| |

কেসিসি নির্বাচনে অতীতের মত ভোট ডাকাতি করলে তীব্র আন্দোলন : ইসলামী আন্দোলন

প্রকাশিতঃ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ | মে ১৪, ২০১৮

আইএবি নিউজ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিয়িাম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেছেন, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতির কারণে দেশের সর্বত্র দুর্নীতি মহামারি আকার ধারণ করেছে। দেশের সর্বত্র চলছে দুর্নীতি আর দুঃশাসনের মহা প্রতিযোগিতা। সুইপার-কুলি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বোচ্ছ ব্যক্তি পর্যন্ত সকলেই কোন না কোনভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িত। সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতির ভয়াবহ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যাধি। এই ব্যাধি জাতি হিসেবে আমাদেরকে বিশ্বের সামনে মাথা উচুঁ করে দাড়াতে দিচ্ছে না।

তিনি বলেন, রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধিতে জনজীবন চরম দুর্বিষহ করে তুলেছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে সামনে রেখে একদিকে ইবাদত বন্দেগী করে অপরদিকে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করে। এমন ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই মুল্য বৃদ্ধি খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করতে হবে। মাহে রমজানের সম্মানে সব ধরণের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকতে ও রাখতে সরকারকে কার্যকরি উদ্যোগ নিতে হবে।

অধ্যক্ষ মাদানী আরও বলেন, খুলনা সিটি নির্বাচন নিয়ে অতীতের মত ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র দখল ও জালভোট দেয়ার পাঁয়তারা করলে দেশবাসি রুখে দাড়াবে। তিনি সন্ত্রাস,দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত খুলনা গড়তে হাতপাখায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

সোমবার (১৪ মে’১৮) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে মাহে রমাযানের পবিত্রতা রক্ষা অশ্লীলতা বেহায়াপনা বন্ধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উর্ধ্বগতি রোধের দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, উত্তর সহ-সভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসাইন, দক্ষিণ সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, সেক্রেটারী মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, হাফেজ মাওঃ সিদ্দিকুর রহমান, ডা. শহিদুল ইসলাম, মুফতী মাছউদুর রহমান, মাও. এইচএম সাইফুল ইসলাম, যুবনেতা মানসুর আহমদ সাকী প্রমুখ।

অধ্যাপক হেমায়েত উদ্দিন বলেন, সকল দিক থেকে রমজানের মাহাত্ব ও গুরুত্ব¡ অপরিসীম হলেও রমজানের মর্যাদা আমাদের দেশে চরমভাবে ভুলুন্ঠিত। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় রাষ্ট্রীয়ভাবেও কোন উদ্যোগ নেই। খাদ্যে ভেজাল দেয়া শুরু হয়। নিত্যপ্রয়োজনী দ্রব্যাদির কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি করে রমজানের গুরুত্বকে ম্লান করে দেয়া হয়। আবার রমজান মাসেও একশ্রেণির লম্পট লোক মাহে রমজানেও অশ্লীলতা-বেহায়াপনা, বেপর্দা-নগ্নতার ছড়াছড়ি করে রোজাদারদের পবিত্রতা বিনষ্ট করার পরিবেশ তৈরি করে। এসকল অন্যায় ও খোদাদ্রোহীতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্মূল করতে কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশে রমজানের পবিত্রতা ব্যাহত হলে ঈমানদার জনতা ঈমান রক্ষায় রমজান মাসেও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। সাহরী ও ইফতারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়নের নামে রাস্তাঘাট খোড়াখুড়ি বন্ধ করে জনদুর্ভোগ লাঘব করতে হবে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম পল্টন মোড় হয়ে সুরমা টাওয়ারের সামনে এসে মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

 

1516Shares