| |

তিন সিটি নির্বাচনের স্বচ্ছতার উপরই নির্ভর করছে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভবিষ্যত

প্রকাশিতঃ ৭:৫৫ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৯, ২০১৮

রাত পোহালেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ তিন সিটি তথা বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ তিন সিটিতেই ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করেছিল। শুধু এ তিনটিই নয় বরং গাজীপুর, খুলনা ও কুমিল্লাও তাদের দখলে ছিল। তবে গুরুত্বপূর্ণ এ ছয়টি সিটি কর্পোরেশন বিএনপির দখলে থাকলেও দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন বা রাজনৈতিক ইস্যুতে তেমন কোন অবদান তারা রাখতে পারে নি। তবে বিগত ঐ ছয় সিটি নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভ করার নানা কারণ ছিল। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হল তখন দলীয় সরকারের অধীনে ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপিকে অানতেই হয়ত অাওয়ামীলীগ কৌশল অবলম্বন করেছিল। বিনিময়ে বিএনপিকে ছয়টি সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বভার দিয়ে পুরো দেশ আওয়ামীলীগ বিনা ভোটের শাসন করার ঠিকাদারী  নিয়েছিল।

তবে আওয়ামীলীগ আর এবার ছাড় দেওয়ার পার্টি নয়। যেকোনো ভাবেই হোক সকল সিটি তাদের চাই-ই চাই। বিগত খুলনা আর গাজীপুরের নির্বাচন দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে কিভাবে ডিজিটাল কায়দায় ভোট ডাকাতির মহোৎসব হয়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে সকলেই তথা সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগীরা নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করতে যথেষ্ট দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এমন কি অধিক ভোট দেখানোর জন্য মৃতব্যক্তির ভোট কাস্টিং পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। তবে রংপুরে কিছুটা সুষ্ঠু ভোট হলেও সেটা অাওয়ামী কৌশলেরই অংশ বিশেষ। রংপুরকে জাপার ঘাটি হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তাই স্বভাবতই জাতীয় পার্টিকে হাতে রাখতে আওয়ামীলীগ জাপান জন্য রংপুর ছেড়ে দিয়েছে। আর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এরশাদ সাহেবও ভারতমাতার অার্শীবাদে তাদের জন্য বরিশালে জাপার দুজন প্রার্থী থাকা সত্বেও তাদেরকে নৌকারোহী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

অাগামীকাল যে নির্বাচন হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয় বিগত সিটি নির্বাচনগুলোতে যে হারে ভোট ডাকাতি হয়েছে, তার চেয়ে কোন অংশে ভোট ডাকাতি কম হবে না বরং কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এর অন্যতম কারণ হল:-

১. এ তিন সিটিতেই বিগত নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। তাই অাওয়ামীলীগ যেকোনমূল্যরূপ এগুলো দখল করবে।

২. এ সিটি গুলো হাত ছাড়া হলে জাতীয় নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

৩. মিডিয়া যেহেতু সরকারের একনিষ্ঠ গুণগ্রাহী তাই ডাকাতির মহোৎসব তেমন ফলোআপ হয় না।

৪. নির্বাচনী অাচরণবিধি যেহেতু বিরোধীপক্ষকে ঘায়েল করার জন্যই প্রণিত তাই অন্যপ্রার্থীরা অনেকটা চুপসে থাকেন।

৫. ভোট ডাকাতির পর সাধারণত বিচারের আওতায় কাউকে অানা হয় না তাই নির্বিঘ্নে ভোটের দিন অনিয়ম করার সুযোগ কেউ হাতছাড়া করে না।

৬. বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠনের সময় হয়ত শর্ত দিয়েছে আওয়ামী প্রার্থী ব্যতীত কাউকে জয়ী করা যাবে না। যার দরুণ সকল সিটি নির্বাচন, পৌর নির্বাচন, উপজেলা নির্বাচন এমন কি ইউপি নির্বাচনেও কমিশন যথার্থ অাজ্ঞাবহতার পরিচয় দিয়েছে।

তবে যাই হোক জাতীয় নির্বাচনের আগে অাগামীকালকের অনুষ্ঠিতব্য তিন সিটি নির্বাচন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। যদি অস্বচ্ছ, কারচুপি আর ভোট ডাকাতির মহোৎসব হয় তবে স্বাভাবিক ভাবেই দেশবাসী এ নির্বাচন প্রত্যাখান করবে। অান্তর্জাতিক মহল যেহেতু তিন সিটিতেই নির্বাচনী পর্যবেক্ষক টিম পাঠিয়েছে সুতরাং অান্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সর্বোপরি নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। যেকোন সময় গণ মানুষের ক্ষোভ, রাজনৈতিক দলের ইউটার্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

আমাদের প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশন ও সরকার স্বচ্ছ- সুন্দর একটি ভোটোৎসব পরিবেশে গণমানুষের রায়ের মাধ্যমে তাদের নগরপিতা নির্বাচন করার পরিবেশ তৈরি করে জনগণের অাস্থা অর্জনে স্বচেষ্ট হবে।

 

জি.এম. রুহুল আমীন

সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ইশা ছাত্র অান্দোলন। বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (প্রবাসী), ইসলামী যুব আন্দোলন।

442Shares