| |

আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে চরমোনাইর বার্ষিক মাহফিল সমাপ্ত

প্রকাশিতঃ ৪:০৪ অপরাহ্ণ | নভেম্বর ২৯, ২০১৭

বরিশাল : বুধবার (২৯ নভেম্বর’১৭ ইং) সকাল ৮.৩০ মিনিটে আমীরুল মুজাহিদীন আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতী সৈয়দ মোঃ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)-এর পরিচালনায় আখেরী মুনাজাতের মধ্যদিয়ে তিন দিন ব্যাপী অগ্রহায়ণের বাৎসরিক মাহফিল শেষ হয়েছে। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আগত লক্ষ লক্ষ মুসুল্লিদের সমগমের মধ্য দিয়ে আখেরী মোনাজাত সমাপ্ত হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর বহিবিশ্বের অসংখ্য লোক চরমোনাই ময়দানে জড়ো হয়েছেন। এছাড়াও অধিকাংশ নতুন লোক এই তরীকায় তথা চিশতিয়া সাবরিয়া তরীকায় বয়াত গ্রহণ করেছেন এবং পীর সাহেব তরীকার নিয়ম নীতি মুরিদানদের বাতলে দেন। যারা আল্লাহ ও রাসুল সা.-এর নীতি অনুসরণ করে না তরা কেয়ামতের দিনে নবীজীর সুপারিশ পাবে না। যারা বয়াত গ্রহণ করবেন তারা তরীকার কাজ ঔষধ ও ছবক ঠিক মতো আদায় করবেন।

মুরীদানদের প্রতি আখেরী নসীহত হিসেবে তিনি বলেন, আমরা সকলে কবর পথের যাত্রী। যার ভিতরে তাকাব্বরী থাকবে সে বেহেশতের ঘ্রানও পাবে না। হিংসা, অহংকার, গীবত, মিথ্যা, সুদ, ঘুষসহ সকল গুণাহের কাজ দূর করতে হবে। হারাম মালের দ্বারা যে রক্ত ও শরীর তৈরী হবে তার স্থান হবে জাহান্নাম। কবর আযাব ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত নামাজ আদায় করা ও তরীকার পাঁচ ঔষধ (সকাল-সন্ধ্যা জিকির, সাপ্তাহিক তালীম ও হালকায় জিকির, মাসিক ইজতেমা ও তালীমে উপস্থিত হওয়া, আউলিয়াদের কিতাব পাঠ করা ও চরমোনাইর বাৎসরিক মাহফিলে উপস্থিত হওয়া) পালনসহ শরীয়তের যাবতীয় হুকুম আহকাম মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, পরিপূণ্য ও সহী শুদ্ধভাবে নামাজের জন্য কেরাত শিক্ষা করা ফরজ। যারা আত্মাকে পবিত্র করবে তারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে। পীর সাহেব ইমানের উপরে পরিপূর্ণভাবে মজবুত থাকার জন্য নির্দেশ দেন। আল্লাহ পাকের জিকির অধিক করলে কলবের ময়লা দূর হয়। কলব পরিষ্কার হওয়ার একমাত্র পথ জিকির। সুবিধাবাদী নামধারী মুসলমানরাই ইসলাম, মুসলমান, আল্লাহর রাসুল (সা.), কুরআন-হাদীস, মসজিদ-মাদরাসা, দাড়ি-টুপি সহ ইসলামী পোষাক পরিচ্ছদের দুশমন।

পীর সাহেব সকল মুসুল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা চরমোনাই এসেছেন তারা সকল নির্দেশ মেনে চলবেন, অন্যথায় চরমোনাই আসার দরকার নাই। আমরা পীর-মুরিদীর ব্যবসা করি না। যারা এখনো অনৈসলামিক দল করে তারা চরমোনাই’র মুরিদ নয়। আখেরী মোনাজাতে পীর সাহেব বিশ্বের মুসলিম উম্মহর জন্য দোয়া করেন এবং বাংলার জমিনে ইসলামী হুকমত কায়েমের জন্য সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

আখেরী মুনাজাতে আংশ নিতে গোটা এলাকাজুরে নদীর আশেপাশে বিস্তির্ণ এলাকা বাগান বাড়ির আঙ্গীনাসহ কোনো স্থানেই তিল পরিমাণ ঠাই ছিল না। মাহফিলে আগত ২ মুসুল্লির সাভাবিক মৃত্যু হয়। তাদেরকে জানাজা শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE