| |

পীর সাহেব চরমোনাই রহ.-এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিতঃ ৭:৩৮ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ১০, ২০১৭

তার আপোসহীন ভুমিকা ভবিষ্যতে ইসলামী বিপ্লবের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে

আইএবি নিউজ : মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম রহ. এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট রাজনীতি ও শিক্ষাবিদগণ বলেছেন, মাওলানা সৈয়দ ফজলুল করীম রহ.এর আপোসহীন ভূমিকা ভবিষ্যতে ইসলামী বিপ্লবের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন আপোসহীন রাজনৈতিক মহাপুরুষ। তাঁর আপোসহীনতার কারণে প্রচলিত দুষিত, কলুষিত ও নোংরা রাজনীতিতে তাঁকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। তিনি ইসলামবিরোধী নারী নেতৃত্ব ও প্রচলিত রাজনীতির উর্ধ্বে সহীহ ইসলামী ধারার প্রবর্তক ছিলেন। তিনি ছিলেন মুসলিম চেতনাবোধ জাগরণের পথিকৃৎ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের মুসলমানদের মুসলিম চেতনাবোধ জাগ্রত করতে আধ্যাত্মিকতা ও রাজনীতির সবক দিয়ে নতুনধারার দৃষ্টভঙ্গি সৃষ্টি করেছিলেন শায়খ সৈয়দ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই (রহ)। মুসলমানদের মহান শ্রষ্ঠার দিকে ফিরে যেতে “তায়াল্লুক মায়াল্লা” (আল্লার সাথে সর্ম্পকের) থিওরী দিয়েছিলেন। তার লাখ লাখ অনুসারীদেরকে আধ্যাতœবাদের শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে দুনিয়া ও পরজগতে শান্তি লাভের কথা বলেছেন। তারা বলেন, তরিকতের লাইনে একজন প্রখ্যাত আধ্যাত্মিক সাধক হয়েও তিনি আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ইসলামের আলোকে গড়ে তুলতে। তিনি ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন জীবনের সকল পর্যায়ে এবং এ সংগ্রামকে তিনি উত্তম ইবাদত মনে করেছেন। মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ ফজলুল করীম রহ. ছিলেন একজন নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিক। পূর্বসূরী আউলিয়ায়ে কেরামের মতো তিনিও প্রচলিত ধারার শুধু ক্ষমতা বদলের রাজনীতি পছন্দ করতেন না। তিনি বলতেন-“প্রচলিত পদ্ধতিতে কেয়ামত পর্যন্তও যদি ক্ষমতার হাত বদল হয়, তবুও জনতার মুক্তি আসবে না।” তিনি নীতি ও সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তন চেয়েছেন। তিনি রাজনীতি ও প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতির গুণগত পরিবর্তন চেয়েছেন। তিনি বলতেন, “শুধু নেতার পরিবর্তন আর ক্ষমতার হাত বদল হলেই শান্তি আসতে পারে না।

শুক্রবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে পুরানা পল্টনস্থ আইএবি মিলনায়তনে ইসলামী যুব আন্দোলন আয়োজিত পাক-উপ মহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ ইসলামী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম রহ.এর জীবন ও কর্ম শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়ধ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কেএম আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে সেক্রেটারী জেনারলে মাওলানা নেছার উদ্দিন ও মাওলানা কাওছার বাঙ্গালীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. মাইমুল আহসান খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা আশরাফ আলী আকন, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমীর ড. মাওলানা ঈসা শাহেদী, অধ্যাপক এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান, দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, ছাত্রনেতা শায়খ ফজলুল করীম মারুফ, মাওলানা আতাউর রহমান আরেফী, ইঞ্জিনিয়ার শরীফুল ইসলাম, আলী হোসেন কাজল মাস্টার, নুরুল ইসলাম নাঈম প্রমুখ।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, রাজনীতিকে তিনি এবাদত ও  পরকালীন কল্যানের মধ্যম মনে করতেন। কারণ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা মুসলমানের দায়িত্ব । তার এই  দৃষ্টিভঙ্গিকে “রুহানিয়াত ও জিহাদ অভিহিত করা হয়। সাময়িক স্বার্থ চিন্তায় তিনি কখনো তাড়িত হতেন না। চমক আর হুজুগের রাজনীতি, আবেগ আর হঠকারী রাজনীতি তিনি পছন্দ করতেন না। তিনি ইসলামী রাজনীতির স্বতন্ত্র ধারা বজায় রাখতে চেয়েছেন। তিনি জাতীয় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের কথা ভাবতেন।

তিনি বলেন, মাওলানা ফজলুল করিম রহ. এর ৭১ বছরের কর্মময় ও সংগ্রামী জীবন এক বিস্ময়কর উপখ্যান। তিনি পথভোলা মানুষের আত্মিক পরিশুদ্ধি ও নৈতিক সমৃদ্ধির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা যেমন চালিয়েছেন তেমনি জুলুম ও অন্যায়ের মোকাবেলা করেছেন। তিনি গণমানুষের মুক্তির জন্যে অধিকার আদায়ের জন্যে রাজপথে আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছেন। পীর সাহেব রহ. এদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়াজ মাহফিল, তালিম তারবিয়াত, আলোচনা, সভা ও সমাবেশের মাধ্যমে তিনি মানুষকে মহান শ্রষ্ঠার পথে প্রস্তুত করেন। তার সহকর্মীদের মতে, ইসলামের দাওয়াতের জন্য তিনি বাংলাদেশের সকল থানায়ই সফর করেছেন। ত্যাগ কুরবানীর বদৌলতে তিনি আজ আমাদের হৃদয়ে, বাংলার মুসলমানদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, পীর সাহেব চরমোনাই রহ. সাদাসিধে জীবনের অধিকারী ছিলেন। তিনি যা বলতেন তা করতেন। নীতির ক্ষেত্রে ছিলেন আপোসহীন।

ড. মাইমুল আহসান খান বলেন, ফজলুল করীম রহ. ছিলেন একজন ব্যতিক্রমধর্মী আধ্যাত্মিক সাধক ও রা নৈতিক মহাপুরুষ। তিনি একই সাথে আধ্যাত্মিকতা ও রাষ্ট্র নিয়ে গভীর চিন্তা করতেন। তিনি যে বিষয়টি নিয়ে খুব ভাবতেন তা হলো বিচার ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে। এ দু’টি বিষয় সমন্বয় করে  কিভাবে কাজ করা যায় তা নিয়ে খুব ভাবতেন। তিনি দৃঢ়চেতা, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ও উদার মনের মানুষ ছিলেন। এমন মানুষ খোঁজে পাওয়া কষ্টকর।

ড. ঈসা শাহেদী বলেন, রাজনীতি ও আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব সমন্বয় করে তিনি। তিনি ইসলামবিরোধী যে কোন বিষয়ে কঠোর প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করে গেছেন।  ইসলাম বিজয়ের ক্ষেত্রে তাঁর অসামান্য ত্যাগ ও কুরবানী স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি ঐক্যকামী ছিলেন। ইসলামপন্থিদের ঐক্য তিনি মনেপ্রাণে কামনা করে সে আলোকে কাজ করে গেছেন।

1112Shares