| |

প্রসঙ্গ বন্যা : কুরবানী বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতিতে ধ্বস নামবে

প্রকাশিতঃ ৪:১৪ অপরাহ্ণ | আগস্ট ১৯, ২০১৭

মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ || কুরবানী ধনীদের জন্য অবশ্যকরণীয় একটি বিধান। যে সমস্ত অসুস্থ চিন্তাবীদরা কুরবানী না দিয়ে সে অর্থ বানভাসীদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার প্রস্তাব করেছে, তারা অথর্ব মূর্খ বৈ কিছু নয়। কুরবানীর মাধ্যমে শুধু আল্লাহর নৈকট্য/বিধানই পালন হয় না, পাশাপাশি গরীবের ঘরেও বয়ে আনে আনন্দের সু-বাতাস। রাসূলে কারীম স. এর শিক্ষা নিয়ে ধনী ব্যাক্তিরা তাদের কুরবানীর গোস্তের কিছু অংশ গরীবদের মাঝে বিলিয়ে থাকেন, ফলে গরীব মা-বাবাও স্বীয় সন্তান নিয়ে দু’মুঠো ভালো খাবারের উপলক্ষ্য খুঁজে পান। হাসি ফোটে অসহায় শিশুদের মুখে। আনন্দে নেচে ওঠে চারপাশ।

কুরবানীর পশুর চামড়া বা তার মূল্য গরীবদের জন্যই বরাদ্দ। ফলে বিক্রিত চামড়ার মূল্য দিয়েও উপকৃত হয় লক্ষ লক্ষ গরীব পরিবার। অপরদিকে চামড়া শিল্পে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিও জড়িত। হাজার হাজার টেনারী ব্যাবসায়ী রয়েছেন যারা সারা বছর লোকসান গুনেন এই কোরবানীর আশায়। কোরবানী আসলে জবাইকৃত পশুর চামড়া রপ্তানী করে পুরো বছরের লোকসান পুষিয়ে নেন। বাহির দেশের সাথেও বন্ধুত্ব তৈরী হওয়ার অন্যতম মাধ্যম এ ব্যাবসা।

দেশে হাজার হাজার মানুষ গরুর ব্যাবসা করেন। যাদের পরিবার নির্ভর করে এই ব্যাবসার উপর। প্রতিটি ব্যাবসার ক্ষেত্রেই মুনাফার একটি বাম্পার সময় থাকে। গরুর খামারী বা ব্যাবসায়ীদের সেই সময়টি হলো কোরবানী। কোরবানীকে সামনে রেখে ব্যাবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার গরু, ছাগল, মহিষ, উট বা ভেড়া লালন-পালন করে থাকেন। কোরবানী বন্ধ হলে এদের কী অবস্থা হবে?

কুরবানী উপলক্ষ্যে দেশের আনাচে-কানাচে অসংখ্য গরু-ছাগলের হাট বসে। যে হাটের মাধ্যমে সরকার-জনগণ উভয়ই আর্থিকভাবে লাভবান হয়। বহু অসহায় মানুষও ইজারাদারের কর্মী হয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারে এর মাধ্যমে। মাইক, জেনারেটর, বাঁশ, ডেকোরেটর ও ছাপাখানার ব্যাসায়ীদেরও ব্যাবসার একটি মোক্ষম সুযোগ এই কুরবানী।

কুরবানী বন্ধ হলে বানভাসীদেরও দু:খের সাগরে ভেসে বেড়াতে হবে। কেননা, তাদের অধিকাংশই কোরবানীকে ঘিরে গরু পালন করে থাকেন। যা কোরবানীর হাটে বিক্রি করলে তবেই স্ত্রী-সন্তান আর পরিবারের রুটি-রুজির ব্যাবস্থা হয়। গরু ব্যাবসায়ীদের বেশীরভাগই উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা। ফলে কোরবানীর সাথে জড়িয়ে আছে তাদের জীবন-মরণ।

কুরবানীর সাথে কতো কিছুই না জড়িত! দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি, ব্যাবসায়ীদের মুনাফা, গরীবদের হাসি ইত্যাদি জড়িয়ে আছে এই কুরবানীর সাথে। সাথে আল্লাহর হুকুম তো আছেই! কোরবানী বন্ধ করে দেয়া হলে যে হাজার হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে শুধু তাই নয়, বরং প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থায়ও। তাহলে ওরা কারা? যারা বানভাসীদের দরদী সেজে দেশকে দুর্বিক্ষের দিকে ঠেলে দিতে চায়? কেড়ে নিতে চায় গরীব-অসহায়দের মুখের হাসি? ব্যাবসায়ীদের বানাতে চায় পথের ভিখারী? ধ্বস নামাতে চায় দেশের অর্থনীতিতে? কারা ওরা! যারা কুরবানী বন্ধ করে আল্লাহর বিধান মুছে ফেলতে চায়?

শোন হে ফুজ্জার! বানভাসীদের পাশে দাঁড়াতে কুরবানী বন্ধ করতে হবে না, বরং যারা কুরবানী দিবেন তারা এমনিতেই অসহায়দের সহযোগিতা করবেন। তোদের মায়া কান্নায় থু থু নিক্ষেপ করি আমরা।

অশ্লীল সিনেমা নাটক আর কাল্পনিক বিজ্ঞাপনে দেশের অর্থ নষ্ট না করে সেগুলো বন্যার্তদের মাঝে বিলিয়ে দাও! তোমাদের নাটক সিনেমার ফলে দেশ আজ অশ্লীলতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে। ধর্ষন, পরকিয়া, আত্মহত্যা ইত্যাদি দিন দিন বেড়েই চলছে। আর এর পূর্ণ অবদানটাই তোমাদের। তোমরা দেশ জাতিকে কিছুই দিতে পারোনি এক অসভ্যতা ছাড়া। কোটি কোটি টাকা পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছো তোমরা। সুতরাং, মায়ারান্না না দেখিয়ে বাস্তবতায় ফিরে এসো! ফিরে এসো সত্য ন্যায় ও কল্যাণের পথে।

বিউটি পার্লারে না গিয়ে অযু করে নামাযে দাঁড়াও! গার্লফ্রেন্ডের সাথে ডেটিংয়ে বের না হয়ে সিজদায়ে লুটিয়ে পড়ো! দেখবে তোমার চেয়ে লাবণ্যময়ী নারী/পুরুষ দ্বিতীয় কাউকে পাবে না। আল্লাহ প্রদত্ত্ব নূরের ঝলকে ঝিলমিল করবে তোমার অবয়ব। তুমিই হবে শ্রেষ্ঠ সুন্দরী/সুন্দর। অন্তরে ঈমানের নূর চমকালে কেবল তখনই বুঝতে পারবে কোরবানী কী জিনিস! কতো কল্যাণ রয়েছে এ কোরবানীতে। পাশাপাশি এও বুঝতে পারবে যে, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে কোরবানী বন্ধ করতে হয় না, বরং স্বদিচ্ছা থাকলে কোরবানী দিয়েও তাদের সহযোগিতা করা যায়।

আসুন! সারাদেশের কুরবানীর হাটগুলিতে বন্যা কবলিত এলাকার ব্যাবসায়ীদের গরু-ছাগলকে প্রাধান্য দিতে ইজারাদারদের উদ্বুদ্ধ করি। পাশাপাশি যারা কোরবানী দিবো, তারাও যথাসম্ভব বানভাসী ব্যাবসায়ীদের থেকে কুরবানীর পশু ক্রয় করি। যার যতোটুকু তৌফীক বা মাধ্যম রয়েছে, সে সেভাবে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াই।

4793Shares