১৯৭৬ সালে সোনাগাজী উপজেলার ৬নং চর চান্দিয়া ইউনিয়নের আরব আলী সারেং বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ৫নং চরদরবেশ ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর পিতা মাহফুজুল হক এবং মাতা অজিফা খাতুন দুজনই সভ্রান্ত বংশের অধিকারী। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। সওদাগরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখার হাতেখড়ি।

প্রাইমারীতে পড়াকালীনই তিনি একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে সবার নিকট পরিচিতি লাভ করেন। শৈশবেই তাঁর মাঝে দীনি ইলম শেখার প্রচণ্ড আগ্রহ সৃষ্টি হয়। সে আগ্রহের কারণেই তিনি স্কুল ছেড়ে ভর্তি হন সওদাগরহাট মাহমুদিয়া মাদরাসায়। মাহমুদিয়া মাদরাসায় দুই বছর পড়াশোনার পর ইলমে দীনের উচ্চতর জ্ঞানার্জনের জন্য তিনি ভর্তি হন অত্র এলাকার স্বনামধন্য ইলমী মারকায, বৃহত্তর নোয়াখালীর সর্বশ্রেষ্ঠ দীনি বিদ্যাপীঠ, দারুল উলুম আল হোসাইনিয়া ওলামাবাজার মাদরাসায়।

সেখানে তিনি কৃতিত্বের সাথে হিদায়া জামাত পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ওলামাবাজার মাদরাসায় তিনি উসতাদদের প্রিয়পাত্র ছিলেন। তিনি তাঁর মেহনত-মুজাহাদা, আদব-শৃঙ্খলা ও আমল-আখলাক দ্বারা উসতাদদের নজর কাড়তে সক্ষম হন। তাঁর প্রতি মুগ্ধ হয়ে ওলামাবাজার মাদরাসার প্রবীণ উসতাদ হজরত মাওলানা মোস্তফা মুসাপুরী দা. বা. নিজ কণ্যাকে মাওলানার নিকট বিবাহ দেন। ওলামাবাজার দীর্ঘ আট বছর অধ্যয়নের পর অবশেষে তিনি উম্মুল মাদারিস, দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসা থেকে ২০০১ সালে দাওরায়ে হাদিস সমাপ্ত করেন।

ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি ঢাকা মানিকগঞ্জ শিংগাইর থানার আদর্শ ইসলামিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ফেনী ছাগলনাইয়া উপজেলার চাঁদগাজী জামেয়া ইসলামিয়া মাদরাসায় ৩ বছর শিক্ষকতা করেন। এরপর তিনি ফেনীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম মহিউসসুন্নাহ নুরপুর মাদরাসায় শিক্ষাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

আজ পর্যন্ত দীর্ঘ এক যুগ তিনি নুরপুর মাদরাসায় ইলমে দীনের প্রচার-প্রসারের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি নুরপুর মাদরাসাকে জামাতে কাফিয়া থেকে মিশকাত পর্যন্ত মাদরাসায় উপনীত করেন। নুরপুর মাদরাসায় তিনি তাফসীর, হাদিস, ফিকাহ, নাহভ, সরফ, মানতিক, বালাগাত, ইতিহাসসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাঠদান করে যাচ্ছেন। মাওলানা আবদুর রাজ্জাকের বড় পরিচয় তিনি একজন লেখক ও গবেষক। তাঁর লেখালেখি শুরু হয় ছাত্র জীবন থেকেই। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে “সাপ্তাহিক ইসলাহ” ইসলামী অঙ্গনের একটি জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল।

মাওলানা আবদুর রাজ্জাক ছাত্র জীবনেই সে পত্রিকায় ‘মুফতিনামা’ নামে ধারাবাহিক কলাম লিখতেন। ফেনী থেকে প্রকাশিত মাসিক রাহবার (পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশনকৃত নাম- মাসিক বিকিরণ) এর তিনি একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। বিকিরণ পাঠক ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন। বর্তমানে তিনি মাসিক বিকিরণের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। বিকিরণে প্রকাশিত তাঁর লেখাগুলো পরবর্তীতে বই আকারে প্রকাশ হয়েছে। তাঁর লিখিত, সম্পাদিত এবং অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় বিশের কাছাকাছি। প্রকাশের অপেক্ষায় আছে কয়েকটি বই।

এছাড়াও তিনি দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক যুগান্তর, মাসিক আল কারীম, দ্বিমাসিক ছাত্র সমাচার, মাসিক নকীব, ত্রৈমাসিক নবচিন্তাসহ বিভিন্ন পত্রিকা, স্মারক ও ম্যাগাজিনে নিয়মিত ও অনিয়মিত লিখে থাকেন। তাঁর প্রতিটি লেখায় থাকে চিন্তার খোরাক।

পাঠক তাঁর লেখা পড়ে উজ্জীবিত হয়। মাওলানা আবদুর রাজ্জাকের আরেকটি পরিচয়-তিনি আপাদমস্তক একজন সংগঠক। ছাত্রজীবন থেকেই সংগঠনের সাথে জড়িত। ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী ছিলেন তিনি। সর্বশেষ তিন সেশন তিনি ছাত্র আন্দোলনের ফেনী জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে। তার হাতে গড়ে ওঠে বেশ কিছু সংগঠক। যারা পরবর্তীতে ওয়ার্ড শাখা থেকে নিয়ে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র সংগঠন থেকে অবসরের পরপরই তিনি মূল সংগঠন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেনী জেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন।

বর্তমানে তিনি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও ওলামায়ে কেরামের অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম “জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ”-এর তিনি ফেনী জেলার সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর নিজ এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কাজে সাথেও তিনি জড়িত। তাঁর গ্রাম রহমতপুর নতুন মসজিদের পরিচালনা কমিটির তিনি সভাপতি। ওয়াজ এবং বয়ানের ময়দানেও রয়েছে তাঁর সরব পদচারনা। তাঁর তাত্মিক ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনায় শ্রোতারা মুগ্ধ হন। নুরপুর মাদরাসা মসজিদে তিনি দীর্ঘ একযুগ খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সর্বোপরি, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক সাহেব একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তাঁর স্বভাব-চরিত্র, গুণ-বৈশিষ্ট্য, চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারনা সব কিছুতেই তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠে। তিনি যেখানেই যান, তাঁর আচার-ব্যবহারে সবাই মুগ্ধ হন। সবাইকে তিনি আপন করে নেন। সবার ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হন। তিনি একজন বিনয়ী ও নিরহঙ্কারী মানুষ। তিনি কৃত্রিমতা ও লৌকিকতা থেকে দূরে থাকেন সব সময়। কারো বিপদাপদে তিনি বিচলিত হন। নিজের সামর্থানুযায়ী তাকে সহযোগিতার চেষ্টা করেন।

কবির ভাষায়- “পরের সুখে হাঁসবো আমি কাঁদবো সবার দুখে”-এর একজন বাস্তব উদাহরণ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেনী-৩ (সোনাগাজী-দাগনভূঞা) আসনের প্রার্থী হিসেবে দলীয়ভাবে মনোনীত হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২০০৮ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি এই আসন থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন।

নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি সন্ত্রাস, দুর্নীতি, কায়েমী স্বার্থবাদ, মাদকসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবেন।এবং বাজেটের শতভাগ কাজ করবেন।

763Shares