| |

ফেনী-১ আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা কাজী গোলাম কিবরিয়ার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

প্রকাশিতঃ ১:৪৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ১৫, ২০১৮

বৃহত্তর ফেনী-নোয়াখালীর দীনদার মানুষের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব মাওলানা কাজী গোলাম কিররিয়া সাহেব। ১৯৬৮ ইং সালের কোন এক শুভক্ষণে ফেনী পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের মোহাম্মাদপুর গ্রামে কাজী দানু মিয়ার ঔরসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। মায়ের নাম রেজিয়া খাতুন। কাজী দানু মিয়া এলাকার একজন সম্ভ্রান্ত ও দীনদার ব্যক্তি ছিলেন।

কাজী গোলাম কিররিয়া সাহেবের প্রাথমিক পড়াশোনা তাঁর নিজ এলাকা-বক্সমাহমুদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয়। তিনি স্কুলে পড়াকালীন বক্সমাহমুদ দাখিল মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয়। মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর তিনি আর স্কুলে পড়েননি। দীনি ইলম শিখার আশায় দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হন। উল্লেখ্য- তখনকার সময়ে সরকারী মাদরাসাগুলোতে দীনি ইলমের চর্চা, আমল-আখলাক ইত্যাদির প্রতি বেশ গুরুত্ব প্রদান করা হতো। মাওলানা কাজী গোলাম কিররিয়া সাহেব দাখিল মাদরাসায় ভর্তি হয়ে অত্যন্ত কৃতিত্বের সাথে ১৯৮৫ সালে দাখিল পাশ করেন। এরপর ১৯৮৭ সালে ফেনী বিরিঞ্চি সুফিয়া নুরীয়া সিনিয়র মাদরাসা থেকে আলিম, ১৯৮৯ সালে পরশুরাম সুবারবাজার ফাজিল মাদরাসা থেকে ফাজিল এবং ১৯৯১ সালে ফেনী আলিয়া মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করেন।

পথহারা পথিক যেভাবে তার গন্তব্যের সঠিক পথ ভুলে ভিন্ন পথে চলতে গিয়ে দিগভ্রান্ত হয়ে ঘুরতে থাকে, কাজী গোলাম কিররিয়া সাহেবও ছাত্র জীবনে দিগভ্রান্ত হয়ে ভিন্ন এক পথে চলতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার অশেষ মেহেরবানীতে তিনি পেয়ে যান যমানার এক শ্রেষ্ঠ রাহবার। যে রাহবার তাকে শুধু পথ দেখিয়েই ক্ষ্যান্ত হননি, বরং হাত ধরে সঠিক পথে চলতে শিখিয়েছেন। যে রাহবারের নুরানী ছোঁয়ায় তিনি নতুন জীবন লাভ করেছেন। সে রাহবার আর কেউ নন, যমানার কুতুব, চরমোনাইয়ের মরহুম পীর সাহেব, সৈয়দ মাওলানা ফজলুল করীম রহ.। ১৯৯১ সালে কামিল শেষ করার পর ১৯৯২ সালে তিনি প্রিয় শাইখ পীর সাহেব চরমোনাই রহ.-এর সাথে ভারত সফর করেন। উদ্দেশ্য ছিল- শাইখের অনুমতি হলে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে দাওরায়ে হাদিসে ভর্তি হয়ে সেখানকার ফয়ুজ ও বারাকাত হাসিল করবেন। কিন্তু, তখন বাবরী মসজিদ ভাঙা কেন্দ্রীক ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নাযুক হওয়ায় দারুল উলুমে পড়ার সে সুযোগ আর হয়ে উঠেনি।

মাওলানা কাজী গোলাম কিররিয়া সাহেব ছাত্র জীবন থেকেই তার শাইখের সাথে দেশের বিভিন্ন জেলায় সফর করেন। পীর সাহেব হুজুরের সফরসঙ্গী হিসেবে তিনিও দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়াজ ও বয়ান করা শুরু করেন। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি ওয়াজ ও বয়ানের ময়দানে খেদমতে করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি একজন প্রসিদ্ধ বক্তা হিসেবেও সর্বমহলে পরিচিত। মরহুম পীর সাহেবের সোহবতের কারণে তাঁর বয়ানের মধ্যে বিশেষ এক আকর্ষণ রয়েছে। তাঁর বয়ান শুনে শ্রোতাদের চোখে পানি আসে। অন্তর বিগলিত হয়। মাওলানা কাজী গোলাম কিররিয়া সাহেব এই পর্যন্ত ছয়বার হজব্রত পালন করেছেন। এর মধ্যে দুই বার তাঁর শাইখের সাথেও হজের সফরে থাকার সৌভাগ্য হয়েছে।

কাজী গোলাম কিররিয়া সাহেব দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত ফেনীর প্রাচীন মসজিদ-কামাল হাজারী মসজিদের খতীব হিসেবে নিয়োজিত আছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি তাঁর নিজ এলাকা বক্সমাহমুদে “দারুল উলুম কারীমিয়া” নামে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও ফেনী মদীনাতুল উলুম কারীমিয়া মাদরাসা ও জামেউল উলুম শেহাবিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সক্রিয় সহযোগিতায় সম্পৃক্ত আছেন। এছাড়াও মারকায ওমর রা. মাদরাসাসহ বেশ কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সাথে তিনি বিভিন্নভাবে জড়িত আছেন। বর্তমানে ফেনী কদলগাজী রোডস্থ রাবেয়া বসরী মহিলা মাদরাসার অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

সাংগঠনিকভাবে তিনি বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটির ফেনী জেলার বিভিন্ন মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক, ছদর (সভাপতি) এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেনী জেলা সেক্রেটারি, সিনিয়র সহ সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে  জেলা সভাতির দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন। মাওলানা কিররিয়া সাহেব তাঁর গ্রামের জনাব হাফেজ আহমদ পাটোয়ারীর মেয়ে বিবাহ করেন। বর্তমানে তাঁর তিন মেয়ে, এক ছেলে। দুই মেয়ে বিবাহিত। তাদের একজন কাতার, অপরজন কঙ্গোতে বসবাস করেন। ছেলে মাদরাসায় পড়াশোনা করছে।

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাওলানা কাজী গোলাম কিবরিয়া সাহেব ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফেনী-১ (ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলীয়ভাবে মনোনীত হয়েছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি সন্ত্রাস, দুর্নীতি, কায়েমী স্বার্থবাদ, মাদকসহ সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাবেন। তিনি সকলের দোয়া- বিশেষ করে ফেনী-১ আসনের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া ও সমর্থনের আশাবাদী।

1346Shares