| |

আজ থেকে শুরু হওয়া চরমোনাইর মাহফিলে নির্বাচনের চুড়ান্ত প্রস্তুতি

প্রকাশিতঃ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ | নভেম্বর ২৬, ২০১৮

একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ধর্মভিত্তিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনায় শীর্ষে আছে পীর সাহেব চরমোনাই নিয়ন্ত্রণাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া এ দলটি এরই মধ্যে ৩০০ আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

দলটির সূতিকাগার বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইয়ে আজ (সোমবার) থেকে শুরু হওয়া তিন দিনের মাহফিলে নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।

মাহফিলে প্রকাশ্যে ধর্মীয় আলোচনা হলেও অপ্রকাশ্যে থাকবে নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম। ৩০০ প্রার্থীসহ দলের সর্বোচ্চ ফোরামের নেতারা শেষবারের মতো একত্রে মিলিত হয়ে নির্বাচনী কৌশল প্রণয়ন করবেন। এর আগে গতকাল রোববারের মধ্যে সংশ্নিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম দাখিল সম্পন্ন করবেন দল মনোনীত ৩০০ আসনের প্রার্থীরা। ইসলামী আন্দোলনের একাধিক স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তবে তারা বার্ষিক মাহফিল ও জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি এক করে দেখছেন না বলে দাবি করেছেন।

দলটির নেতারা বলেন, প্রতিবছর অগ্রহায়ণ ও ফাল্গুন মাসে অনুষ্ঠিত দুটি মাহফিল ইসলামী আন্দোলন এবং অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, অনুসারী ও সমর্থকদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। এ দুটি মাহফিলে দলের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেহেতু সংসদ নির্বাচনের ৩৪ দিন আগে অগ্রহায়ণ মাসের মাহফিল হচ্ছে, তাই স্বাভাবিকভাবে সেখানে নির্বাচনের বিষয়টিই অধিক গুরুত্ব পাবে। তবে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলার স্বার্থে মাহফিলে নির্বাচন-সংশ্নিষ্ট প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম চলবে না। বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অনুমতিতে এ শর্ত থাকায় মাহফিলের গতানুগাতিক নিয়মেও আনা হয়েছে অনেক পরিবর্তন।

দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৩০০ আসনের সব প্রার্থীকে মাহফিলে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী ছাড়াও দলের সর্বোচ্চ ফোরামের একাধিক ঘরোয়া বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল পেতে  কৌশল ও দিকনির্দেশনা ঠিক করা হবে এসব সভায়।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ মাওলানা মো. ইউনুস বলেন, ২৬ নভেম্বর মাহফিল শুরু হয়ে শেষ হবে ২৯ নভেম্বর। অপরদিকে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম দাখিলের সর্বশেষ সময় ২৮ নভেম্বর। তাই সব প্রার্থীকে আজকের মধ্যে মনোনয়ন ফরম দাখিল করতে মাহফিলে অংশ নিতে বলা হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চরমোনাই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী মাহফিলে ধর্মীয় আলোচনার বাইরে অন্য কোনো আলোচনা করা যাবে না। তাই রেওয়াজ অনুযায়ী এবার মাহফিলের দ্বিতীয় দিন ওলামা-মাশায়েখ মহাসমাবেশ এবং তৃতীয় দিন ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশ বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ভারত, পাকিস্তান, ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অন্তত ৫০ জন ইসলামী চিন্তাবিদের মাহফিলে অংশগ্রহণ বাতিল করা হয়েছে।

আগামীকাল জোহরের নামাজের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও আমীরুল মুজাহিদীন হযরত পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম উদ্বোধনী বয়ান করে তিন দিনব্যাপী মাহফিলের সূচনা করবেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে মাহফিল শেষ হবে।

2159Shares