| |

ইসলামী যুব আন্দোলন : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির এক বছর

প্রকাশিতঃ ১০:২৭ অপরাহ্ণ | জুলাই ২৯, ২০১৭

হাসিবুর রহমান : বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির এক ব্যাতিক্রম ধারার প্রবর্তক এবং জনমনে যায়গা করে নেয়া ইসলামী রাজনৈতিক সংগঠন “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ- এর সহযোগী সংগঠন হিসেবে ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই সংগঠনের মুহতারাম আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) দা.বা. হযরতের ঘোষণার মাধ্যমে প্রথমে আত্মপ্রকাশ হয়েছে “ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ”- এর।

আত্মপ্রকাশের পর পরই একের পর এক চমক জাগানিয়া কার্যক্রম দেখিয়েছে সংগঠনটি। সবচেয়ে অবাক লেগেছে সারাদেশ ব্যাপী কমিটি গঠনের ধারাবাহিকতা এবং সংগঠনের তৃণমূল পর্যন্ত অভাবনীয় সাড়া পাওয়ার ব্যাপারটি। সর্বক্ষেত্রে ব্যাপক একটি সাড়া ফেলতে সক্ষম হয়েছিলো দলটি। এর পেছনে কিছু তরুণ নেতৃত্বের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রম ছিলো মূল ভূমিকায়। এর পরে সারা দেশে আহবায়ক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবার প্রায় আট মাসের মাথায় ৩১ মার্চ ঢাকার কাজি বশির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছিলো “জাতীয় যুব কনভেনশন” এবং এ কনভেনশনও কোন ইসলামী দলের সদ্য প্রতিষ্ঠিত কোন সহযোগী সংগঠনের ক্ষেত্রে ব্যাপক উপস্থিতি আর গ্রহণযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে বেশ আলোচিত ছিলো।

কনভেনশন থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হলো এবং সংগঠন তার কাজের ক্ষেত্রে আরো বেশি সাড়া ফেলতে সক্ষম হলো। সারাদেশে কমিটি গঠন হলো এবং কার্যক্রম বেশ বেগবান হলো। বর্তমানে ৬৪ জেলাসহ সর্বমোট ৭৯ সাংগঠনিক জেলায় এই সংগঠনের কার্যকরি পূর্ন কমিটি রয়েছে আলহামদুলিল্লাহ্।
সেই ধারাবাহিকতায় আজকে (শনিবার) “ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ- এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলন। কিছু তরুণ নেতাদের আন্তরিক নেতৃত্ব এবং ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানীতে আজ সংগঠনটি বেশ পরিচিত বাংলার আনাচে কানাচে। যুবকরা ব্যাপকহারে যোগ দিচ্ছে সংগঠনে। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের আর এক সহযোগী সংগঠন ইশা ছাত্র আন্দোলন সারা দেশে একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে পেরেছিলো এবং এখনও করছে! এ সংগঠন থেকে তৈরি কিছু কর্মী সমর্থকরা তাদের পরবর্তি ঠিকানা হিসেবে “যুব আন্দোলন”কে বেছে নিতে পারছে এটা সবচেয়ে বড় সফলতা। যে কারণে সংগঠনের জনশক্তির মধ্যে কোন সম্পৃক্ত গ্যাপ তৈরি হচ্ছে না। সব মিলিয়ে এ সংগঠনের সাংগঠনিক অর্জন বেশ ভালোই বলতে হবে এবং বিপুল প্রশংসার দাবি রাখে সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম।

কিন্তু সার্বজনীন অর্জনের ক্ষেত্রে এ সংগঠনের গ্রহণ যোগ্যতা কতটুকু এবং কার্যক্রম কতটুকু পরিচালিত হয়েছে সেটা আলোচনার দাবি রাখে অবশ্যই!!

আত্মসমালোচনামুলক সে কথাগুলোও এখানে লিখতে চাচ্ছি পয়েন্ট আকারে।

পয়েন্ট-১: ইসলামী যুব আন্দোলন নতুন কমিটি গঠনের পর থেকে সারা দেশে কতটুকু সার্বজনীন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তা দেখার দাবি রাখে, কারণ তেমন কোন ব্যাপক কার্যক্রম চোখে পড়েনি সর্বমহলের জন্য! ঐ নিজেদের মধ্যাকার কার্যক্রমেই সিমাবদ্ধ।

পয়েন্ট-২: যুব কনভেনশনের চেয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আরো ব্যাপকহারে হওয়াটাই সময়ের দাবি ছিলো, কারণ তখনকার আহবায়ক কমিটি দিয়ে যদি কনভেনশনের মত ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয় তাহলে পুর্নাঙ্গ কমিটি দিয়ে তারচে বেশি কিছু আশা করতেই পারে সবাই (বিশেষত এ ব্যাপারটা কয়েকজনে বলেছে)। যদিও কনভেনশটা সারাদেশব্যাপী বিস্তৃত হিসেবে ছিলো এবং প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলনটা কেবল ঢাকার আশেপাশের কয়েকটা জেলা নিয়ে করা হয়েছে।

পয়েন্ট-৩: যুব আন্দোলন ভিন্ন সমারোহে মাঠে নেমেছিলো সে হিসেবে তাদের কার্যক্রম ভিন্ন হবে বলেই আশা ছিলো সবার! এর আগেও “শ্রমিক আন্দোলন” “আইনজীবী পরিষদ” “আইম্যা মাশায়েখ পরিষদ” সহ আরো অনেক সহযোগী সংগঠন হয়েছে কিন্তু কমিটি গঠন, বার্ষিক সভা সমাবেশ এসব ছাড়া ব্যাপকহারে আলাদা কিছু ঐ সংগঠনগুলো করতে পারেনি! এমনকি তাদের আলাদা একটা ওয়েবসাইট বা সহজলভ্য কোন স্বরণিকাও নেই যেখান থেকে কোন সংগঠন কবে, কিভাবে, কোন উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সে খবরটা নেয়া যায়। যুব আন্দোলনও কিছুটা ঐ পথেই হাটছে!! এতে করে সংগঠন তার আবেদন হারাবে এবং যারা একবুক আশা এবং স্বপ্ন নিয়ে কোন স্বার্থ ছাড়া বিপ্লবের নেশায় সংগঠনে অন্তর্ভুক্ত হয় তারা হারিয়ে যাবে। এছাড়াও কিছু যুগোপযোগী কার্যক্রম হাতে নেয়ার বিকল্প নেই।

এমন আরো কিছু আত্মসমালোচনা নিজেদের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন যাতে করে সংগঠন চ্যালেঞ্জিংভাবে সামনে এগিয়ে যেতে পারে প্রবল বিক্রমে।

বিশিষ্ট অনলাইন এক্টিভেটিস

275Shares