| |

একজন বুজুর্গের বিনয়ী জবাব -“আমার দাম এ লুঙ্গির থেকেও কম”

প্রকাশিতঃ ৫:৩৩ অপরাহ্ণ | মার্চ ০৬, ২০১৮

মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ ॥ যুগের হাওয়ায় গা না ভাসানো এক বিপ্লবী পুরুষের নাম সৈয়দ মুহাম্মাদ ফজলুল করীম পীর সাহেব চরমোনাই রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যিনি হকের উচ্চরণে ছিলেন নির্ভিক। তাঁর ব্যাপারে নতুন করে কিছু বলার নেই। প্রাণের শায়খকে খুব কাছ থেকে দেখেছি বহুবার। কিন্তু তখন আমি ছাত্র। আমার ইফতার বছর হুজুর ইন্তেকাল করেন। দক্ষিণাঞ্চলের সফরে আমার বাবা হুজুরের সফরসঙ্গী থাকতেন। এটি হুজুরের শুরু জীবনের কথা। হুজুর আদর করে বাবাকে কুয়াকাটার দরবেশ বলে ডাকতেন। এটি বাবার প্রতি তাঁর নেক নজর। যদিও অন্য কারো থেকে এই ডাক বাবা পছন্দ করেন না। শুনেছি কোনো কোনো বুজুর্গদের মৃত্যুর পরও কারামত জাহির হয়। এমন এমন বুজুর্গ রয়েছেন, মৃত্যুর পর তাঁদের নাম স্মরণ হলে অনেকে কেঁদে ফেলেন। শায়খ রহমাতুল্লাহি আলাইহির ক্ষেত্রেও এমনটি দেখেছি। এটি হুজুরের কারামত কি না জানি না। তবে তাঁর নাম শুনে আমিও বহুবার কেঁদেছি এবং তা এখনো।

আমার বোখারীর ওস্তাদ আল্লামা শহীদুস সালাম কাসেমী হাফিজাহুল্লাহ আমার জানতে চাওয়া এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, আমি ১৮ বছর দেওবন্দে পড়েছি। এর মধ্যে একবারও বাড়ীতে আসিনি। দেওবন্দে থাকাকালীন সময়ে শুনেছি, বাংলাদেশে একজন পীর আছেন, যিনি জাহান্নামের ভয়ে নিজেও কাঁদেন এবং মুরীদানরাও কাঁদে। মুফতী আব্দুর রহমান রহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন, নারী নেতৃত্বে না গিয়ে দেওবন্দের উসূল ও মান ধরে রাখলেন সৈয়দ ফজলুল করীম রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন দীনি এদারা, জামিআতুল ইসলামিয়া জিরি মাদরাসার মহাপরিচালক, আল্লামা শাহ মুহাম্মাদ তৈয়্যব হাফিজাহুল্লাহ শায়খ রহমতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে একাধিকবার একটি ঘটনা বলেছেন আমার সাথে। বর্ণনাকালীন সময় হুজুরও হু হু করে কেঁদে ওঠেন। হুজুর বলেন- আমার দেখা একজন খাঁটি মানুষ ও ওলামায়ে কেরামের তাজ ছিলেন মরহুম পীর সাহেব। তিনি দেখিয়েছেন, খানকার এসলাহিয়তের পাশাপাশি নীতির উপর অটল থেকে কিভাবে সিয়াসাত করতে হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় তার কর্মপদ্ধতি ও মুজাহাদা মুসলিম মিল্লাতের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। হুজুর বলেন- একদিন তিনি (শায়খ রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমার এখানে আসলেন। আমরা একসাথে একটি মাহফিলে গেলাম। তিনি বয়ান শুরু করলেন। আলেম-শ্রোতা সবাই কাঁদলো। হুজুর যখন স্টেজ থেকে নামছিলেন, তখন এক আলেম রহস্য করে বলেছিলেন, হুজুর আপনার লুঙ্গিটি একটু বেশী কমদামি হয়ে গেলো না! হুজুর রহিমাহুল্লাহ জবাব দিলেন- ‘আমার দাম এ লুঙ্গির থেকেও কম’। প্রশ্নকারীর প্রশ্নে রহস্য থাকলেও হুজুরের জবাব ছিলো খুবই গুরুত্বসহকারে। তখন হুজুরের চেহারায় এমন একটি ছাপ দেখতে পেয়েছি, মনে হয় পৃথিবীর সব থেকে বিনয়ী মানুষ তিনি।

আহ! এরাই আমাদের আকাবীর। আমার আকাবীর। যিনি আছেন কোটি মানুষের হৃদয়ে। তিনি একজন সৈয়দ ফজলুল করীম রহিমাহুল্লাহ।

4281Shares