| |

আসন্ন নির্বাচন : নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ

প্রকাশিতঃ ৭:৫৪ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ২৯, ২০১৮

রায়হান মুহাম্মাদ ইবরাহীম : দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি এখন মোটাদাগে তিন ভাগে বিভক্ত। একভাগের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং তাদের মহাজোট। আরেকভাগের নেতৃত্ব দিচ্ছে সম্প্রতি গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এখানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আছে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী প্রায় সব দল। এককভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃত্বে আছে আরেকটি ভাগ।  যারা একই সাথে বর্তমান সরকারের দুঃশাসনবিরোধী; আবার অতীতের পরীক্ষিত ব্যর্থ সরকারের প্রত্যাবর্তনেরও বিরোধী। শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং তারা চায় রাজনীতির গুণগত ও আদর্শিক পরিবর্তন।

তবে বাস্তবতা হল, দেশের অধিকাংশ মানুষ ক্ষমতার রাজনীতিতে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তৃতীয় কোনো শক্তিকে ভাবতে পারে না; ইসলামপন্থীদেরকে তো নয়ই। এই ভাবতে না পারার পেছনে আমরা শুধু জনগণকে দায়ী করতে পারি না।  এজন্য সম্ভাবনাময়ী ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলোও সমানভাবে দায়ী। নিজেদের শক্তি ও সামর্থ্য সম্পর্কে অসচেতন এই দলগুলো জোট-মহাজোটের কাছে নিজেদের স্বকীয়তা বিলিয়ে দিয়ে তাদের নিয়ে ভাবার কোনো সুযোগই তারা জনগণকে এতদিন দেননি।

খুব বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই, নব্বই দশকের ইসলামী এক্যজোট নিয়েই ভাবুন। সেই জোটটি যদি এখন স্বমহিমায় টিকে থাকতো, তাহলে জনগণকে এত হতাশ হতে হতো না।  এতদিনে তারা নিশ্চয়ই একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি খুঁজে পেত।

এক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হবে। কারণ তারা নানা লাঞ্ছনা-গঞ্জনা ও অপবাদ সয়েও ‘একলা চলো’ নীতি অবলম্বন করে বিরামহীন সাধনার মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা একেবারেই নষ্ট হতে দেয়নি। ক্ষীণ হলেও বিকল্প শক্তি হওয়ার একটি আশা জনমনে জাগিয়ে তুলেছে। এখন পরিবর্তনকামী জনগণের কর্তব্য হবে তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো।

একটা সময় ছিলো যখন ইসলামপন্থীরা বিএনপিকে ‘মন্দের ভালো’ বলে তাদেরকে সমর্থন করতো।  কিন্তু বিএনপি আলেম-ওলামাদের বিশ্বাসের সে জায়গাটা ধরে রাখতে পারেনি।  আর এখন তো মনে হয় বিএনপির ‘কেবলা’ পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। যে আওয়ামী লীগকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ তকমার কারণে ইসলামপন্থীদের সমর্থন হারাতে হয়েছে, এককালের সেই আওয়ামী মুসলিম লীগকে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ বানানোর মূল কুশিলবরাই এখন বিএনপির ‘ত্রাণকর্তা’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। সুতরাং আওয়ামী লীগ-বিএনপি যে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, এই বাস্তবতাটা বুঝতে ইসলামপন্থীদের আর কত সময় লাগবে!

অপরদিকে কিছু ভালো কাজ দেখেই ইসলামপন্থীদের আওয়ামী লীগে আস্থা রাখাও হবে আত্মঘাতী।  ওসব ভালোকাজকে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ‘রাজনৈতিক কৌশল’ মনে করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচন ইসলামপন্থীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি হতাশাবাদীদের দলে নই।  প্রচণ্ড আশাবাদী। তবে এটা বলছি না যে, এবারই ইসলামপন্থীরা আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিকল্প শক্তি হিসেবে ক্ষমতায় চলে যাবে। (অবশ্য আল্লাহর মর্জি হলে ভিন্ন কথা) কিন্তু শতভাগ আত্মবিশ্বাস নিয়ে যে কথাটি বলতে চাই, সেটি হলো- ইসলামপন্থীরা চাইলে এ নির্বাচনেই ‘ব্যালেন্স অব পাওয়ার’ এর অধিকারী হতে পারে। তাদের সমর্থন ছাড়া কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। এমন পরিস্থিতি যদি আসলেই হয়, তখন সমর্থনের সাথে কিছু শর্তও জুড়ে দেওয়া যাবে।

সর্বোচ্চ ১০০ আসনের টার্গেট পূরণ করতে পারলেই এটা সম্ভব। অতীত ইতিহাসের আলোকে ৫০/৬০ বা ২০/৩০টা আসনেও এটা সম্ভব হতে পারে। কারণ মোটামুটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও আওয়ামী-জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। বিএনপি-জোটেরও তেমন সম্ভাবনা নেই। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে পারে ইসলামপন্থীরা। ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে উম্মাহর বৃহত্তর কল্যাণচিন্তা মাথায় রাখলেই কেবল এমন প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

দিনশেষে এমন কিছুই যদি নাও ঘটে, তবুও নিজেদের যে বিশাল ভোটব্যাংক তৈরি হবে, সেটিই বস্তুবাদী রাজনীতিকদের স্বস্তি নস্যাত করার জন্য যথেষ্ট হবে।  এদেশের আলেম-ওলামা আর ধর্মপ্রাণ মানুষগুলোর সমর্থন কেউ আর সহজলভ্য মনে করতে পারবে না।  এদেশে রাজনীতি করতে হলে ইসলামপন্থীদেরকে সমীহ করেই করতে হবে।

এমন দিনের প্রত্যাশা করা কি দূরাশা!

 

সহ-সভাপতিঃ বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরাম

 

0Shares