| |

ধর্ম তো বটেই, পশু সমাজেও সমকামিতার অনুমোদন নেই: গাজী আতাউর রহমান

প্রকাশিতঃ ৮:৩২ পূর্বাহ্ণ | জুলাই ০৩, ২০১৭

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে একটি নাটক প্রচারিত হয়েছে। যেখানে সমকামীদের কাজকে সাপোর্ট করা হয়েছে। বিকৃত এ যৌন মানসিকতাকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রচারে ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশের সচেতন ও চিন্তাশীল মানুষ। তারা মনে করছেন এতে সমাজের অস্বাভাবিক ও বিকৃত এ যৌনাচারে উৎসাহিত হবে। সমাজের চিরায়ত সুস্থ বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি এখন আলোচনার শীর্ষে। সময়ের চলমান এ ইস্যুতে আওয়ার ইসলাম মুখোমুখি হয় ইসলাম বিশ্লেষক ও রাজনীতিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের। আওয়ার ইসলামের পক্ষে তার সঙ্গে কথা বলেন আতাউর রহমান খসরু।

আওয়ার ইসলাম : সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত একটি নাটক নিয়ে তুমুল বিতর্ক হচ্ছে। বলা হচ্ছে, নাটকে সমকামীদের সাপোর্ট দেয়া হয়েছে এবং বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে দেখানো হয়েছে। এটিকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

গাজী আতাউর রহমান : অবশ্যই ঘৃণিত কাজ হয়েছে। আমি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছি।  আমি মনে করি, এর মাধ্যমে বিকৃত যৌনাচারে উৎসাহিত হবে মানুষ।

আওয়ার ইসলাম : আপনারা কেনো এর বিরোধিতা করছেন?

গাজী আতাউর রহমান : প্রথমত ইসলামে সমকামিতা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমাদের সংবিধানেও সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে। এটা কোনো দেশ ও ধর্মের বিষয় নয়; বরং এর সঙ্গে সমাজ, সভ্যতার ও মানব জাতির অস্তিত্বের সম্পর্ক। সুস্থ বিবেক সম্পন্ন কোনো মানুষ এটাকে সমর্থন করে না। কোনো ধর্মে সমকামিতার অনুমোদন নেই। পশু সমাজেও সমকামিতা নেই।

আওয়ার ইসলাম :  পশ্চিমা বিশ্বের অনেক রাষ্ট্র এটাকে অনুমোদন দিয়েছে…

গাজী আতাউর রহমান : পশ্চিমা বিশ্বের কথা বলে লাভ নেই। তারা শুকর/কুকুর খায়, সেখানে মদপানের স্বাধীনতা আছে এখন কি আমাদের তাই করতে হবে। আমাদের একটা নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে। ইসলাম ধর্মের কথা না হয় বাদ দিলাম; শুধু  বাঙালি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিকে তাকালেও হাজার বছরের ইতিহাসে কোথাও সমকামিতার স্থান নেই।

আওয়ার ইসলাম :  এখন আপনাদের দাবি কী?

গাজী আতাউর রহমান : আমাদের দাবি শুধু পরিচালক ও প্রযোজক নয়; শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা এর সাথে জড়িত সবারই উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

সাথে সাথে এর মূলে যারা রয়েছে তাদেরও খুঁজে বের করতে হবে। যেনো ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সব পথ বন্ধ হয়।

আওয়ার ইসলাম :  তার মানে আপনি বলতে যাচ্ছেন এটা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়?

গাজী আতাউর রহমান : অবশ্যই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এটা ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডেরই অংশ। বহু বছর ধরে যারা এ দেশের পশ্চিমা সংস্কৃতির এ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করছে, এসব তাদের মিশনারি কাজ। তারা অল্প অল্প করে এদেশের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংস করে পশুর সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে।

আওয়ার ইসলাম :  বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সমকামিতা নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তারপরও প্রচার মাধ্যমে সমকামিতা উৎসাহিত করে এমন নাটক প্রচার হওয়াটাকে কেমন মনে করেন?

গাজী আতাউর রহমান : রাষ্ট্র জনগণের অভিভাবক। সুস্থ সমাজব্যবস্থার নিরাপত্তা, জনগণের বিশ্বাস ও মূল্যবোধ সংরক্ষণ, বিকৃত রুচি ও মানসিকতা থেকে সমাজ ও জনগণকে রক্ষা করার দায়িত্ব তার। বিকৃত যৌনাচারকে উৎসাহিত করে এমন কিছু প্রচার হলে রাষ্ট্রের দায় থেকেই যায়।

তাছাড়া যেখানে রাষ্ট্রীয় আইনে বিষয়টি নিষিদ্ধ। সেখানে নিষিদ্ধ বিষয়কে উৎসাহিত করে এমন বিষয় প্রচারিত হওয়ার অর্থ আইনের প্রয়োগ ঠিক মতো করছে না।

আওয়ার ইসলাম :  রাষ্ট্র বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন?

গাজী আতাউর রহমান : আমি সংশ্লিষ্ট সবাইকে বোঝাচ্ছি। বিশেষত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় ও আইন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।

তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমগুলো মনিটরিং করে তাদের অবশ্যই কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নতুবা তারা জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে।

আওয়ার ইসলাম :  আপনাদের পরিকল্পনা কী?

গাজী আতাউর রহমান : আমরা শুরু থেকে প্রতিবাদ করছি। সামনে আরও সুসংগঠিত প্রতিবাদ করবো। বিশেষত আামরা মানুষকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে চাই। জনগণ সচেতন হলে সব অপসাংস্কৃতির বিদায় হবে এটা আমার বিশ্বাস।

আওয়ার ইসলাম :  যদি রাষ্ট্র ভ্রুক্ষেপ না করে?

গাজী আতাউর রহমান : বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। সময়ই বলে দেবে আমাদের কী করতে হবে। প্রয়োজন হলে আমরা মাঠ নামতেও পিছুপা হবো না।

 

আওয়ার ইসলাম

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE