| |

খুলনায় ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত 

প্রকাশিতঃ ৫:১৯ অপরাহ্ণ | জানুয়ারি ১১, ২০১৮

শেখ নাসির উদ্দিন, খুলনা প্রতিনিধিঃ আজ বৃহস্পতিবার (১১ জানুয়ারী) বেলা ১২টায় খালিশপুর পিপলস সংলগ্ন আইএবি কার্যালয়ে রাষ্ট্রয়ত্ব পাটকলগুলোতে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের বর্তমানে বিরাজমান সমস্যাগুলো জরুরী ভিত্তিতে সমাধান ও বাংলাদেশ পাটকল সিবিএ নন সিবিএ পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে “সংবাদ সম্মেলন”।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!

আস্সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। আশা করি, রাব্বুল আলামিনের অশেষ মেহেরবাণীতে ভাল আছেন। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে যে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন এজন্য শুরুতেই ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন খুলনা মহানগরের পক্ষ থেকে আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি এবং আপনারদের সুস্বাস্থ্যের কামনা করছি।

জাতির বিবেক প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!

আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, বাংলাদেশের সকল রাষ্ট্রয়ত্ব পাটকলের বর্তমান দুরাবস্থা অথচ পাট ছিলো এক সময় বাংলাদেশ প্রধান অর্থকরী ফসল। পাটকে বলা হতো সোনালী আশ। এই সব মিল কারখানায় চাকুরী করে হাজার হাজার শ্রমিকসহ তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। শ্রমিকদের মাথার ঘাম পায় ফেলে যে উৎপাদন করা হত তার মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেত। এদেশে পাটকলের গুরুত্ব তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক যা আপনাদের সকলের জানা।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইগণ!

বর্তমানে রাষ্ট্রয়ত্ব পাটকলের যে অবস্থা যা ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। আজ পাটকলের মেশিন ও যন্ত্রপাতি দীর্ঘ দিনের পুরোনো ও অকেজো হওয়ায় সঠিক সময়ে সঠিক উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। যার দোষ শ্রমিকদের উপর অন্যয়ভাবে চাপানো হচ্ছে।

জাতীর বিবেক সাংবাদিক বন্ধুগণ!

খেটে খাওয়া গরিব শ্রমিক কর্মচারীদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস বেতন মজুরি না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে অর্ধহারে অনাহারে দিন অতিবাহিত করছে। ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হচ্ছে। বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরছে। প্রচ- ঠান্ডায় শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে। তাদের দুঃখ দুর্দশা কোন বিবেকবান মানুষ সহ্য করতে পারে না।

প্রিয় সাংবাদিক ভায়েরা!

আপনারা জানেন ১লা জুলাই ২০১৫ সালে পে-কমিশন বাস্তবায়ন হলেও শ্রমিক ভাই বোনেরা আজ ও মজুরি কমিশন ঘোনাই হয়নি। এটা অত্যন্ত পরিতাপ ও দুঃখ জনক। যা বিমাতা সুলভ আচরণ ছাড়া কিছু না। বিধায় উর্ধ্বগতি দ্রব্য মূল্যের বাজারে স্বল্প মজুরি পাওয়ার কারণে শ্রমিকরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

সম্মানিত সাংবাদিক বন্ধুগণ!

আজ আমরা তথা ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন শ্রমিকদের এই করুন অবস্থায় ঘরে বসে থাকতে পারে না। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আদায়ের আন্দোলনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন পূর্বের ন্যায় এবারো শ্রমিকদের সাথে সকল আন্দোলনে শরিক থাকবে ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ রাষ্ট্রয়াত্ব পাটকল সিবিএ নন সিবিএ পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত ১১ দফা দাবির সাথে আমরা পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার ঘোষণা দিচ্ছি। পাশাপাশি ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকল শ্রমিকদের সাথে নিয়ে আগামী ১৪ জানুয়ারী ২০১৮ রোজ রবিবার সকাল ১১টায় পিপলস গোল চত্ত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। এতে যদি সমাধান না হয় তাহলে আমরা কঠোর কমসূচী দিতে বাধ্য থাকবো।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগরীর সভাপতি ও কেসিসি মেয়র প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওঃ মুজ্জাম্মিল হক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন খুলনা নগর সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, মাওঃ হাফিজুর রহমান, জি এম কিবরিয়া, মোঃ মোস্তফা হাওলাদার, মোঃ লুৎফর রহমান নকীব, মোঃ মামুনুর রশিদ, মোঃ আঃ সবুর, মুহা. ইয়ামিন মোল্লা, মোঃ মনির হোসেন, মোঃ জামাল হোসেন।

 

0Shares