| |

আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত শুধুমাত্র কৌশলাবলম্বন ও যোগ্যতা দিয়ে ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা সম্ভব না: মুফতী ফয়জুল করীম

প্রকাশিতঃ ৭:৪২ অপরাহ্ণ | ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতিতে ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন’ এমন একটি সহিহ্ ধারার ছাত্র সংগঠন, যে সংগঠনটিই একমাত্র এদেশের তৃধারার ছাত্রদের সমন্বয় সাধন করে সর্বত্র কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত (৭ই ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হয় ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের নগর সম্মেলন ২০১৮। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম দা. বা. (শায়েখে চরমোনাই)। সম্মেলনে উপস্থিত ছাত্র জনতাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘ইসলাম ও নবীর আদর্শকে বাদ দিয়ে কৌশলাবলম্বন ও নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে ইসলামি হুকুমত কখনই আসবে না। খবরদার! তোমরা নিজেদের যোগ্যতাকে সফলতার জন্য যথেষ্ট মনে করবে না, বরং যোগ্যতাকে আল্লাহর রহমতের পাত্র মনে করবে। পাত্র ব্যতীত যেমন বৃষ্টি ধারণ করা যায় না তেমনি যোগ্যতা ব্যতীত আল্লাহর রহমত আশা করা যায় না। আমরা যোগ্যতা অর্জন করি আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি ধারণ করার জন্যে, কিন্তু শুধু যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করেই আমরা কোনো দিন ইসলামি হুকুমত কায়েম করতে পারবো না। যোগ্যতা হচ্ছে পাত্র, আর যোগ্যতার পাশাপাশি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করতে পারলে বিজয় আসবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি এমন আরো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোকপাত করেছেন যা বিপ্লবের পথচলায় ইশা ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের সার্বক্ষণিক রাহনুমায়ী করবে। বিজ্ঞানীরা বস্তুকে দামী বানায়। যেমন মোবাইল ফোন এর কাঁচামাল (মাটি ও তামা) ওজন করে বিক্রি করলে হয়তো একশত টাকাও বিক্রি করা যাবে না। এ উপকরণগুলোর তেমন মূল্য নেই। কিন্তু এতে মানুষের হাত লাগার কারণে এটা দামী হয়েছে। মানুষ দামী হওয়ার কারণে যে জিনিসে মানুষ হাত দেয় তা দামী হয়ে যায়। রাসূল সা. এর কাজ হলো এ মানুষকে দামী বানানো। তাঁর সুহবতে আসলে এ মানুষগুলো দামী হয়ে যায়। উমর রা. একদিন মরুভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, ওমর! তুমি এ মরুভূমিতে উটের রাখাল ছিলে, অখ্যাত এক ব্যক্তি ছিলে, নবী মুহাম্মদ সা. এর সুহবতে আসার কারণে তুমি দামী হয়েছো, খলিফাতুল মুসলেমীন হয়েছো। নবী মুহাম্মদ সা. এর সুহবতে আসার কারণে তুমি এতো দামী হয়েছো যে, জমিনে ভূমিকম্প হলে সে জমিনে তুই পা রাখলে কম্পন থেমে যায়। ওমর! তোর চিঠির কারণে নীল নদে জোয়ার সৃষ্টি হয়। রাসূল সা. এর সুহবতের কারণে বেলাল (রা) যিনি নিজেও গোলাম, বাবাও গোলাম, এতো দামী হলেন যে, আসমানে তাঁর পায়ের আওয়াজ শোনা গেল। খলিফাতুল মুসলেমীন তাকে ‘আমাদের নেতা’ বলে সম্বোধন করতেন। আজকের এ যুগেও যদি ছাত্র ও যুব সমাজ রাসূল সা. এর আদর্শ গ্রহণ করে তাহলে মুসলমানদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। রাসূল সা. এর আদর্শ বাদ দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কালজয়ী আদর্শ ইসলাম ‘নেতৃত্ব-প্রতিভাকে’ বিকশিত করে। ইসলাম চাপাপড়া যোগ্যতাকে তুলে ধরে এবং অভ্যন্তরীণ যোগ্যতাকে উদ্ভাসিত করে। অতএব, ছাত্র সমাজের নেতৃত্ব-প্রতিভা বিকশিত করতে ইসলামী রাজনীতির চর্চা করতে হবে। এবং তা হতে হবে, সাহাবায়ে কেরামের অনসরণে। সাহাবায়ে কেরাম (রা) ব্যক্তি জীবনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদেরকেও সেপথ অনুসরণ করতে হবে।

392Shares