| |

ইসলামী আন্দোলনের মহাসমাবেশ এবং কিছু কথা

প্রকাশিতঃ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৮, ২০১৮

২০১৬ সালের জাতীয় মহাসমাবেশে উপস্থিত ছিলাম। এবার দেশের বাইরে। তবে যা দেখলাম তাতে মনে হলো এবারের সমাবেশে আগের চেয়ে লোক সমাগম কয়েকগুণ বেশি হয়েছে। তার মানে দলটি গত দুই বছরে এগিয়েছে অবিশ্বাস্য গতিতে। আমার বিশ্লেষণে এই অগ্রগতিতে দু’টি বড়ো কারন কাজ করেছে।

এক. দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অপরাপর ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো জোট মহাজোটে দৌড়ঝাঁপ, কারনে অকারনে ভাঙ্গন, বিভিন্ন বিতর্কিত সিদ্ধান্তে সর্বসাধারণের আস্থা হারিয়ে ফেলায়, তুলনা মুলক নীতি আদর্শের ব্যাপারে অবিচল, রাজনীতিতে একক শক্তি অর্জনের প্রবক্তা হিসেবে ইসলামী আন্দোলনের প্রতি সাধারন মানুষের আস্থা বেড়েছে। সেই সাথে জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন হারিয়ে রাজনীতির মাঠে প্রকাশ্যে অনুপস্থিতিতে ধর্মপ্রাণ মানুষ একটা বিকল্প প্লাটফর্ম চাচ্ছিল। সঙ্গত কারনেই ঐ জায়গাটা সফলভাবে দখলে সক্ষম হয়েছে ইসলামী আন্দোলন।

দুই. গত দুই বছরে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারনে তৃণমুল পর্যায়ে দলটির শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। আজকের প্রেক্ষাপট তারই সুন্দর ফলাফল।

পুর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশঃ

মুহতরাম আমীর ও নায়েবে আমীর সহ সমাবেশের কয়েকজন গুরুত্বপুর্ণ বক্তার বক্তব্য শুনলাম। তাতে মনে হলো, দলটি নিছক ধর্মীয় সংগঠনের খোলস খুলে বেরিয়ে পড়েছে। যেখানে বাংলাদেশের প্রায় সব ইসলামী দলকে রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞায় ফেলেন না বিশ্লেষকরা। কারন দলগুলো ধর্মীয় ইস্যু ছাড়া অন্য কোনো ইস্যু নিয়ে সরব হতে দেখা যায়নি কখনো। অথচ রাজনৈতিক দলকে জনগনের সুখ দুখ, দেশ, সমাজ নিয়ে প্রথমেই ভাবতে হয়। যেহেতু মানুষ বাঁচলেই তো তাদের উপর ইসলাম কায়েমের প্রশ্ন আসে। সেহেতু শুধু ধর্মীয় ইস্যু নিয়ে সরগরম থাকার ফলে ইসলামী দল গুলো মুলত ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে রয়ে যায়। সেখানে এই সমাবেশের মাধ্যমে দলটি পুরোনো খোলস থেকে বেরিয়ে পুর্নাঙ্গ রাজনৈতিক দল এবং দক্ষতার পরিচয় দিলেন নিঃসন্দেহে।

যে বক্তার বক্তব্য আমাকে খুব বেশি অবাক করেছে, তা হলো নায়েবে আমীর সাহেবের সংক্ষিপ্ত অথচ পুর্নাঙ্গ ভাষণ। তিনি সব বিষয়ে টাচ করেছেন। প্রত্যেকটা বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু পরিপুর্ণ, যৌক্তিক আলোচনা করেছেন। দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, দিয়েছেন নির্দেশনা। হুংকারে যোনো মনে হচ্ছিল সাত-ই মার্চ। কর্মীদের আন্দোলিত করেছেন। আগামী নির্বাচনের আগে হযরতের এ ধরনের একটা বক্তব্য খুবি প্রয়োজন ছিলো। সময়ানুযায়ী তা পেয়ে ও গেলো কর্মীরা।

শৃংখলাঃ

ইসলামী আন্দোলনের প্রোগ্রামগুলো সবসময় সুশৃঙ্খল হয়। নিজস্ব কর্মীবাহিনী সব সময় চারপাশে নজর রাখে। কোথাও কোনো ধরনের সমস্যার কথা শুনা যায়না। থাকেনা স্টেইজে উঠার প্রতিযোগিতা। কর্মীরা যেখানে সম্ভব বসে পড়েন। গতকাল একটা বিষয়ে অবাক হলাম, ইসলামী আন্দোলনের সিলেট সিটির মেয়র প্রার্থী জনাব ডা. মোয়াজ্জেম সাহেবের মতো মানুষ মাঠের বাইরে মৎস্য ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য শুনছেন। এরকম নির্মোহ হাজারো নেতা কর্মীবাহিনীর জন্য শিক্ষনীয় হয়ে উঠে। সুতরাং কর্মীদর কোনো অভিযোগ থাকেনা।

সর্বশেষ, অভিনন্দন জানাই একটি সফল আয়োজনের জন্য। আশা করি এভাবেই সামনে এগিয়ে যাবে একটি বিপ্লবী কাফেলা। পথে পথে অভ্যর্থনা জানাবে সংগ্রামী জনতা। যার শেষ মঞ্জিল হবে জাতীয় সংসদে কুরআন, গণভবনে কালিমার পতাকা, বঙ্গভবনে আমীরুল মুমিনীন। সর্বোপরি ইসলামের চুড়ান্ত বিজয়। আল্লাহ সহায়। আমীন।

 

মাওলানা ইয়াসিন আমিনী

কাতার প্রবাসী

1245Shares