| |

আরাকানে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ করতে হবে: পীর সাহেব চরমোনাই

প্রকাশিতঃ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ১৮, ২০১৭

যশোর : আরাকানের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মু. রেজাউল করীম- পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি বলেন, শতশত বছরের ঐতিহ্য সমৃদ্ধ আরাকানের রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও রাখাইন বৌদ্ধদের নির্যাতনে আজ নিজ দেশ ছেড়ে আমাদের দেশে অবস্থান করছে। তাদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে তা যেকোনো প্রাচীন অন্ধকারাচ্ছন্ন যুগকেও হার মানিয়েছে।

শুক্রবার (১৭ নভেম্বর’১৭) যশোর ঈদগাহ ময়দানে ইসলামী আন্দোলন যশোর জেলা শাখার জনসভায় প্রধান অতিথির ব্ক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, চলমান রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সব সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজন হলে জাতিসংঘকে আরাকানের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ করতে হবে। বাংলাদেশে অবস্থানরত ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে জাতিসংঘের কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে স্বদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিও জানান তিনি।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের খুনি সেনাপ্রধানের পক্ষে একের পর এক সাফাই গেয়ে চলেছে শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সূচি। নোবেলপ্রাপ্ত এই নরখাদকের নোবেল বহাল তবিয়তে রাখায় নোবেলের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই অতি দ্রুত তার নোবেলকে প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আধুনিক রাষ্ট্রের মৌলিকতা। একটা রায় নিয়ে আদালতের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা কেবল ইউরোপীয় অন্ধকার যুগেই চিন্তা করা যায়। ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে জনপ্রত্যাখ্যাত জনপ্রতিনিধি দ্বারা সংসদ গঠিত হয়েছে। সেখানে আইন তৈরি হয় না; বরং নিজ স্বার্থে উচ্চ নেতৃত্বের তৈলমর্দন হয়। কোথাও বিরুদ্ধে কিছু বললে বা লিখলেই মামলা হয়। তাই দেশ ও জনগণের স্বার্থে আগামী নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু ও নির্ভেজাল। যাতে জনগণ তাদের প্রকৃত রায় দিতে পারে।

তিনি আরো বলেন, সব দলকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সুযোগ না দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো সকল রাজনৈতিক দলকে সাংগঠনিক কাজে সমান সুযোগ দেয়া। সরকার নির্বাচনে নিরপেক্ষতার স্বাক্ষর না রাখতে পারলে নির্বাচন কমিশনকে চরম খেসারত দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন দেওয়ার সাহস না থাকলে নির্বাচনের নামে জাতির সাথে তামাশা করার কোনো মানে হয় না। দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচনের নামে প্রহসন করার এখতিয়ার কারও নেই।

শাখা সভাপতি মিয়া আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা রফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুস হালিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা শুয়াইব হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা মফিজুল আলম খোকা, এইচ.এম মহাসিন, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ জেলা শাখার আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবু নাসের, ইসলামী যুব আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি মুফতি আবু জের বিন হাফিজ, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি খাইরুল বাশার প্রমুখ।

 

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE