| |

কুড়িগ্রামের ইজতেমাকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা

প্রকাশিতঃ ৬:৫২ অপরাহ্ণ | ডিসেম্বর ০৬, ২০১৭

শফিকুন্নবী বাইজিদ, কুড়িগ্রাম (জেলা) সংবাদদাতাঃ সৈয়দ এছহাক রহ. এর হাত ধরে চরমোনাই তরীকার আবির্ভাব ঘটেছে কুড়িগ্রামে। তারই ধারাবাহিকতায় শায়েখ রহ. ও বর্তমান শায়েখদ্বয়ের দীর্ঘ কষ্টের ফসল আজকের কুড়িগ্রাম। দ্বিতীয় চরমোনাই হিসেবে কুড়িগ্রাম সুখ্যাতি অর্জন করেছে প্রায় একযুগেরও বেশি সময় ধরে। ২০০৪ সালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে শায়েখ রহ. এর হাত ধরে প্রথম চরমোনাই মাহফিলের আদলে ইজতেমার উদ্বোধন হয়। তারপর ধারাবাহিকভাবে এই ইজতেমার কার্যক্রম চলছে। কুড়িগ্রাম সরকারী কলেজের প্রায় ১০ একর পরিমাণ মাঠেও লোকের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় শায়েখ রহ. এর ইন্তেকালের পর ধরলা ব্রীজ পূর্বপাড়ে ফজলুল করীম রহ. জামিয়া ইসলামিয়া প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি কুড়িগ্রাম জেলা শাখা এই ইজতেমার আনজাম দিয়ে আসছে।

কুড়িগ্রামের তিনদিন ব্যাপী এই ইজতেমা ইতোমধ্যেই কুড়িগ্রামের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। অধীর আগ্রহ নিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ অপেক্ষায় থাকে ডিসেম্বর মাসের। বিশেষ করে ইজতেমা মাঠের উত্তর কোণে বহুল আলোচিত ঘুঘু মুন্সীর কবর জিয়ারতের সুযোগটাও কেউ হাতছাড়া করতে চায় না। ইজতেমাকে উদ্দেশ্য করে গোটা রংপুর অঞ্চলের মানুষতো আসেই সেই সাথে রাজশাহী ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ থেকেও অসংখ্য কাফেলা আসতে দেখা যায়। সেইসাথে মহিলাদের ব্যাপক উপস্থিতিতে অনেকটা হিমশিম খেতে হয় এন্তেজামিয়া কমিটিকে। এবারো প্রায় ৫ একর সমপরিমাণ জায়গা জুড়ে মহিলা প্যান্ডেলের কাজ চলছে।

অন্যান্যবারের চেয়ে এবার প্রধান প্যান্ডেলও বাড়ানো হয়েছে বহুগুণে। প্রায় ২০ একর জমিতে ছামিয়ানা টানানোর কাজ চলছে। বিশেষ করে ইজতেমার ২য় দিন থেকে গোটা কুড়িগ্রাম শহরে মানুষের ভিড়ে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সামাল দিতে অনেকটা বিপাকেই পড়তে হয় প্রশাসনকে।

প্রশাসনের পাশাপাশি প্রায় একহাজারের মতো সেচ্ছাসেবক, বিশেষ গোয়েন্দা টিম সহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে সাজানো থাকে গোটা ইজতেমা ময়দান।

চরমোনাই মাহফিলের ন্যায় বাদ যোহর পীর সাহেব হুজুরের উদ্বোধনী বয়ানের মাধ্যমে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয় এবং যথানিয়মে সাতটি বয়ানের পাঁচটি আমীরুল মুজাহিদীন ও দুইটি নায়েবে আমীরুল মুজাহিদীন করে থাকেন। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন, তৃতীয় দিন ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর শায়েখ রহ. এর খোলাফা সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম তাশরীফ আনেন ইজতেমায়। বিশেষ করে শুক্রবার বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জুমার নামাজে অংশ নিতে মানুষের ঢল নামে ইজতেমা ময়দানে।

প্রতিবছরের ন্যায় এ অঞ্চলের মানুষ বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অপেক্ষা করছে আগামী ২১,২২ ও ২৩ তারিখের ইজতেমার। মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে এ ইজতেমায় অংশগ্রহণ করার আহবান জানানো হয়েছে।

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE