| |

আগামী নির্বাচনে হাতপাখা বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে: মুফতি ফয়জুল করীম

প্রকাশিতঃ ৬:০২ অপরাহ্ণ | অক্টোবর ০৫, ২০১৮

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে গণমানুষই ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছিল। কিন্তু আজকের আওয়ামী লীগ সেই ভোটের অধিকার রক্ষা করতে পারেনি। এ কারণে তাদেরকে আগামীতে জন মানুষ মিলে মিশে উৎখাত করবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সিইসি একজন রোবট, তাকে যা শিখিয়ে দেয়া হয় তাই করে। এই রোবটকে মানুষ আর দেখতে চায় না। জনগণ নিরপেক্ষ নির্দলীয় ইসি চায়।

ইভিএমকে তিনি আওয়ামী লীগের বিজয়ী করার মেশিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ইভিএম কেনার জন্য ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। এগুলো জনগণের টাকা। জনগণ তাদের টাকার হিসাব একদিন পাই পাই নেবে।

বিএনপির সমালোচনা করে মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, বিএনপির নেতারা গত সমাবেশে বলেছে, আমরা প্রয়োজনে শয়তানের সঙ্গেও জোট করতে চাই। আপনারা শয়তানের সঙ্গে জোট করতে চান কি শয়তানি করার জন্য?

আপনাদের আমরা দুইবার ক্ষমতায় এনেছিলাম ভোট দিয়ে। কিন্তু আপনারা দুর্নীতি ছাড়া দেশকে কিছুই দিতে পারেন নাই।

আজ (৫ অক্টোবর) বাদ জুমা ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত মহাসমাবেশের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ভারতের একজন মন্ত্রী বাংলাদেশ দখলের হুমকি দিয়েছে। অথচ সরকার কিছুই বলছে না। অথচ অন্য কোনো দেশের কেউ এমন কথা বললে তারা ঝাপিয়ে পড়তো তার বিরুদ্ধে বিচারের জন্য। ভারত বলেই সরকার তাদের কিছু বলছে না। কারণটা সবার জানা।

তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ আর এমন দুর্নীতির খেলা দেখতে চায় না। এদেশের মানুষ এখন হাতপাখায় সমবেত হয়েছে। ইসলামকে বিজয়ী করে তারা শান্তিতে থাকতে চায়।

তিনি তার বক্তৃতায় অতীতে সরকারের দুর্নীতি, খুন ও গুমের ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে আমাদের ভাইকে রাতের আধারে গুলি করে হাজারও ছাত্রকে মেরেছে। আমরা তাদের বিচার চাই।

তিনি বলেন, এ রক্তের দাগ কখনো মুছবে না। এর বিচার না হলে এ সরকার জনরোষে পতিত হবে। আল্লাহ তাদের বিচার করবেন ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ভারত আমাদের কাছে যা চাচ্ছে সবই দিয়ে দেয়া হচ্ছে। দেশকে ভারতের কাছে তারা বিক্রি করতে চায়। কিন্তু আমরা বাংলাদেশকে, বাংলাদেশের ইসলামী তাহজিব তামাদ্দুনকে বিক্রি হতে দেবো না।

তিনি বলেন, ভারতের একজন মন্ত্রী বাংলাদেশ দখল করার হুমকি দিয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিচ্ছি, তোমরা যদি বাংলাদেশ দখল করতে চাও তবে আমরা লংমার্চ করে দিল্লি দখল করবো।

আল মাদানী আরও বলেন, আগামীতে ফের যদি ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হয় তাহলে আমরা জীবন দিয়ে তা প্রতিহত করবো ইনশাআল্লাহ।

সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে প্রেসিডিয়াম সদস্য আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী বলেন, আমরা আজ প্রমাণ করতে চাই, সব মার্কা দেখা শেষ হাতপাখার বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আর দেরি নয়, আমাদের শ্রম ও ঘাম দিয়ে ইসলামকে বিজয়ী করতে আমীরের নির্দেশে ঝাপিয়ে পড়তে হবে।

ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, আমাদের দেশের আয়ের অন্যতম উৎস পোশাক শ্রমিকরা। কিন্তু তাদের বেতন এতটাই কম যা উল্লেখ করার মতো নয়।

তিনি বলেন, পোশাক শ্রমিকদের সর্বনিম্ন বেতন ১৬ হাজার টাকা করতে হবে। কৃষকরা আজ সঠিক দাম পাচ্ছে না। তাদের শোষণ করে খাচ্ছে একটি চক্র। এ চক্র না ভাঙতে পারলে আগামীতে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাকী ও মাওলানা নেছার উদ্দীনের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত রয়েছেন, দলের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মুসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, আল্লামা নূরুল হুদা ফয়েজী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুস আহমদ, সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ এটিএম হেমায়েদ উদ্দীন, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা আবদুল কাদের, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর সভাপতি মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, ঢাকা উত্তর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ প্রমুখ।

 

আওয়ার ইসলাম

6934Shares