| |

কল্যাণরাষ্ট প্রতিষ্ঠায় জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চলছে হাতপাখার দাওয়াত উৎসব

প্রকাশিতঃ ২:১৫ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ৩১, ২০১৮

শহিদুল ইসলাম কবির: ইসলাম পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান। নামাজ কায়েম করা, রোজা রাখা, সামর্থবানদের জন্য হজ্জ পালন ও যাকাত যেমন মুসলমানদের আদায় করতে হবে ।

তেমনি আল্লাহর জমিনে কুরআন সুন্নাহর বিধান প্রতিষ্ঠার ম্যধ্যমে ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য একজন দ্বীনদার মুত্তাক্বী আমীর এর নেতৃত্বে চেষ্টা করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সাবেক আমীর মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহ. বলতেন আমি যেই কারনে নামাজ আদায় করি, রোজা রাখি, হজ্জ পালন করি, যাকাত আদায় করি, মাহফিল করি একই কারনে রাজনীতি করি। মিছিল মিটিং করি।

কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী তাঁর কথা হচ্ছে, আমার নামাজ, রোজা, হজ্জ পালন, যাকাত আদায়, মাহফিল করা, রাজনীতি করা, মিছিল, মিটিং করা, নির্বাচনে অংশগ্রহন করা সব কিছু মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর জন্য। রাজনীতিসহ সব কিছু আমি ইবাদাত মনে করে করি।

ইবাদাত হবে না এমন কাজ পীর সাহেব চরমোনাই করেননি। তিনি ব্যাক্তি স্বার্থকে পেছনে ফেলে ইসলামের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আজীবন নিজের জীবনকে পরিচালিত করেছেন।

ইসলামের স্বার্থ নিশ্চিত না করার কারনে বিএনপির আহবানে তৎকালীন সময়ে ৪ দলীয় জোটে অংশগ্রহন করা থেকে বিরত থেকেছেন।

বর্তমান সময়েও ইসলামের স্বার্থকে প্রাধান্য না দেয়ার কারনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কারো সাথে জোটবদ্ধ না হয়ে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

৩০০ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী ঘোষণায় শান্তিকামী মানুষ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে।

অবশ্য কোনো কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় সমালোচনা করতে ভুলেন নি। আশাকরি তারাও কোনো এক সময় বিষয়টি অনুধাবন করবেন। বর্তমান বাস্তবতায় ১৯৯৯ সনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোনো জোটবদ্ধ না হওয়াকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলছেন তেমনি ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়াকেও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলবেন ।

৩০০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার ফলে দেশব্যাপী এখন চলছে ইসলাম প্রতিষ্টায় জনগনকে সম্পৃক্ত করার দাওয়াতের উৎসব। যে সকল ইসলামী দল বিভিন্ন জোটবদ্ধ হয়েছেন তারা এমন উৎসবে শরীক হতে পারেন নি বলে এসকল ইসলামী দল সমূহের নেতা কর্মীদের মধ্যে একরকম হতাশা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর সকল স্তরের নেতা কর্মীরা টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত নিজেদের শরীরের ঘাম ফেলে নিজেদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করে ইবাদাত মনে করে দাওয়াতের এ উৎসবে শামিল হয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দাওয়াতের কার্যক্রম চলছে।

এমনই এক প্রেক্ষাপটে গতকাল ৩০ অক্টোবর এশার নামাজের পরে ৪ সংসদীয় এলাকার হাত পাখা প্রতিকের প্রার্থী ও পার্বত্য এলাকা খাগড়াছড়ির একজন দায়িত্বশীলের সাথে আলোচনায় আমাদের সকলের মনটা ভরে গেলো।

আমি শহিদুল ইসলাম কবির এর সাথে আলোচনায় ছিলেন, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও গার্মেন্টস শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থী মোঃ হারুন-অর-রশীদ, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী -২ আসনের প্রার্থী মাওলানা খলিলুর রহমান, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর এর সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাকা ১৬ আসনের প্রার্থী হাফেজ মাও.সিদ্দিকুর রহমান, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রার্থী মাও. ফখরুল ইসলাম এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের খাগড়াছড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামাল উদ্দীন মৃধা।

সকলে নিজেদের ব্যাতিক্রমী অভিজ্ঞতার বর্ণনা যেভাবে দিলেন তাতে আর বুঝার বাকি নেই কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যে একলা পথা চলছে তা কঠিন হলেও ভবিষ্যতে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

0Shares